বন্দে ভারতের যে যাত্রা ২০১৮ সালে মাত্র দুটি ট্রেনসেট দিয়ে শুরু হয়েছিল, তা এখন তার ১০০তম ট্রেনসেট তৈরির মাইলফলক স্পর্শ করার দ্বারপ্রান্তে যা ভারতের রেলবহর আধুনিকীকরণের প্রচেষ্টায় এক উল্লেখযোগ্য অগ্রগতির নিদর্শন।
রায়বেরেলির 'মডার্ন কোচ ফ্যাক্টরি' (MCF) বন্দে ভারত ট্রেনসেট নির্মাতাদের তালিকায় নিজেদের নাম যুক্ত করল।
তারা তাদের প্রথম ১৬-বগির বন্দে ভারত চেয়ার কার রেকটি উন্মোচন করেছে, যা অত্যাধুনিক সিমেন্স প্রপালশন সিস্টেমে সজ্জিত।
নিয়মিত যাত্রী পরিষেবায় যুক্ত হওয়ার আগে, ট্রেনটি 'অসিলেশন ট্রায়াল' বা দোলন পরীক্ষার মধ্য দিয়ে যাবে। এই পরীক্ষার মাধ্যমে ট্রেনের যাত্রার গুণমান, নিরাপত্তার মাপকাঠি এবং গতিশীল কার্যকারিতা যাচাই করা হবে।
বন্দে ভারত ব্র্যান্ডের মূল নীতি গতি, দক্ষতা এবং যাত্রীদের স্বাচ্ছন্দ্য অক্ষুণ্ণ রাখার পাশাপাশি, MCF-নির্মিত এই ট্রেনসেটটিতে উল্লেখযোগ্য প্রকৌশলগত ও কার্যকারিতা বিষয়ক উন্নতি ঘটান হয়েছে, যার মূল লক্ষ্য হল ট্রেনের নির্ভরযোগ্যতা ও নিরাপত্তা বৃদ্ধি করা।
এই ট্রেনসেটটি উচ্চ-ক্ষমতাসম্পন্ন ভ্রমণের ক্ষেত্রে বন্দে ভারতের ঐতিহ্যকে আরও এগিয়ে নিয়ে যায় এবং স্বাচ্ছন্দ্য ও নিরাপত্তার প্রতিষ্ঠিত মানদণ্ডগুলোকে এতে একীভূত করে। এতে রয়েছে আরামদায়ক বসার ব্যবস্থা, ঝাঁকুনিহীন ভ্রমণ অভিজ্ঞতা, সম্পূর্ণভাবে সিল করা গ্যাংওয়ে এবং শব্দদূষণ কমাতে স্বয়ংক্রিয় 'প্লাগ ডোর'-এর ব্যবস্থা। এছাড়া ট্রেনটি সম্পূর্ণ দেশীয় প্রযুক্তিতে তৈরি "কবচ" (Kavach) নামক স্বয়ংক্রিয় ট্রেন সুরক্ষা ব্যবস্থা, অ্যারোসল-ভিত্তিক নির্বাপণ ব্যবস্থা-সহ উন্নত অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা এবং ট্রেনের নিচের অংশে থাকা যন্ত্রপাতির সুরক্ষার জন্য বন্যা-প্রতিরোধক ব্যবস্থায় সজ্জিত।
'ভ্যাকুয়াম ইনফিউশন টেকনোলজি' ব্যবহারের ফলে ট্রেনের অভ্যন্তরীণ সজ্জায় এক অসাধারণ ও উচ্চমানের ফিনিশিং নিশ্চিত করা সম্ভব হয়েছে। ট্রেনটি সম্পূর্ণভাবে 'দিব্যাঙ্গজন' (প্রতিবন্ধী যাত্রী)-বান্ধব; এতে সকলের জন্য সহজগম্যতা নিশ্চিত করতে বিশেষ র্যাম্প, নির্দিষ্ট স্থান এবং বিশেষায়িত সুযোগ-সুবিধার ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।
MCF রায়বেরেলি থেকে বন্দে ভারত বহরে যুক্ত হওয়া এই নতুন সংযোজনটি ভারতের উচ্চ গতিসম্পন্ন, নিরাপদ এবং আরামদায়ক রেল পরিবহনের ভবিষ্যতের দিকে অগ্রযাত্রারই প্রতীক। এর সম্পূর্ণ দেশীয় নকশা, উন্নত বৈশিষ্ট্যসমূহ এবং যাত্রীদের অভিজ্ঞতার ওপর বিশেষ গুরুত্ব প্রদান ভারতীয় রেলের উদ্ভাবন, সর্বজনীনতা এবং বিশ্বমানের উৎপাদন মানদণ্ডের প্রতি তাদের অঙ্গীকারকেই পুনরায় সুদৃঢ় করে।

