কলকাতা: রাজ্যে বিপর্যয় মোকাবিলায় 'অর্জুন' নামে বিশেষ প্রশিক্ষিত দল গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। প্রাথমিকভাবে ২০০ জনকে নিয়ে এই বাহিনীর কাজ শুরু হবে। কলকাতা, পাহাড় এবং সুন্দরবন-এই তিন এলাকায় কর্মীদের মোতায়েন করা হবে বলে জানানো হয়েছে। ভবিষ্যতে রাজ্যের আরও একাধিক পর্যটনকেন্দ্র ও গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় এই বাহিনীকে ধাপে ধাপে সম্প্রসারণ করা হবে।
উদ্যোগের সূচনা প্রসঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী জানান, পরিকল্পনাটি পুরোপুরি বাস্তবায়নে কিছুটা সময় লাগবে। বাজেটে ঘোষণা হওয়ার পর দ্রুত এই উদ্যোগের সূচনা করতে পারায় মনোজ আগরওয়ালকে ধন্যবাদও জানান তিনি। বক্তব্যে অতীতের বিভিন্ন বিপর্যয়ের প্রসঙ্গ তুলে রাজ্যের বিপর্যয় মোকাবিলা ব্যবস্থার পরিকাঠামো নিয়েও প্রশ্ন তোলা হয়। আমফানের সময় ওড়িশা থেকে উদ্ধারকারী দল এনে গাছ কাটার প্রসঙ্গ উল্লেখ করে বলা হয়, রাজ্যে পর্যাপ্ত প্রশিক্ষিত কর্মী ও আধুনিক যন্ত্রপাতির অভাব রয়েছে। একই সঙ্গে উদ্ধারকারী কর্মী এবং তাঁদের পরিবারের নিরাপত্তার বিষয়টিও গুরুত্ব দিয়ে দেখার প্রয়োজন রয়েছে বলে জানানো হয়।
সাম্প্রতিক নেপাল বিপর্যয়ের প্রসঙ্গও তুলে ধরা হয়। বক্তার বক্তব্য, পশ্চিমবঙ্গের ভৌগোলিক বৈচিত্র্য এবং বিভিন্ন ধরনের ঝুঁকির কথা মাথায় রেখে আরও শক্তিশালী বিপর্যয় মোকাবিলা পরিকাঠামো তৈরি করা প্রয়োজন। নদী, পাহাড়, জলাভূমি ভরাট করে নির্মাণ, মাটি পরীক্ষা না করে ভবন নির্মাণের অনুমোদন এবং পরিকাঠামোর ভারবহন ক্ষমতা যাচাই না করে যান চলাচল চালুর মতো বিষয় নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়। পোস্তা ও মাঝেরহাটের দুর্ঘটনার কথাও এ প্রসঙ্গে উল্লেখ করা হয়।
বক্তব্যে জানানো হয়েছে, জাতীয় বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী (NDRF)-এর আদলে রাজ্যেও আরও বেশি সংখ্যক প্রশিক্ষিত উদ্ধারকারী বাহিনী গড়ে তোলার লক্ষ্য রয়েছে। 'অর্জুন' বাহিনীর প্রথম পর্যায়ে ২০০ জন কর্মী থাকবেন। তাঁদের মধ্যে ১০০ জন কলকাতায়, ৫০ জন পাহাড়ি এলাকায় এবং ৫০ জন সুন্দরবনে মোতায়েন থাকবেন। পরবর্তী সময়ে মুকুটমণিপুর, তারাপীঠ, তরাই-ডুয়ার্স-সহ রাজ্যের বিভিন্ন পর্যটনকেন্দ্রেও ধাপে ধাপে এই বাহিনীকে মোতায়েন করার পরিকল্পনা রয়েছে। একই সঙ্গে সিভিল ডিফেন্স ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করার উদ্যোগ নেওয়া হবে। কলকাতা, দীঘা এবং দার্জিলিংয়েও আগামী দিনে বিপর্যয় মোকাবিলার পরিকাঠামো গড়ে তোলার কথা জানানো হয়েছে।
'অর্জুন' বাহিনীর কর্মীদের 'বীর' এবং তাঁদের নেতৃত্বদানকারীদের 'বীর নায়ক' নামে অভিহিত করার পরিকল্পনার কথাও জানানো হয়েছে। 'বীর' কর্মীদের মাসিক ২৫ হাজার টাকা এবং 'বীর নায়ক'দের মাসিক ৪০ হাজার টাকা দেওয়ার কথা বলা হয়েছে। তাঁদের জন্য বিভিন্ন ধরনের কভারেজ বা সুরক্ষা ব্যবস্থাও থাকবে বলে জানানো হয়েছে। দার্জিলিংয়ের পরিস্থিতি নিয়ে সাংসদ রাজু বিস্তার পাঠানো চিঠি পাওয়ার কথাও জানানো হয়েছে। হিমালয় সংক্রান্ত যে রিপোর্ট পাঠানো হয়েছে, সেটিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে জানানো হয়েছে। বিষয়টি মুখ্যসচিবের কাছেও পাঠানো হয়েছে। ভবিষ্যতে কোনও ধরনের বিপর্যয় বা দুর্ঘটনা ঘটলে দ্রুত সমন্বিতভাবে উদ্ধার ও ত্রাণকাজে ঝাঁপিয়ে পড়াই এই উদ্যোগের অন্যতম লক্ষ্য।

