Dailyhunt Logo
  • Light mode
    Follow system
    Dark mode
    • Play Story
    • App Story
Kakoli Ghosh Dastidar: শুভেন্দুকে লেখা ৩ পাতার চিঠিতে ৬ দফা দাবি কাকলির! ২১ জুলাই নিয়ে মমতার জমানাকেই নিশানা NCPI সাংসদের

Kakoli Ghosh Dastidar: শুভেন্দুকে লেখা ৩ পাতার চিঠিতে ৬ দফা দাবি কাকলির! ২১ জুলাই নিয়ে মমতার জমানাকেই নিশানা NCPI সাংসদের

লকাতা:বামেদের যদি ব্রিগেড সমাবেশ হয়, তৃণমূল কংগ্রেসের ২১ জুলাই। কর্মী-সমর্থকদের একজায়গায় এনে কার্যত সাংগঠনিক শক্তি প্রদর্শন। রাজনৈতিক অবস্থান, ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা ঝালিয়ে নেওয়া এক মঞ্চে দাঁড়িয়ে। এমনকি, তৃণমূলের এই শহিদ দিবসকেই ২০১১ সালের বিপুল জয়ের পরে কার্যত বিজয় সমাবেশে পরিণত করেছিল তৃণমূল।

কিন্তু, ছাব্বিশের পরাজয়ের পরে হুড়মুড়িয়ে ভেঙে পড়েছে তৃণমূলের তাসের ঘর। আড়াআড়ি ভেঙে গিয়েছে দল। সৃষ্টি হয়েছে আদি এবং নব্য তৃণমূলের। কালীঘাট এবং ঋতব্রত তৃণমূলের। ২১ জুলাই এসপ্ল্যানেডের ভিক্টোরিয়া হাউসের কাছে অন্যান্য বারের মতো সমাবেশ করতে চেয়ে রাজ্যের নব নির্বাচিত বিজেপি সরকারের কাছে আবেদন জানিয়েছিলেন তৃণমূলের দুই পক্ষই। কিন্তু, কেউই পায়নি অনুমতি। এবার এই ২১ জুলাই নিয়ে বিচার না পাওয়ার অভিযোগ জানিয়ে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীকে। চিঠিতে ৬ দফা দাবি জানিয়েছেন কাকলি।

১৯৯৩ সালের ২১ জুলাই কলকাতার এসপ্ল্যানেডে পুলিশ গুলিকাণ্ডে নিহতদের ন্যায়বিচারের দাবি এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার আবেদন জানিয়ে শুভেন্দু অধিকারীকে চিঠি দিয়েছেন NCPI সাংসদ কাকলি ঘোষ দস্তিদার।

চিঠিতে মুখ্যমন্ত্রীর কাছে ছয়টি প্রধান দাবি জানানো হয়েছে-

1. ২১ জুলাই গুলিকাণ্ডের মামলা পুনরায় খুলে তদন্ত শুরু করা।
2. জ্যোতি বসু আমলের চিহ্নিত দায়ীদের বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলা করা।
3. বিচারপতি চট্টোপাধ্যায় কমিশনের রিপোর্ট প্রকাশ করা।
4. দোষী ও তাঁদের পদোন্নতি দেওয়া কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া।
5. প্রয়োজনে আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞদের সহায়তায় ফরেনসিক পুনর্তদন্ত করা।
6. কমিশনের সুপারিশ অনুযায়ী নিহতদের পরিবারকে ক্ষতিপূরণ ও পুনর্বাসন নিশ্চিত করা।
চিঠির শেষে বলা হয়েছে, যদি ন্যায়বিচার না হয়, তাহলে মানুষের মধ্যে এই ধারণা আরও জোরালো হবে যে বর্তমান সরকারও ১৯৯৩ সালের ঘটনার দায়ীদের রক্ষা করছে। তাই দ্রুত ও সিদ্ধান্তমূলক পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।

এমনক, অভিযোগ, ঘটনার সময়ে যিনি রাজ্যের স্বরাষ্ট্রসচিব ছিলেন, সেই মণীশ গুপ্তকে গ্রেফতার বা বিচার করার পরিবর্তে মমতার সরকার ক্যাবিনেট মন্ত্রী এবং পরবর্তীতে রাজ্যসভার সাংসদ পদ দিয়ে পুরস্কৃত করেছিল।

কী হয়েছিল ২১ জুলাই?

১৯৯৩ সালের ২১ জুলাই পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক ইতিহাসের অন্যতম আলোচিত ও বিতর্কিত দিন। সেদিন কলকাতায় তৎকালীন বিরোধী দল Indian Youth Congress-এর ডাকা 'মহাকরণ অভিযান' (Writers' Building অভিযানে) পুলিশের গুলিতে ১৩ জন আন্দোলনকারী নিহত হন। এই ঘটনাই পরে '২১ জুলাই শহিদ দিবস' নামে পরিচিতি পায়।

সেই সময় পশ্চিমবঙ্গে ক্ষমতায় ছিল বামফ্রন্ট সরকার এবং মুখ্যমন্ত্রী ছিলেন জ্যোতি বসু। তৎকালীন যুব কংগ্রেস নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে কলকাতার বিভিন্ন প্রান্ত থেকে মিছিল বের হয়। আন্দোলনের অন্যতম দাবি ছিল ভোটার পরিচয়পত্র (EPIC) ছাড়া ভোট গ্রহণ না করা, কারণ বিরোধীদের অভিযোগ ছিল ভুয়ো ভোটারদের মাধ্যমে নির্বাচনে কারচুপি হচ্ছে।

মিছিলকারীরা মহাকরণের দিকে অগ্রসর হলে বিভিন্ন জায়গায় পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষ, লাঠিচার্জ ও কাঁদানে গ্যাস নিক্ষেপের ঘটনা ঘটে। পরে পুলিশ গুলি চালায়। সরকারি হিসাবে ১৩ জন আন্দোলনকারী নিহত হন এবং বহু মানুষ আহত হন। বিরোধীরা অভিযোগ করে যে অপ্রয়োজনীয় ও অতিরিক্ত বলপ্রয়োগ করা হয়েছিল। তৎকালীন সরকার জানায়, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতেই ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছিল।

Dailyhunt
Disclaimer: This content has not been generated, created or edited by Dailyhunt. Publisher: News18 Bengali