কাঠমান্ডু:নেপালে ভয়াবহ বন্যা ও ভূমিধসে মৃতের সংখ্যা ১,১২৭ ছাড়িয়েছে। এখনও নিখোঁজ রয়েছেন প্রায় ৪,৮৫৮ জন। এই ভয়াবহ পরিস্থিতিতে দ্রুত ত্রাণ ও উদ্ধারকাজে সহযোগিতার জন্য ভারত ও চিনকে ধন্যবাদ জানালেন নেপালের প্রধানমন্ত্রী বালেন শাহ।
নেপালের সংসদে বক্তব্য রাখতে গিয়ে শাহ বলেন, এত বড় প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক সাহায্য প্রত্যাখ্যান করার কোনও প্রশ্নই ওঠে না।
দ্রুত সাহায্য পাওয়ার জন্য বিভিন্ন দেশের সঙ্গে সমন্বয় করা হয়েছিল বলেও জানান তিনি। নেপালের প্রধানমন্ত্রীর কথায়, "আমাদের বন্ধুত্বপূর্ণ দেশ চিন ও ভারত প্রযুক্তিবিদ পাঠিয়েছিল। প্রথম দিন থেকেই তাঁরা ক্ষতিগ্রস্ত এলাকার পরিস্থিতি বুঝতে আকাশপথে নজরদারিসহ বিভিন্ন ধরনের সমীক্ষা চালিয়েছিলেন। কোথায় কতটা ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে এবং দুর্গম এলাকায় পৌঁছনো সম্ভব কি না, তা খতিয়ে দেখা হয়েছিল।"
তিনি আরও জানান, পরিস্থিতি কিছুটা অনুকূল হতেই ভারতীয় প্রযুক্তিবিদরা দুর্গম এলাকাগুলিতে পৌঁছতে সক্ষম হন। বালেন শাহ বলেন, পরিস্থিতি ছিল অত্যন্ত কঠিন। বন্যার পর এলাকায় এত বেশি কাদা ও পলি জমেছিল যে সেখানে শুধু খননযন্ত্র বা এক্সকাভেটরই নয়, নেপালের সেনাবাহিনী এবং সশস্ত্র পুলিশ বাহিনীর সদস্যদের দাঁড়ানোর জায়গাও ছিল না।
নেপালে বাড়ছে মৃত ও নিখোঁজের সংখ্যা
গত সপ্তাহে ভয়াবহ বন্যায় নেপালের রসুয়া এলাকা বিপর্যস্ত হয়। ভোতে কোশি নদীর জল ঢুকে পড়ে বিস্তীর্ণ এলাকায়। বুধবার পর্যন্ত পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, বন্যা ও ভূমিধসে মৃতের সংখ্যা বেড়ে হয়েছে ১,১২৭। নিখোঁজ রয়েছেন ৪,৮৫৮ জন। নেপালের নিরাপত্তা বাহিনী এখনও পর্যন্ত ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা থেকে ৬,৫৪১ জনকে উদ্ধার করেছে। অন্যদিকে, নিখোঁজদের সন্ধানে উদ্ধারকারী দলগুলি দ্রুত কাজ চালিয়ে যাচ্ছে।
এর আগে প্রধানমন্ত্রী বালেন শাহ জানিয়েছিলেন, গত সপ্তাহে ভোতে কোশি নদীর মাধ্যমে রসুয়ায় যে ভয়াবহ বন্যা ঢুকেছিল, তার পিছনে জলবায়ু পরিবর্তনের ভূমিকা রয়েছে। ভবিষ্যতে এমন বিপর্যয় মোকাবিলায় বিশ্বজুড়ে সমন্বিত দুর্যোগ মোকাবিলা ব্যবস্থা গড়ে তোলারও আহ্বান জানিয়েছিলেন তিনি।
নেপালের ত্রাণ ও উদ্ধারকাজে ভারতের বড় ভূমিকা
বিপর্যয়ের পরই নেপালের পাশে দাঁড়িয়ে বড় আকারে মানবিক ও প্রযুক্তিগত সহায়তা শুরু করে ভারত। উদ্ধারকাজে বিশেষ প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত টানেল-রেসকিউ দল, চিকিৎসক ও মেডিক্যাল টিম এবং ফরেন্সিক বিশেষজ্ঞদের পাঠানো হয়েছে। নিখোঁজ ও মৃতদের পরিচয় শনাক্ত করতেও বিশেষজ্ঞরা DNA পরীক্ষার সাহায্য নিচ্ছেন। নেপালে ত্রাণ ও উদ্ধারকাজ দ্রুত সম্পন্ন করতে নেপাল ও চিনের কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করছে ভারত সরকার। ভারতের বিদেশ মন্ত্রকে ২৪ ঘণ্টার কন্ট্রোল রুম চালু করা হয়েছে। একইসঙ্গে কাঠমান্ডু ও বেজিংয়ে ভারতীয় দূতাবাসেও ২৪ ঘণ্টার হেল্পলাইন চালু রয়েছে।
ভারতের তরফে এখনও পর্যন্ত চার দফায় জরুরি ত্রাণসামগ্রী পাঠানো হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে অস্থায়ী আশ্রয়ের সামগ্রী, কম্বল, হাইজিন কিট, সৌরবিদ্যুৎচালিত আলো এবং ওষুধ। এছাড়াও টানেল উদ্ধারকারী দল, চিকিৎসক এবং বিশেষায়িত চিকিৎসা পরিষেবার জন্য প্রয়োজনীয় দল মোতায়েন করেছে ভারত। ভারতের বিদেশ মন্ত্রকের তথ্য অনুযায়ী, ভয়াবহ বন্যার পর নেপাল থেকে অন্তত ১৬৩ জনকে উদ্ধার করা হয়েছে। পাশাপাশি ৭০ টনেরও বেশি ত্রাণসামগ্রী নেপালে পৌঁছে দিয়েছে ভারত। এর মধ্যে রয়েছে কম্বল, স্লিপিং ব্যাগ, ত্রিপল, প্লাস্টিকের শিট এবং হাইজিন কিট।
নেপালের এই ভয়াবহ বিপর্যয়ের সময়ে ভারত ও চিনের দ্রুত সহযোগিতাকে বিশেষভাবে গুরুত্ব দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী বালেন শাহ। তাঁর বক্তব্যে স্পষ্ট, দুর্গম ও কঠিন পরিস্থিতিতেও আন্তর্জাতিক সহযোগিতা উদ্ধার ও ত্রাণকাজে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।

