কলকাতা, প্রীতীশ বন্দ্যোপাধ্যায়: ঘোষণা করা হয়েছিল আগেই। আজ থেকে চালু হল নিয়ম। এবার থেকে যেখানে সেখানে মলমূত্র ত্যাগ করলে, কিংবা খোলা জায়গায় থুতু ফেললে, কিংবা বিশেষ ধরনের প্লাস্টিক ব্যবহার ফাইন দিতে হবে নাগরিককে। কলকাতা শহরকে পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন রাখতে এবার আরও কড়া প্রশাসন।
এবিষয়ে কী জানিয়েছেন পুর ও নগরোন্নমন্ত্রী?
১ সেপ্টেম্বর থেকে চালু হয়েছে 'ফাইনে'র নিয়ম। রাস্তায় থুতু ফেলা, প্রস্রাব করা থেকে পথের ধারে বেআইনি গাড়ি পার্কিং, বালি-সিমেন্ট ফেলে রাখা হলে ন্যূনতম ১০০ থেকে ২০০ টাকা পর্যন্ত জরিমানা গুনতে হবে। এ বিষয়ে প্রতিক্রিয়া জানাতে গিয়ে মন্ত্রী বলেন, ''ফাইন করা আমাদের লক্ষ্য নয়। আমাদের লক্ষ্য হল মানুষের সচেতনতা। মানুষের মধ্যে সচেতনতা প্রয়োজন। যাতে আমাদের রাজ্য ও শহর পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন থাকে।''
মন্ত্রী আবারও জানান, ''নোংরা কোনও জায়গায় ফেলবেন না। আমার ডাস্টবিন দিচ্ছি। মলমূত্র যেখানে সেখানে করবেন না। আমরা সুলভ শৌচালয় তৈরি করছি আরও বেশি। প্লাস্টিক ব্যবহার করবেন না। তার জন্য অন্য ব্যবস্থা আমরা করছি। সাফাই কর্মীরা আপাতত এই পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন বিষয়গুলো দেখবে। অ্যাপের মাধ্যমে ফাইন নেওয়া হবে।'' সবশেষে তাঁর মন্তব্য, ''কোনও জোর করে চাবুক চালিয়ে মানুষের মধ্যে এগুলো করা যায় না। মানুষকে সচেতন হতে হবে।''
কিসে কত ফাইন?
পুরমন্ত্রীর ঘোষণা অনুযায়ী, যত্রতত্র মূত্রত্যাগ করলে ২০০ টাকা, খোলা জায়গায় থুতু ফেললে ১০০ টাকা এবং নিষিদ্ধ প্লাস্টিক ব্যবহার করলে ২০০ টাকা জরিমানা দিতে হবে। তবে শহর ও সমাজের পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখতে সাধারণ মানুষের সচেতনতাই সবচেয়ে জরুরি। জরিমানার নিয়ম চালু হওয়ার পরেও ধর্মতলার বিভিন্ন জায়গায় খোলা জায়গায় যত্রতত্র মূত্রত্যাগের ছবি দেখা গিয়েছে।
শুধু থুতু ফেলা বা মলমূত্র ত্যাগ করাই নয়, রাস্তার ধারে বেআইনিভাবে গাড়ি পার্কিং বা বাড়ি তৈরির সময়ে রাস্তার ধারে বালি, সিমেন্ট, স্টোনচিপসের মতো নির্মাণ সামগ্রী বা আবর্জনা ফেলে রাখলেও তা অপরাধ বলে বিবেচিত হবে। সেক্ষেত্রেও একই অর্থ জরিমানা আদায় করা হবে। অগ্নিমিত্রা পাল আরও জানিয়েছেন, ১২০ মাইক্রনের নিচে প্লাস্টিক ব্যাগ অর্থাৎ যাতে পরিবেশ দূষিত হয়, এমন ব্যাগ ব্যবহারের ক্ষেত্রেও জরিমানা দিতে হবে। তবে এই জরিমানা নগদে নয়, নেওয়া হবে ডিজিটাল পদ্ধতিতে।

