কলকাতা:ভোটের আগে ভাঙড়ের বামুনিয়ায় বিস্ফোরণের ঘটনা়র তদন্তে বৃহস্পতিবার সাত সকালেই রাজ্যের প্রাক্তন তৃণমূল বিধায়ক শওকত মোল্লার বাড়িতে হানা দিল এনআইএ-র বিশেষ দল। যদিও সূত্রের খবর, এদিন বাড়িতে ছিলেন না শওকত মোল্লা। তাঁর ছেলে ইমরানকে নিয়েই স্থানীয় এলাকার একাধিক জায়গায় যান তদন্তকারীরা।
শওকত মোল্লার স্ত্রী, মেয়ে জীবনতলার বাড়িতে ঢোকার চেষ্টা করলে তাঁদের আটকানো হয় বলে জানা গিয়েছে। পরে তাঁদের ঢুকতে দেওয়া হয়। যদিও শওকত মোল্লার মেয়েকে নিয়ে তাঁর গাড়ি তল্লাশি করেন এনআইএ-র আধিকারিকেরা।
এদিন শওকত মোল্লার জীবনতলার বাড়িতে তল্লাশি চালানোর পরে শওকতের ছেলেকে নিয়ে একটি ক্যাফেতে যান এনআইএ তদন্তকারীরা। নাম 'ক্যাফে অরণ্যের কূলে'। শওকত মোল্লার ছেলে ইমরান মোল্লার আলিশান ক্যাফে। চারদিকে ভেরি তার মাঝে ক্যাফে। শওকত মোল্লার খোঁজেই তাঁর ছেলেকে সঙ্গে নিয়ে এখানে পৌঁছয় NIA-র আধিকারিকেরা। পরে তাঁকে আটক করা হয়। স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, বর্তমানে যেখানে ক্যাফে রয়েছে, সেটা আগে নদী ছিল। বেআইনিভাবে তা ভরিয়ে নির্মাণ করা হয়েছে ওই ক্যাফে। শওকতের বিরুদ্ধে মাছ চুরি করেই বিশাল সম্পত্তি বানানোর অভিযোগ তোলেন স্থানীয়েরা।
কলকাতা পুলিশের ভাঙর ডিভিশনের মোট চারটি জায়গায় এদিন তদন্ত চালান এনআইএর আধিকারিকেরা। বিজয়গঞ্জ বাজার থানার বামুনিয়ায় যে এলাকায় বিস্ফোরণ ঘটেছিল সেই এলাকার দুটি জায়গাতে NIA টিম যায়। অন্যদিকে, ভাঙড় থানার নলমুড়ি এলাকায় অ্যাম্বুলেন্স চালক সুরাজ মোল্লার বাড়িতে যায়। এর পাশাপাশি বোমা বাঁধার সঙ্গে যুক্ত উত্তর কাশীপুর থানার রঘুনাথপুর গ্রামের এক যুবকের বাড়িতে যায় বিজয়গঞ্জ বাজার থানার পুলিশ।
এই বোমা বাঁধার কাজে মূল মাস্টারমাইন্ড হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে অহিদুল ইসলামকে। অহিদুল ইসলাম সবাইকে সংগঠিত করে এই বোমা বাঁধার কাজ চালাচ্ছিল। তাঁর বাড়িতে একদিকে যেমন NIA তদন্তকারী অফিসাররা তল্লাশি অভিযান চালায়। তাঁরই পাশাপাশি বিস্ফোরণের পরে আহতদেরকে সরিয়ে নিয়ে যাওয়ার কাজে সাহায্য করেছিল স্থানীয় এক যুবক, তাঁর বাড়িতেও এনআইএ টিম তদন্ত চালায়। প্রায় চার ঘণ্টা ধরে তদন্ত চালিয়ে তাঁরা বিজয়গঞ্জ বাজার থানায় আসেন। তল্লাশি অভিযান চালিয়ে বেশকিছু নথি উদ্ধার করে বলে NIA সূত্রে খবর।
শওকত মোল্লার বিরুদ্ধে তীব্র ক্ষোভ উগড়ে দিয়ে স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, ''আগে মাছ চুরি করতো এখন এতো সম্পতি। সব বেআইনি ভাবে জমি বিক্রি করেছে। ভোটের ফলাফল ঘোষণার দু- দিন পর এই ক্যাফেতে দেখা গেছিল শওকত মোল্লাকে।''
ক্যাফের পাশেই আবু জাফফর মীর (ক্যানিং ২, পঞ্চায়েত, সহ সভাপতি) বাড়ি। ক্যাফেতে যাওয়ার পরে সেখানেও নিয়ে আসা হয় ইমরানকে।
ভোটের আগে দক্ষিণ বামুনিয়ায় বিস্ফোরণ। পরিত্যক্ত বাড়িতে বোমা বাঁধতে গিয়ে এই বিস্ফোরণ ঘটে। গত ১৮ মার্চ গভীর রাতে বিস্ফোরণে মারা যান ১ জন। সেই তদন্তেই প্রাক্তন তৃণমূল বিধায়কের বাড়িতে NIA বলে সূত্রের খবর।
দক্ষিণ ২৪ পরগণার ভাঙড় এলাকায় বিধানসভা নির্বাচনের আগে বোমা বাঁধতে গিয়ে বিষ্ফোরণে মৃত্যু হয় দেগঙ্গা থানার গাংনীয়া গ্ৰামের তৃণমূলের বুথ সভাপতি মসিউর রহমানের। মসিউর রহমানের ছিন্নভিন্ন মৃতদেহ হাড়োয়া এলাকার একটি মেছো ভেরির পাশ থেকে উদ্ধার করে হাড়োয়া থানার পুলিশ। ঘটনার তদন্তভার নেয় এনআইএ।
তদন্তে উঠে আসে মসিউর ছাড়া উপস্থিত ছিল মসিউর রহমানের পাড়ার বাসিন্দা সুজয় মন্ডল এবং কাবির মোল্লা।ঘটনার কয়েকদিন পরে আহত অবস্থায় সুজয় মন্ডলকে গ্ৰেফতার হয়। খোঁজ পাওয়া যায়নি অন্য অভিযুক্ত কাবির মোল্লার। মঙ্গলবার সাত সকালে এনআইএর তিনটি দল পৃথক ভাবে অভিযুক্তদের বাড়িতে তল্লাশি এবং জিজ্ঞাসাবাদ করছে এন আই এ আধিকারিকরা। সাথে আছে কেন্দ্রীয় বাহিনী ও দেগঙ্গা থানার পুলিশ।

