কলকাতা: শহরের যানজট কমানো এবং পার্কিং ব্যবস্থাকে আরও আধুনিক ও সুশৃঙ্খল করতে বড় পদক্ষেপের পথে রাজ্য সরকার। কলকাতায় চালু হতে চলেছে 'ওয়ান সাইড পার্কিং' ব্যবস্থা। পাশাপাশি গোটা পার্কিং ব্যবস্থাকে আনা হবে একটি ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের আওতায়। এই পরিকল্পনা বাস্তবায়ন নিয়ে শুক্রবার নবান্নে পুর ও নগর উন্নয়ন মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পালের নেতৃত্বে এক উচ্চপর্যায়ের বৈঠক হয়।
বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন কলকাতা পুলিশের পুলিশ কমিশনার, হাওড়া পুলিশের পুলিশ কমিশনার-সহ বিভিন্ন দফতরের শীর্ষ আধিকারিকরা।
বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয়েছে, একটি বিশেষ মোবাইল অ্যাপ চালু করা হবে, যার মাধ্যমে কোন এলাকায় কতগুলি পার্কিং স্পেস খালি রয়েছে, তা রিয়েল-টাইমে জানা যাবে। একই সঙ্গে অ্যাপ থেকেই পার্কিং বুকিং, অর্থপ্রদান এবং ব্যবস্থাপনা করা যাবে। প্রথম পর্যায়ে কলকাতা পুরসভার অধীনে থাকা প্রায় ১৫ হাজার পার্কিং স্পেস এই নতুন ব্যবস্থার আওতায় আনা হবে। পরবর্তী সময়ে হাওড়া মিউনিসিপ্যাল কর্পোরেশন (HMC), বিধাননগর মিউনিসিপ্যাল কর্পোরেশন (BMC)-সহ রাজ্যের অন্যান্য শহরেও এই মডেল চালুর পরিকল্পনা রয়েছে।
বাণিজ্যিক গাড়ির বিরুদ্ধে কড়া ব্যবস্থা
বাস, ওলা, উবের বা অন্যান্য বাণিজ্যিক গাড়ি দীর্ঘক্ষণ রাস্তায় দাঁড়িয়ে থাকলে মোটা অঙ্কের জরিমানা করা হবে। শহরের যান চলাচল স্বাভাবিক রাখতে এই বিষয়ে কঠোর নজরদারির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

মাল্টি-লেভেল পার্কিংয়ে জোর
আগামী ৩০ বছরের যানবাহনের চাপ মাথায় রেখে নতুন মাল্টি-লেভেল পার্কিং নির্মাণের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি ডালহৌসি এলাকায় একটি ওভারব্রিজ নির্মাণের বিষয়েও আলোচনা হয়েছে।
পার্কিং সংগ্রহকারীদের জন্য বাধ্যতামূলক পরিচয়পত্র
নতুন ব্যবস্থায় পার্কিং সংগ্রহকারীদের জন্য ছবি-সহ পরিচয়পত্র বাধ্যতামূলক করা হবে। পার্কিং ফি আদায়ের পুরো প্রক্রিয়াই অ্যাপভিত্তিক করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে, যাতে স্বচ্ছতা বাড়ে এবং অনিয়ম রোধ করা যায়।
আবাসিক এলাকায় রাস্তা দখল করে পার্কিংয়ে কড়াকড়ি
বাড়ির সামনে বা আবাসিক এলাকার রাস্তা দখল করে গাড়ি পার্কিংয়ের বিরুদ্ধেও কড়া ব্যবস্থা নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে। বিষয়টি নজরদারিতে রাখতে সংশ্লিষ্ট দফতরগুলিকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
১ সেপ্টেম্বর থেকে পরিচ্ছন্নতা আইনেও কড়াকড়ি
বৈঠক শেষে পুর ও নগর উন্নয়ন মন্ত্রী জানান, আগামী ১ সেপ্টেম্বর থেকে পরিচ্ছন্নতা আইন আরও কঠোরভাবে কার্যকর করা হবে। যেখানে-সেখানে থুতু ফেলা বা প্লাস্টিকের বর্জ্য ফেললে পুলিশের মাধ্যমে জরিমানা করা হবে।

