কলকাতা:তৃণমূল কংগ্রেসের মেট্রোপলিটনের কার্যালয় নব তৃণমূলের দখল নেওয়া ঘিরে চূড়ান্ত রাজনৈতিক নাটক। তার মাঝেই এবার তৃণমূলের ২১ জুলাই নিয়েও চিঠি গেল মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর কাছে। আর সেই চিঠি লিখলেন সদ্য তৃণমূল থেকে এনসিপিআই-তে যোগ দেওয়া সাংসদ কাকলি ঘোষ দস্তিদার। তিন পাতার সেই চিঠিতে কী লিখলেন কাকলি?
সূত্রের খবর, ১৯৯৩ সালে কংগ্রেসের আন্দোলনে গুলি চালনার ঘটনায় শহিদদের ন্যায়বিচার চেয়ে এবার মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীকে চিঠি লিখেছেন কাকলি। শুধু তাই নয়, এবিষয়ে বিগত তৃণমূল সরকারের তীব্র সমালোচনা করেছেন তিনি। তুলেছেন আঙুলও।
শুভেন্দুকে লেখা চিঠিতে মোট ৬ দফা দাবি
শুভেন্দুকে লেখা চিঠিতে মোট ৬ দফা দাবি জানিয়েছেন বারাসতের সাংসদ কাকলি ঘোষ দস্তিদার। তিন পাতার চিঠিতে কাকলি সরাসরি তৃণমূলকেই কাঠগড়ায় তুলে তাঁর অভিযোগ, ''১৯৯৩ সালে বাম সরকারের আমলে যেমন গুলিতে নিহত ১৩ জন যুব কংগ্রেসকর্মীর পরিবার বিচার পায়নি, তেমনই ২০১১ সালে ক্ষমতায় এসেও তৃণমূল সরকারও নিজেদের প্রতিশ্রুতি পূরণ করেনি। মামলাটি পুনরায় খোলা হয়নি বা কমিশনের রিপোর্ট প্রকাশ করা হয়নি। ফলে ৩৩ বছর পরেও নিহতদের পরিবার ন্যায়বিচার থেকে বঞ্চিত।'' তাই ওই মামলার পুনরায় তদন্ত ও রিপোর্ট প্রকাশের জন্য মুখ্যমন্ত্রীর কাছে দাবি তুলেছেন তৃণমূলের 'বিক্ষুব্ধ' সাংসদ কাকলি ঘোষ দস্তিদার।
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকারকেও নিশানা চিঠিতে
তবে সবচেয়ে তাৎপর্যপূর্ণ বিষয়, শুভেন্দু অধিকারীকে লেখা চিঠিতে তৃণমূল সরকারের ভূমিকাকেও প্রশ্নের মুখে ফেলেছেন কাকলি। তাঁর অভিযোগ, ক্ষমতায় আসার পরেও মামলা 'রিওপেন' বা কমিশনের রিপোর্ট প্রকাশ করা হয়নি। বরং কমিশনের সুপারিশে নাম থাকা মণীশ গুপ্তকে প্রথমে ভোটে দাঁড় করিয়ে রাজ্যের মন্ত্রী এবং পরে রাজ্যসভার সাংসদ করা হয়। পাশাপাশি, লালবাজার ও রাইটার্স বিল্ডিং থেকে মামলার গুরুত্বপূর্ণ নথি নিখোঁজ হওয়ার পরে, তা উদ্ধারে বা যাঁরা দায়ী, তাঁদের বিরুদ্ধে কোনও ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ কাকলি ঘোষ দস্তিদারের।
শুভেন্দুর কাছে কোন ৬ দফা দাবি জানিয়েছেন কাকলি
চিঠিতে কাকলির দাবি, মামলার পুনরায় তদন্ত, কমিশনের রিপোর্ট প্রকাশ, অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলা, দায়ী পুলিশ ও আমলাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা এবং নিহতদের পরিবারের ক্ষতিপূরণ ও পুনর্বাসনের দাবি তুলেছেন বারাসতের সাংসদ।
২১ জুলাই নিয়ে দড়ি টানাটানি
ইতিমধ্যে ২১ জুলাই ধর্মতলায় সভা করা যাবে না। কালীঘাট এবং ঋতব্রত- দুই তৃণমূলকেই জানিয়ে দিল কলকাতা পুলিশ। লালবাজারের তরফে জানানো হয়েছে, ধর্মতলার মতো ব্যস্ত জায়গায় রাস্তা আটকে কোনও রাজনৈতিক কর্মসূচি করা যাবে না। প্রসঙ্গত, ২১ জুলাই ধর্মতলার ভিক্টোরিয়া হাউসের সামনে 'শহিদ দিবসের' কর্মসূচি পালন করতে চেয়ে পুলিশের কাছে অনুমতি চেয়েছিল তৃণমূলের দুই শিবিরই। তার উপরে, রাস্তা আটকে ২১ জুলাই কর্মসূচি পালন করা নিয়ে কলকাতা হাইকোর্টের দেওয়া রায় অবমাননার অভিযোগও তোলা হয়েছে আদি তৃণমূলের বিরুদ্ধে।

