চেন্নাই: গ্রেফতারের কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই মুক্তি পেলেন উদয়নিধি স্ট্যালিন। অভিনেত্রী তৃষাকে উদ্দেশ্য করে করা তাঁর 'দ্ব্যর্থবোধক' মন্তব্যের বিষয়ে উদয়ানিধি স্টালিনকে জিজ্ঞাসাবাদের পরই অবিলম্বে মুক্তি দেওয়ার জন্য মঙ্গলবার পুলিশকে নির্দেশ দেয় মাদ্রাজ হাইকোর্ট। এরপরেই তাঁকে মুক্তি দেওয়া হয়।
এদিন দিনের শুরুতে ডিএমকে নেতাকে গ্রেফতার করে পুলিশ। তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য থাঞ্জাভুরে নিয়ে যাওয়া হয়।
হাইকোর্ট এই মামলায় তামিলনাড়ু বিধানসভার বিরোধী দলনেতাকে প্রয়োজন অনুযায়ী তদন্তে সহযোগিতা করার নির্দেশও দিয়েছে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদের পর আদালতের আদেশে মুক্তি দেওয়া হয়েছে। শুনানির সময়, থাঞ্জাভুর পুলিশের পক্ষ থেকে অ্যাডভোকেট জেনারেল বিজয় নারায়ণ আদালতকে জানান, উদয়ানিধিকে থাঞ্জাভুরে নিয়ে যাওয়া হয়েছে, কিন্তু তাঁকে বিচার বিভাগীয় হেফাজতে পাঠানো হবে না।
অ্যাডভোকেট জেনারেল একইসঙ্গে জানান, শুধু তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করে জামিনে মুক্তি দেওয়ারই উদ্দেশ্য ছিল। এরপরেই আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে হাইকোর্ট জিজ্ঞাসাবাদ শেষ করে উদয়ানিধিকে মুক্তি দেওয়ার জন্য পুলিশকে নির্দেশ দেয়। এদিন সকালে পুলিশি জিজ্ঞাসাবাদের পরই গ্রেফতার হন উদয়নিধি। দলীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, সোমবার থাঞ্জাভুরে কাবেরী নদী ইস্যুতে এক বিক্ষোভ চলাকালে করা মন্তব্যের বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করতে উদয়ানিধির নীলানকারাইয়ের বাসভবনে পুলিশ পৌঁছানোর পরপরই একটি আগাম জামিনের আবেদন দাখিল করা হয় তাঁর পক্ষ থেকে।
কী নিয়ে বিতর্ক?
তাঞ্জাভুরে কাবেরী জলবণ্টন ইস্যুতে ডিএমকের প্রতিবাদ কর্মসূচিতে বক্তব্য রাখছিলেন উদয়নিধি স্ট্যালিন। সেই সময় উপস্থিত সমর্থকেরা বারবার "তৃষা, তৃষা" স্লোগান দিতে শুরু করেন। উদয়নিধি কিছুক্ষণ থেমে সেই স্লোগানের প্রতিক্রিয়া জানান। এরপরই TVK এবং বিজেপির অভিযোগ, অভিনেত্রী তৃষাকে উদ্দেশ্য করে তিনি দ্ব্যর্থবোধক ও অশালীন মন্তব্য করেছেন। বিরোধীদের দাবি, একজন মহিলা এবং জনপ্রিয় অভিনেত্রীকে নিয়ে এই ধরনের মন্তব্য একজন শীর্ষ রাজনৈতিক নেতার পক্ষে অত্যন্ত অসম্মানজনক।
কীভাবে গ্রেফতার হলেন উদয়নিধি?
তাঞ্জাভুর পূর্ব থানায় উদয়নিধি স্ট্যালিনের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের হওয়ার পর পুলিশ তাঁর বাড়িতে পৌঁছে তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করে। এরপরই ডিএমকে কর্মী-সমর্থকেরা তাঁর বাড়ির বাইরে বিক্ষোভে সামিল হন। ডিএমকের অভিযোগ, রাজনৈতিক উদ্দেশ্যেই বিরোধী দলনেতাকে নিশানা করেছে সরকার। চলতি বিধানসভা অধিবেশনে যাতে তিনি অংশ নিতে না পারেন, সেই কারণেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে দাবি দলের।

