নয়াদিল্লিঃআমেরিকা ও ভারতে ওরাকলের হাজার হাজার কর্মী ১ সেপ্টেম্বর নতুন করে ছাঁটাইয়ের আশঙ্কায় ছিলেন। ম্যানেজারদের সম্ভাব্য ছাঁটাইয়ের জন্য কর্মীদের ভূমিকা চিহ্নিত করতে বলা হয়েছিল বলে রিপোর্ট প্রকাশ্যে আসার পর থেকেই উদ্বেগ তৈরি হয়েছিল। তবে, ১ সেপ্টেম্বর সকাল ৬টার দিকে প্রত্যাশিত কোনও টার্মিনেশন ই-মেল কর্মীদের কাছে পৌঁছয়নি।
১ সেপ্টেম্বর ছিল ওরাকলের দ্বিতীয় অর্থবর্ষের প্রথম দিন। ফলে ওই দিন থেকেই নতুন ছাঁটাই কার্যকর হওয়ার সম্ভাবনা নিয়ে কর্মীদের মধ্যে জল্পনা ছিল। কিন্তু ছাঁটাই না হওয়ায় কর্মীদের মধ্যে আরও অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে-ছাঁটাই কি পিছিয়ে দেওয়া হয়েছে, নাকি সংস্থা এই পরিকল্পনা বাতিল করেছে, তা স্পষ্ট নয়। নতুন করে চাকরি কমানোর বিষয়ে এখনও প্রকাশ্যে কোনও ঘোষণা করেনি ওরাকল।
গত মাসে Business Insider-এর একটি প্রতিবেদনে এই সম্ভাব্য ছাঁটাইয়ের কথা উঠে আসে। সংস্থার অভ্যন্তরীণ নথি এবং বিষয়টি সম্পর্কে অবহিত ব্যক্তিদের উদ্ধৃত করে প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল, খরচ কমাতে ওরাকলের ম্যানেজারদের এমন কর্মীদের তালিকা তৈরি করতে বলা হয়েছে, যাঁদের পদ তুলে দেওয়া হতে পারে। কোনও কোনও টিমে ছাঁটাইয়ের হার দুই অঙ্কে পৌঁছতে পারে বলেও রিপোর্টে দাবি করা হয়েছিল।
১ সেপ্টেম্বর ঘিরেই ছিল নজর
ওরাকলের দ্বিতীয় অর্থবর্ষ শুরু হওয়ায় ১ সেপ্টেম্বর দিনটি কর্মীদের কাছে বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছিল। রিপোর্ট অনুযায়ী, এই সময়ের মধ্যে সংস্থার বেতন খরচ কমানোর পরিকল্পনা বাস্তবায়নের প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছিল।
এর আগে মার্চ মাসে ছাঁটাইয়ের সময়ও কর্মীদের ভোরে ই-মেল পাঠানো হয়েছিল বলে রিপোর্ট প্রকাশ্যে এসেছিল। সকাল ৬টা নাগাদ অনেক কর্মী টার্মিনেশন ই-মেল পেয়েছিলেন। সেই ই-মেলে জানানো হয়েছিল, বৃহত্তর সাংগঠনিক পরিবর্তনের অংশ হিসেবে তাঁদের পদ বাতিল করা হয়েছে এবং ওই দিনই তাঁদের শেষ কর্মদিবস।
তাই ১ সেপ্টেম্বরও একই ধরনের ই-মেলের আশঙ্কায় ছিলেন কর্মীরা। কিন্তু সেরকম কোনও বার্তা না আসায় তাঁরা অভ্যন্তরীণ যোগাযোগ ব্যবস্থা এবং Slack-এর কার্যকলাপের উপর নজর রাখতে শুরু করেন।
ছাঁটাই কি পিছিয়ে যেতে পারে?
ওরাকলের কর্মীদের মধ্যে নতুন করে ছাঁটাই নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে অভ্যন্তরীণ এবং অনলাইন বিভিন্ন ফোরামে। কেউ কেউ মনে করছেন, ছাঁটাই পিছিয়ে গিয়ে সেপ্টেম্বরের পরবর্তী সময়ে হতে পারে। আমেরিকা ও ভারতের কর্মীরাও Slack সদস্যপদ এবং অন্যান্য অভ্যন্তরীণ সিস্টেমে পরিবর্তন লক্ষ্য করছেন। তবে শুধুমাত্র এই ধরনের পরিবর্তন দেখে ছাঁটাই হচ্ছে বলে নিশ্চিত হওয়া যায় না।
নতুন করে কর্মী ছাঁটাইয়ের বিষয়ে ওরাকল এখনও কোনও নির্দিষ্ট সময়সূচি প্রকাশ করেনি। তার উপর বিভিন্ন টিমে ছাঁটাইয়ের হার আলাদা হতে পারে বলে আগের রিপোর্টে দাবি করা হয়েছিল। ফলে কোনও নির্দিষ্ট বিভাগ ছাঁটাইয়ের আওতায় পড়েছে কি না, তা নিয়েও কর্মীদের মধ্যে স্পষ্ট ধারণা তৈরি হয়নি।
এক অর্থবর্ষেই কমেছে প্রায় ২১ হাজার কর্মী
নতুন করে সম্ভাব্য ছাঁটাইয়ের আশঙ্কা এমন সময়ে তৈরি হয়েছে, যখন ২০২৬ অর্থবর্ষে ইতিমধ্যেই ওরাকলের কর্মীসংখ্যায় বড় পতন হয়েছে।
ওরাকলের বার্ষিক প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের ৩১ মে শেষ হওয়া অর্থবর্ষে সংস্থার কর্মীসংখ্যা প্রায় ১.৬২ লক্ষ থেকে কমে প্রায় ১.৪১ লক্ষে দাঁড়িয়েছে। অর্থাৎ এক বছরে প্রায় ২১ হাজার কর্মী কমেছে। মার্চের সাংগঠনিক পুনর্গঠনের সময়ও একাধিক দেশে হাজার হাজার কর্মী ছাঁটাইয়ের নোটিস পেয়েছিলেন বলে রিপোর্টে দাবি করা হয়েছিল।
এখন ১ সেপ্টেম্বর ছাঁটাইয়ের ই-মেল না আসায় কর্মীদের মধ্যে সাময়িক স্বস্তি ফিরলেও, নতুন করে কর্মী কমানোর পরিকল্পনা আদৌ বাতিল হয়েছে কি না, তা এখনও স্পষ্ট নয়।

