কলকাতা:জাপানের বহুজাতিক শিল্পগোষ্ঠী মিৎসুবিশি পশ্চিমবঙ্গে সেমি কন্ডাক্টর হাব বা উৎপাদন কেন্দ্র গড়তে প্রবল আগ্রহ দেখিয়েছে। নবান্নে রাজ্যের শিল্প ও অর্থমন্ত্রীর সাথে অনুষ্ঠিত প্রাথমিক বৈঠকে তারা এই পরিকল্পনার কথা জানিয়েছে বলে সূত্রের খবর। কারখানাটির জন্য রাজ্য সরকার প্রাথমিকভাবে দুর্গাপুর বা পানাগড়ে জমি প্রস্তাব করেছে।
বৈঠক ফলপ্রসূ জানিয়ে শিল্পমন্ত্রী তাপস রায় বলেছেন, ''মিৎসুবিশি গোষ্ঠী রাজ্যে বিনিয়োগে আগ্রহী বলে আমাদের জানিয়েছে। তারা জানিয়েছে, সেমি কন্ডাক্টর হাব গড়তে চায়। এ ক্ষেত্রে প্রথম বৈঠক কার্যকরী হয়েছে। আমি এবং অর্থমন্ত্রী দু'জনেই আশ্বাস দিয়েছি, সব রকম সাহায্য করা হবে। আমরা অতীত ভুলে সামনে দিকে এগিয়ে যেতে চাই।''
চলতি মাসেই মিৎসুবিশির একটা প্রতিনিধি দল রাজ্যে আসতে চলেছে। তাদেরকে নিয়ে বেশ কয়েকটি জায়গা পরিদর্শন করবে রাজ্য। রাজ্যের শিল্পমন্ত্রী তাপস রায় জানিয়েছেন, প্রত্যেকেই বৈঠক নিয়ে খুশি। রাজ্যে বিনিয়োগের প্রভূত সম্ভাবনা আছে। এটাকে মাথায় রেখেই আমরা প্রস্তুত হচ্ছি। যাতে সবাই আসেন। জমি থেকে শিল্প বান্ধব পরিবেশ সবটাই এই রাজ্যে আছে। আমরা সমস্ত ধরনের সহযোগিতা করতে প্রস্তুত।
সূত্রে খবর, শুভেন্দু সরকারের আমলে রাজ্য সরকারের শিল্প নীতির পাশাপাশি, জমি নীতি, জমি অধিগ্রহণ নীতি, বিদ্যুৎ সংযোগের বিষয়, শ্রম আইন-সহ বেশ কিছু বিষয় মিৎসুবিশির কর্তারা রাজ্যের দুই মন্ত্রীর কাছে জানতে চান।
আমূল-এর বিনিয়োগের প্রস্তাব এসেছে আগেই
পশ্চিমবঙ্গে প্রায় ৬৫০ কোটি টাকা বিনিয়োগ করে মেগা প্রকল্প আনতে চলেছে দেশের স্বনামধন্য দুগ্ধ উৎপাদক সংস্থা আমূল (Amul)। নবান্নে আমূল গোষ্ঠীর শীর্ষ আধিকারিকদের সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকও করেছেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। বিনিয়োগ সংক্রান্ত এই আলোচনা যে অত্যন্ত ফলপ্রসূ হয়েছে তাও জানিয়েছিলেন তিনি।
সোশ্য়াল মিডিয়ায় শুভেন্দু লিখেছিলেন, 'সোশ্যাল মিডিয়ায় তিনি লেখেন, "নবান্নে গুজরাট কো-অপারেটিভ মিল্ক মার্কেটিং ফেডারেশন (GCMMF) এর সম্মানীয় ম্যানেজিং ডিরেক্টর শ্রী জয়েন মেহতা মহোদয় এবং কায়রা ডিস্ট্রিক্ট কো-অপারেটিভ মিল্ক প্রডিউসার্স ইউনিয়ন তথা আমূল ডেয়ারির কর্ণধার শ্রী অমিত ব্যাস মহোদয়ের সাথে সৌজন্য সাক্ষাৎ এবং এক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে অংশগ্রহণ করলাম। আগামীদিনে পশ্চিমবঙ্গে আমূলের মতো বৃহৎ, স্বনামধন্য সংস্থার বিনিয়োগ ও ব্যবসা সম্প্রসারণ রাজ্যের অর্থনৈতিক উন্নয়ন, কর্মসংস্থান বৃদ্ধি এবং দুগ্ধশিল্পের বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে'।

