আরামবাগ:গত সোমবার রাতে সমস্ত বিবেচনাধীন প্রার্থীর তালিকার নিষ্পত্তি করেছে কমিশন। হিসাব শেষে দেখা গিয়েছে, পশ্চিমবঙ্গের ভোটার তালিকা থেকে বাদ গিয়েছে প্রায় ৯১ লক্ষ নাম। সোমবার নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে ডিলিটেড নামের তালিকা প্রকাশ করেছে কমিশন। মোট বিবেচনাধীন ছিলেন ৬০ লক্ষ ৬ হাজার ৬৭৫ জন ভোটার।
তার মধ্যে ২৭ লক্ষ ১৬ হাজার ৩৯৩ জনকে অবৈধ ভোটার হিসাবে জানিয়েছেন জুডিশিয়াল অফিসাররা। অর্থাৎ এই ২৭ লক্ষ ১৬ হাজার ৩৯৩ জন ট্রাইবুনালে আবেদন করতে পারবেন পুনরায় ভোটার তালিকায় নাম তোলার জন্য। এমন পরিস্থিতি, বুধবার আবারও একাধিক সভা থেকে আদালতে যাওয়ার কথা বলতে শোনা গেল তৃণমূলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে।
এদিন হুগলির আরামবাগের সভা থেকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, ''এই বার রাজ্যে সাংঘাতিক পরিস্থিতিতে ভোট হচ্ছে। মোটাভাই যাঁর বাড়িতে ভাত খেয়েছিলেন, তাঁর নামও বাদ দিয়ে দিয়েছে।''
মমতা বলেন, ''আমি বোকা হতে পারি, কিন্তু আইনজীবী হিসাবে আমার মনে হয়, আবার আমাদের কোর্টে যাওয়া উচিত। কেন ট্রাইবুনালে আবেদন করার সুযোগ না দিয়ে প্রথম দফার ভোটে ভোটার তালিকা 'ফ্রিজ়' করে দেওয়া হল।''
প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে নিশানা করে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, ''আর তো কটা দিন, তার পর বিজেপি এ পাশ, ও পাশ, ধপাস। বাংলায় আবার পাকিস্তানকে দিয়ে হুমকি দেওয়া হচ্ছে, তখন কেন মুখে লিউকোপ্লাস্ট দিয়ে রাখেন মোদিবাবু?''
মমতার কটাক্ষ, ''চৈত্র সেলের মতো দেশের সব জায়গা বিক্রি হয়ে গিয়েছে। কিছু করার নেই। তবু বলি ইঞ্চিতে-ইঞ্চিতে লড়াই হবে।''
শ্রীরামপুরের প্রচার সভা থেকেও ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ যাওয়া নিয়ে প্রশ্ন তোলেন মমতা। বলেন, ''নাম বাদ রুখতে ফের আদালতে যাব। বেছে বেছে তৃণমূলের ভোটারদের বাদ দিয়েছে, মামলা করায় ৩২ লক্ষ নাম উঠেছে। ট্রাইব্যুনালে নিষ্পত্তির আগে ভোটার তালিকা ফ্রোজেন হল কী করে? দরকার হলে আবার কোর্টে গিয়ে লড়াই করব।''
রাজ্যের ১০টি জেলা বাদ দিয়ে বাকি জেলাগুলিতে আন্ডার অ্যাডজুডিকেশন থাকা অভিযোগগুলির নিষ্পত্তি করেছেন জুডিশিয়াল অফিসাররা। মোট ৬০ লক্ষ ৬ হাজার ৬৭৫টি অভিযোগের মধ্যে এখন পর্যন্ত ৫৯ লক্ষ ৮৪ হাজার ৫১২টির নিষ্পত্তি হয়েছে। এর মধ্যে ৩২ লক্ষ ৬৮ হাজার ১১৯ জনকে বৈধ ভোটার হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে, আর ২৭ লক্ষ ১৬ হাজার ৩৯৩ জনকে অবৈধ ভোটার হিসেবে ধরা হয়েছে। এই ২৭ লক্ষ ১৬ হাজার ৩৯৩ জন পুনরায় ভোটার তালিকায় নাম তোলার জন্য ট্রাইবুনালে আবেদন করতে পারবেন। বিশেষ করে মুর্শিদাবাদ, উত্তর ২৪ পরগনা, কোচবিহার, দক্ষিণ ২৪ পরগনা ও পূর্ব বর্ধমান জেলায় উল্লেখযোগ্য সংখ্যক নাম বাদ পড়েছে, যার মধ্যে মুর্শিদাবাদেই সর্বাধিক।

