২০২৭ সালে ইসলামাবাদে অনুষ্ঠিত হতে চলা সাংহাই সহযোগিতা সংস্থার (SCO) শীর্ষ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে আমন্ত্রণ জানানো হবে বলে ইঙ্গিত দিল পাকিস্তান। ইসলামাবাদ জানিয়েছে, আয়োজক দেশ হিসেবে এসসিও-র নির্ধারিত প্রোটোকল মেনেই সদস্যভুক্ত সমস্ত দেশের রাষ্ট্রপ্রধান ও সরকারপ্রধানদের আমন্ত্রণ জানানো হবে।
পাকিস্তানের বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র এক সাংবাদিক বৈঠকে বলেন, এসসিও-র সব সদস্য দেশের শীর্ষ নেতৃত্বকে আমন্ত্রণ জানানো হবে। ফলে সংগঠনের সদস্য হিসেবে ভারতও আমন্ত্রণ পাবে।
ভারত টুডের প্রতিবেদন অনুযায়ী, মুখপাত্র বলেন, "আয়োজক দেশ হিসেবে সদস্য রাষ্ট্রগুলিকে আমন্ত্রণ জানানো আমাদের দায়িত্ব। এসসিও-র নির্ধারিত প্রোটোকল অনুযায়ীই সেই আমন্ত্রণ পাঠানো হবে।"
২০২৭ সালে ইসলামাবাদে এসসিও সম্মেলন
ঘূর্ণায়মান সভাপতিত্বের নিয়ম অনুযায়ী ২০২৭ সালের এসসিও শীর্ষ সম্মেলনের আয়োজন করবে পাকিস্তান। ইউরেশিয়া অঞ্চলে শান্তি, স্থিতিশীলতা এবং অর্থনৈতিক সহযোগিতা জোরদার করার লক্ষ্যে ২০০১ সালের ১৫ জুন প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল সাংহাই সহযোগিতা সংস্থা।
বর্তমানে এই জোটের সদস্য দেশগুলি হল ভারত, পাকিস্তান, চিন, রাশিয়া, কাজাখস্তান, কিরগিজস্তান, তাজিকিস্তান, উজবেকিস্তান, ইরান এবং বেলারুশ।
২০২৫ সালের এসসিও সম্মেলন
২০২৫ সালের এসসিও শীর্ষ সম্মেলন চিনের তিয়ানজিনে অনুষ্ঠিত হয়েছিল। সম্মেলনের মূল প্রতিপাদ্য ছিল "Upholding the Shanghai Spirit: SCO on the Move"। সেই সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী, রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন, ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান, বেলারুশের প্রেসিডেন্ট আলেকজান্ডার লুকাশেঙ্কো-সহ কাজাখস্তান, কিরগিজস্তান, পাকিস্তান, তাজিকিস্তান ও উজবেকিস্তানের শীর্ষ নেতারা।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের শুল্কনীতি ঘিরে শুরু হওয়া বৈশ্বিক বাণিজ্য উত্তেজনার আবহে আয়োজিত ওই সম্মেলনকে ভারত-চিন দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক উন্নয়নের দিক থেকেও গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হয়েছিল। পাশাপাশি ভারত, রাশিয়া ও চিন- এই তিন বৃহৎ অর্থনৈতিক শক্তিকে একই মঞ্চে আনার ক্ষেত্রেও সম্মেলনটি তাৎপর্যপূর্ণ ছিল।
ভারত-পাকিস্তান সম্পর্কে উত্তেজনার আবহ
এদিকে, ভারত-পাকিস্তান সম্পর্কের টানাপোড়েনের মধ্যেই পাকিস্তানের এই বার্তা সামনে এসেছে। ২০২৫ সালের ২২ এপ্রিল জম্মু ও কাশ্মীরের পহেলগাঁওয়ের বৈসরন উপত্যকায় জঙ্গি হামলায় ২৬ জনের মৃত্যু হয়। নিহতদের মধ্যে ছিলেন ২৫ জন পর্যটক এবং এক স্থানীয় বাসিন্দা।
এই হামলার পর পাকিস্তানের বিরুদ্ধে একাধিক কড়া পদক্ষেপ নেয় ভারত। সিন্ধু জল চুক্তি (Indus Waters Treaty) স্থগিত করার পাশাপাশি পাকিস্তানি কূটনীতিকদের বহিষ্কারের সিদ্ধান্তও নেওয়া হয়।
এরপর ৭ মে ভারত 'অপারেশন সিঁদুর' চালিয়ে পাকিস্তানের পাঞ্জাব প্রদেশ এবং পাকিস্তান অধিকৃত কাশ্মীরের (PoK) মোট নয়টি জঙ্গি ঘাঁটি ধ্বংস করার দাবি করে। ভারতের দাবি, ওই অভিযানে শতাধিক জঙ্গি নিহত হয়েছিল। এর জেরে দুই দেশের সীমান্তে পাল্টাপাল্টি গোলাবর্ষণ হয় এবং উভয় পক্ষেই হতাহতের ঘটনা ঘটে।

