কলকাতাঃ নারী নিরাপত্তা, বিচারপ্রাপ্তির সুযোগ বৃদ্ধি, আইনি সচেতনতা এবং মানবপাচার রোধে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ কর্মসূচি নিয়ে তিন দিনের সরকারি সফরে পশ্চিমবঙ্গে আসছেন জাতীয় মহিলা কমিশনের (NCW) চেয়ারপার্সন স্মতি বিজয়া রাহাতকর। আগামী ৫ থেকে ৭ অগাস্ট পর্যন্ত তাঁর এই সফরে কলকাতা ও হাওড়ায় বিভিন্ন প্রশাসনিক, শিক্ষামূলক এবং জনমুখী অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে।
৫ অগাস্ট সফরের প্রথম দিনে কলকাতার ওয়েস্ট বেঙ্গল ন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি অফ জুরিডিক্যাল সায়েন্সেস (WBNUJS)-এ আয়োজিত 'ক্যাম্পাস কলিং' কর্মসূচিতে ছাত্রছাত্রীদের সঙ্গে মতবিনিময় করবেন তিনি। এরপর ধন ধান্য অডিটোরিয়ামে মহিলা স্বনির্ভর গোষ্ঠীর সদস্যদের সঙ্গে বৈঠক করবেন। সন্ধ্যায় জাতীয় গ্রন্থাগার অডিটোরিয়ামে আয়োজিত 'She Serves' অনুষ্ঠানে যোগ দেওয়ারও সূচি রয়েছে তাঁর।
৬ অগাস্ট নিউ টাউনের বিশ্ব বাংলা কনভেনশন সেন্টারে 'বেঙ্গল উইমেন্স ডেভেলপমেন্ট কনক্লেভ ২০২৬ - নারী নেতৃত্বে উন্নত বাংলা'-র উদ্বোধন করবেন জাতীয় মহিলা কমিশনের চেয়ারপার্সন। একই দিনে কলকাতার পুলিশ ট্রেনিং স্কুল (PTS)-এ মহিলা জন শুনানি পরিচালনা করবেন। পরে রাজ্যের ডিজিপি ও শীর্ষ পুলিশ আধিকারিকদের সঙ্গে বৈঠকে নারী নির্যাতন সংক্রান্ত মামলার তদন্তের অগ্রগতি, নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং আইন প্রয়োগের বিভিন্ন দিক পর্যালোচনা করবেন।
সফরের শেষ দিন, ৭ অগাস্ট হাওড়ার শরৎ সদনে POSH (Prevention of Sexual Harassment) বিষয়ক প্রশিক্ষণ ও কর্মশালায় অংশ নেবেন তিনি। এরপর জেলা প্রশাসন ও পুলিশ আধিকারিকদের সঙ্গে বৈঠক করবেন। একই দিনে নিউ টাউনে বিএসএফের সাউথ বেঙ্গল ফ্রন্টিয়ার সদর দফতরে আয়োজিত মানবপাচার বিরোধী (Anti-Human Trafficking) কর্মশালাতেও বক্তব্য রাখবেন।
এই সফরের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ আকর্ষণ দুটি মহিলা জন শুনানি (Mahila Jan Sunwai)। প্রথমটি ৬ অগাস্ট সকাল ১০টা থেকে দুপুর ১টা ৩০ মিনিট পর্যন্ত কলকাতার PTS অডিটোরিয়ামে এবং দ্বিতীয়টি ৭ অগাস্ট সকাল ১০টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত হাওড়া জেলা শাসকের দফতরে অনুষ্ঠিত হবে। পশ্চিমবঙ্গে এই প্রথমবার জাতীয় মহিলা কমিশনের চেয়ারপার্সন নিজে এই জন শুনানি পরিচালনা করবেন। বিশেষভাবে জানানো হয়েছে, এই শুনানিতে ওয়াক-ইন অভিযোগও গ্রহণ করা হবে, ফলে কোনও মহিলা পূর্বনির্ধারিত আবেদন ছাড়াই সরাসরি কমিশনের কাছে অভিযোগ জানাতে পারবেন।
জাতীয় মহিলা কমিশনের মতে, এই সফরের মূল লক্ষ্য হল নারী নিরাপত্তা জোরদার করা, আইনি সচেতনতা বৃদ্ধি, দ্রুত বিচারপ্রাপ্তির সুযোগ সম্প্রসারণ এবং নারী সংক্রান্ত বিভিন্ন বিষয়ে প্রশাসনের বিভিন্ন স্তরের মধ্যে সমন্বয় আরও শক্তিশালী করা। পাশাপাশি, সাধারণ মহিলাদের অভিযোগ সরাসরি শোনার মাধ্যমে সমস্যার দ্রুত সমাধানের দিকেও বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হবে।

