মুম্বই:দেশজুড়ে মৌসুমি বৃষ্টির দাপটে একাধিক রাজ্যে বন্যা পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। কেরলে ভয়াবহ ভূমিধসে প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে। উত্তরাখণ্ড ও হিমাচল প্রদেশেও একই ধরনের বিপদের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। এরই মধ্যে প্রবল বৃষ্টির জেরে নদীতে প্রায় ৩,০০০টি LPG গ্যাস সিলিন্ডার ভেসে যাওয়ার ঘটনা সামনে এসেছে, যা নিয়ে উদ্বেগ ছড়িয়েছে।
ঘটনাটি ঘটেছে মহারাষ্ট্রের রায়গড় জেলায়। প্রবল বৃষ্টিতে HPCL-এর পাতালগঙ্গা LPG বটলিং প্ল্যান্ট জলমগ্ন হয়ে পড়ায় ৩,০০০টিরও বেশি গ্যাস সিলিন্ডার বন্যার জলে ভেসে যায়। পাতালগঙ্গা নদীতে সিলিন্ডার ভেসে যাওয়ার ভিডিও ইতিমধ্যেই সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়েছে।
জানা গিয়েছে, পানভেল তালুকের চাভানে গ্রামে অবস্থিত HPCL-এর পাতালগঙ্গা LPG বটলিং প্ল্যান্টে টানা বৃষ্টির ফলে বন্যার জল ঢুকে পড়ে। এরপরই বিপুল সংখ্যক সিলিন্ডার জলের স্রোতে ভেসে যায়। প্রশাসন সাধারণ মানুষকে সতর্ক করে জানিয়েছে, বন্যার জলে ভেসে যাওয়া কোনও সিলিন্ডারের কাছাকাছি না যেতে, কারণ সেগুলির নিরাপত্তা নিয়ে এখনও নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
নদীতে ভেসে গেল হাজার হাজার LPG সিলিন্ডার
প্রশাসনের দাবি, প্ল্যান্টে জল ঢুকে পড়ার পর বিপুল সংখ্যক LPG সিলিন্ডার পাতালগঙ্গা নদীতে ভেসে যায়। বিভিন্ন প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রায় ৩,০০০টি সিলিন্ডার বন্যার জলে ভেসে গেছে। এর মধ্যে কিছু সিলিন্ডারে গ্যাস ভর্তি ছিল, আবার কিছু ছিল খালি।
উত্তাল নদীতে শত শত সিলিন্ডার ভেসে যাওয়ার ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়ায় দ্রুত ছড়িয়ে পড়েছে। এমনকী কয়েকটি ভিডিওতে দেখা গিয়েছে, কিছু মানুষ সেতুর ওপর দাঁড়িয়ে ভেসে আসা সিলিন্ডার ধরার চেষ্টা করছেন এবং বাড়িতে নিয়ে যাওয়ারও চেষ্টা করছেন।
প্রশাসনের কড়া সতর্কবার্তা
ঘটনার পর জেলা প্রশাসন এবং সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলি সাধারণ মানুষের জন্য বিশেষ সতর্কতা জারি করেছে। প্রশাসনের বক্তব্য, নদীতে ভেসে যাওয়া সিলিন্ডারগুলির ভিতরে গ্যাস রয়েছে কি না, অথবা সেগুলি কতটা নিরাপদ-তা এখনও স্পষ্ট নয়। তাই কোনও অবস্থাতেই ওই সিলিন্ডার ধরার, সরানোর বা বাড়িতে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করা উচিত নয়।
রায়গড়ের জেলাশাসক কিশন জাভালে সাধারণ মানুষকে অনুরোধ করেছেন, নদীতে বা নদীর তীরে পড়ে থাকা কোনও গ্যাস সিলিন্ডারের কাছে যেন কেউ না যান। তিনি স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন, কোনও পরিস্থিতিতেই সিলিন্ডার তুলে নেওয়া, স্থানান্তর করা বা বাড়িতে নিয়ে যাওয়া উচিত নয়।
জেলাশাসক আরও জানান, নদীতে ভেসে যাওয়া সিলিন্ডারগুলি গ্যাসে ভর্তি নাকি খালি, কিংবা সেগুলির নিরাপত্তার অবস্থা কী-তা এখনও নির্ধারণ করা যায়নি। তাই মানুষের নিরাপত্তার স্বার্থে প্রশাসনের নির্দেশ মেনে চলাই সবচেয়ে জরুরি।

