চিরঞ্জী, যা মিষ্টি, হালুয়া এবং শুকনো ফলের স্বাদ বাড়ায়, তা কেবল একটি সুস্বাদু বাদামই নয়, স্বাস্থ্যের জন্যও অত্যন্ত উপকারী বলে বিবেচিত হয়। এর বহুবিধ ঔষধি গুণের কারণে আয়ুর্বেদে এটি অত্যন্ত সমাদৃত। ত্বককে সুস্থ রাখা থেকে শুরু করে হজমের সমস্যা দূর করা পর্যন্ত, চিরঞ্জী বহু ঘরোয়া ও আয়ুর্বেদিক প্রতিকারে ব্যবহৃত হয়।
বলছেন আয়ুর্বেদিক বিশেষজ্ঞ দীক্ষা ভাভসর।
বিহার সরকারের পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন বিভাগ চিরঞ্জী গাছ এবং এর উপকারিতা সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধি করছে। বিভাগটি জনগণকে এই গাছটি শনাক্ত করতে, সংরক্ষণ করতে এবং এর গুরুত্ব বুঝতে আহ্বান জানাচ্ছে। চিরঞ্জী গাছ একটি মাঝারি আকারের পর্ণমোচী বৃক্ষ, যা ১৫ মিটার পর্যন্ত লম্বা হয়। এর ছাল গাঢ় ধূসর রঙের, যা দেখতে কুমিরের চামড়ার মতো। ছালের নিচের দিকটি লাল হওয়ায় এটিকে সহজেই চেনা যায়।
চিরঞ্জী বীজ, যার স্বাদ অনেকটা বাদামের মতো, একটি জনপ্রিয় শুকনো ফল। ঐতিহ্যবাহী ভারতীয় মিষ্টির স্বাদ ও গঠন উন্নত করার জন্য এটি ব্যবহৃত হয়। ক্ষীর, হালুয়া, লাড্ডু, আইসক্রিম এবং আরও অনেক মিষ্টি খাবারে চিরঞ্জী একটি জনপ্রিয় সংযোজন। সুস্বাদু হওয়ার পাশাপাশি এটি পুষ্টিগুণেও ভরপুর।
আয়ুর্বেদে চিরঞ্জী এত গুরুত্বপূর্ণ কেন?
এর ঔষধি গুণের কারণে, আয়ুর্বেদে চিরঞ্জীকে অত্যন্ত উপকারী বলে মনে করা হয়। এর শিকড় শীতল প্রভাব ফেলে এবং এর স্বাদ কষযুক্ত, যা ডায়রিয়া ও পেটের সমস্যা থেকে মুক্তি দেয় বলে বিশ্বাস করা হয়। চিরঞ্জী ত্বকের সমস্যার জন্যও উপকারী বলে মনে করা হয় এবং নিয়মিত চিরঞ্জী সেবন ত্বকের স্বাভাবিক উজ্জ্বলতা বজায় রাখতে সাহায্য করে।
এই গাছটি পরিবেশের জন্যও গুরুত্বপূর্ণ
শুধু এর স্বাস্থ্য ও স্বাদের জন্যই নয়, পরিবেশগত ও অর্থনৈতিক দৃষ্টিকোণ থেকেও এটিকে গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হয়। এই কারণেই বিহার সরকার জনগণকে এটি সংরক্ষণে উৎসাহিত করছে, যাতে ভবিষ্যৎ প্রজন্মও এই মূল্যবান গাছ এবং এর উপকারিতা থেকে লাভবান হতে পারে।

