Dailyhunt Logo
  • Light mode
    Follow system
    Dark mode
    • Play Story
    • App Story
Kolkata Municipal Corporation Election: কলকাতা পুরভোটের আগে আশঙ্কার মেঘ ঘাসফুলের ঘরে, ভবানীপুরের ওয়ার্ডভিত্তিক ফলে বিজেপির লিড ৭-তৃণমূলের ১

Kolkata Municipal Corporation Election: কলকাতা পুরভোটের আগে আশঙ্কার মেঘ ঘাসফুলের ঘরে, ভবানীপুরের ওয়ার্ডভিত্তিক ফলে বিজেপির লিড ৭-তৃণমূলের ১

লকাতা:মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ভবানীপুরে, তৃণমূলের শোচনীয় হার। মমতার নিজের ওয়ার্ডেও হার। প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীর বিধানসভা কেন্দ্রে মাত্র একটি ওয়ার্ডে এগিয়ে তৃণমূল। তাই কলকাতা পুরভোটের আগে আশঙ্কার মেঘ ঘাসফুলের ঘরে।

নিজের আসন ভবানীপুরকে 'বড়বোন' এবং নন্দীগ্রামকে 'মেজোবোন' বলে সম্বোধন করেন মমতা।

'মেজবোনের' কাছে পাঁচ বছর আগেই হেরেছিলেন। সে বারও হারিয়েছিলেন শুভেন্দু। এ বার 'বড়বোন' ভবানীপুরেও হারলেন তিনি। এ বারও হারালেন সেই শুভেন্দুই। গত বারের চেয়ে আরও বড় ব্যবধানে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ভবানীপুরে তৃণমূলের ভরাডুবির পর হাতে রয়ে গেল শুধুই পেনসিল।

ভবানীপুর। হাইভোল্টেজ বিধানসভা। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাড়ি। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের এলাকা। টানা পনেরো বছর এই কেন্দ্রেরই বিধায়ক ছিলেন তৃণমূলনেত্রী। ছাব্বিশে এই ভবানীপুরেই শোচনীয় হার হয়েছে তৃণমূল কংগ্রেসের। ভবানীপুরে শুভেন্দু অধিকারীর কাছে ১৫ হাজার ১০৫ ভোটে হেরেছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তৃণমূলনেত্রীর হাতে রয়ে গিয়েছে একটিমাত্র ওয়ার্ড, সাতাত্তর। শুধু তাই নয়। বিধানসভা ভোটের ফল অনুযায়ী, এই কেন্দ্রের ৮টি ওয়ার্ডের মধ্যে মাত্র একটিতে এগিয়ে আছে তৃণমূল। একমাত্র ৭৭ নম্বর ওয়ার্ড।

মমতা নিজেও প্রায়শই ভবানীপুরকে 'মিনি ইন্ডিয়া' বলে থাকেন। বহুত্ববাদী চরিত্রের এই আসনে রয়েছে মোট আটটি ওয়ার্ড- ৬৩, ৭০, ৭১, ৭২, ৭৩, ৭৪, ৭৭ এবং ৮২। জনবিন্যাসের নিরিখে ভবানীপুরে প্রায় ২৪ শতাংশ মুসলিমের বাস। বাকি ৭৬ শতাংশ অমুসলিম, যার মধ্যে অন্য সংখ্যালঘুরাও রয়েছেন। শিখ এবং জৈন ধর্মাবলম্বীদের সংখ্যাও রয়েছে উল্লেখযোগ্য ভাবে। ৬৩, ৭০, ৭১, ৭২, ৭৩, ৭৪, ৭৭ এবং ৮২- কলকাতা পুরসভার এই আটটি ওয়ার্ড ভবানীপুর বিধানসভা কেন্দ্রের মধ্যে পড়ে। এর মধ্যে শুধুমাত্র ৭৭ নম্বর ওয়ার্ডে এবার লিড পেয়েছে তৃণমূল। এই ওয়ার্ডটিতে মুসলিম ভোটারের সংখ্যা বেশি। এমনকি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাড়ি যে ওয়ার্ডে সেই ৭৩ নম্বর ওয়ার্ডেও পিছিয়ে তৃণমূল।

ভবানীপুর বিধানসভা কেন্দ্রের মধ্যে ২৬৭টি বুথ রয়েছে। এর মধ্যে ২৮টি বুথে ৫০-এর কম ভোট পেয়েছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর নিজের বুথ ২৬০-এও পিছিয়ে তৃণমূলনেত্রী পেয়েছেন ২৮৫টি ভোট। শুভেন্দু অধিকারী পেয়েছেন ৩২১টি ভোট। ভবানীপুর বিধানসভা আসনটি পড়ে কলকাতা দক্ষিণ লোকসভা কেন্দ্রের মধ্যে রেছে। ১৯৯১ থেকে ২০০৯ পর্যন্ত এই কেন্দ্রের সাংসদ ছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ২০১১ থেকে ভবানীপুর কেন্দ্রের টানা তিনবারের বিধায়ক ছিলেন তিনি। সেই ভবানীপুরে তৃণমূলের ভরাডুবি। যে ভবানীপুরে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় থাকেন সেই বিধানসভার মধ্যে থাকা একটি ওয়ার্ডে জয়লাভ করতে পেরেছে তৃণমূল। যে ওয়ার্ডে তাঁরা থাকেন, সেখানেও তাঁরা পরাজিত।

রাজ্যজুড়ে পরিবর্তনের ঝড়। তৃণমূলের তাবড় তাবড় নেতারা হেরে গিয়েছেন। তিনবারের মুখ্যমন্ত্রীও হেরেছেন। রাজ্য থেকে তৃণমূল কার্যত ধুয়েমুছে সাফ। এই পরিস্থিতিতে আগামী পুরসভা ভোটে কী হবে? তৃণমূল সমর্থকদের কপালে চিন্তার ভাঁজে ঘাম জমতে শুরু করেছে। ভবানীপুর কেন্দ্রের আটটি ওয়ার্ডই একুশের পুরভোটে ছিল তৃণমূলের দখলে তার মধ্যে সাতটিতেই তৃণমূল হেরে বসে আছে। অর্থাৎ আসন্ন পুরভোটে ভবানীপুরে পিছিয়ে থেকে শুরু করবে তৃণমূল। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের গড়ে কি শূন্য হবে তৃণমূল? উত্তর দেবে সময়।

Dailyhunt
Disclaimer: This content has not been generated, created or edited by Dailyhunt. Publisher: News18 Bengali