মঙ্গলবার সকালে এনডিএ-এর বৈঠকে যাননি। এনসিপিআই-এ যোগ দেওয়া মুর্শিদাবাদ জেলার তিন সাংসদের এই সিদ্ধান্তে দিল্লির রাজনৈতিক মহলে শোরগোল পড়ে গিয়েছিল। তৃণমূল ছেড়ে এনসিপিআই-তে যাওয়া আবু তাহের, খলিলুর রহমান জানিয়ে দেন, তাঁরা এনসিপিআই-তে থাকলেও এনডিএ-এর সঙ্গে নেই। বিজেপি-কেও সমর্থনের প্রশ্ন নেই।
খলিলুর, আবু তাহেরের সঙ্গে একই সিদ্ধান্ত নেন বহরমপুরের তারকা সাংসদ ইউসুফ পাঠানাও।
মুর্শিদাবাদ জেলার তিন সাংসদের এই সিদ্ধান্তে চরম অস্বস্তিতে পড়ে এনসিপিআই নেতৃত্বও। সূত্রের খবর, এনসিপিআই-এর তিন সাংসদের এই আচরণ যে এনডিএ-এর পক্ষেও অস্বস্তিকর, সেই বার্তা ইতিমধ্যেই এনসিপিআই নেতৃত্বের কাছেও পৌঁছে গিয়েছে।
তবে এনডিএ-এর বৈঠকে না গেলেও তার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই দিল্লিতে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে বৈঠকে যোগ দিলেন মুর্শিদাবাদের এই তিন সাংসদই। এনসিপিআই নেতৃত্বের অবশ্য দাবি, তাঁরা সবাই একজোট হয়েই আছেন। তবে এরই মধ্যে এনসিপিআই-তে যোগ দেওয়া বীরভূমের সাংসদ শতাব্দী রায় স্বীকার করে নিয়েছেন, মুর্শিদাবাদের এই তিন সাংসদের হয়তো কিছু বাধ্যবাধকতা আছে।
এনডিএ-এর বৈঠকে না, শুভেন্দুর বৈঠকে হাজির
এনডিএ-এর বৈঠকে যোগ না দিলেও বঙ্গ ভবনে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর বৈঠকে কেন তাঁরা যোগ দিলেন, তার ব্যাখ্যা দিয়েছেন মুর্শিদাবাদের সাংসদ আবু তাহের। তাঁর দাবি, উনি আমাদের রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী। রাজ্যের উন্নয়ন নিয়েই তিনি এ দিনের বৈঠক ডেকেছিলেন। তাই আমরা এই বৈঠকে যোগ দিয়েছি।
তবে মঙ্গলবারের এই ঘটনার পর স্বভাবতই এনসিপিআই-এর অন্দরে মতানৈক্য দেখা দিয়েছে কি না, তা নিয়ে রাজনৈতিক মহলে জোর চর্চা শুরু হয়েছে। যদিও শতাব্দী রায়, রচনা বন্দ্যোপাধ্যায়রা দাবি করেছেন, এনসিপিআই-তে যোগ দেওয়া ২০ জন সাংসদই একজোট আছেন। তবে মুর্শিদাবাদের তিন সাংসদকে নিয়ে শতাব্দী রায়ের তাৎপর্যপূর্ণ মন্তব্য, হয়তো ওদের কিছু বাধ্যবাধকতা আছে। সেটা মুখ্যমন্ত্রীও বুঝতে পেরেছেন।

