নয়াদিল্লি: দেশের তরুণদের প্রশংসায় পঞ্চমুখ প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। শনিবার, প্রধানমন্ত্রী একটি অনুষ্ঠান থেকে বলেন, দেশের অগ্রগতির মূল চালিকাশক্তি হয়ে উঠেছে ভারতের যুবসমাজ। উৎপাদন শিল্প, অর্থনীতি থেকে শুরু করে মহাকাশ গবেষণা প্রতিটি ক্ষেত্রেই তরুণদের অবদান ভারতের সাফল্যের নতুন দিগন্ত খুলে দিয়েছে।
পাশাপাশি, শিক্ষা ও দক্ষতা উন্নয়নের উপর কেন্দ্রের জোরের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, দেশের সম্ভাবনাকে বাস্তবায়িত করতে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলির ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
কর্নাটকের মাইসুরুতে স্বামী বিবেকানন্দ সাংস্কৃতিক যুব কেন্দ্র (বিবেকানন্দ মেমোরিয়াল)-এর উদ্বোধন অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী শ্রী রামকৃষ্ণ আশ্রম এবং এই প্রকল্পের সঙ্গে যুক্ত সকল গবেষক ও কর্মীদের অভিনন্দন জানান। তিনি বলেন, "আজ স্বামী বিবেকানন্দ সাংস্কৃতিক যুব কেন্দ্র বা বিবেকানন্দ মেমোরিয়ালের উদ্বোধনের মাধ্যমে আমরা এই মহান আদর্শকে আরও এক নতুন মাত্রা দিলাম।"
'যুবশক্তিই ভারতের সবচেয়ে বড় শক্তি'
দেশ গঠনে যুবসমাজের ভূমিকার ওপর জোর দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, কোনও দেশের যুবকদের যদি সঠিক সুযোগ, সঠিক দিশা এবং বড় স্বপ্ন দেখার আত্মবিশ্বাস দেওয়া যায়, তাহলে সেই সম্ভাবনাই দেশের সবচেয়ে বড় শক্তিতে পরিণত হয়।
মোদির কথায়, "যুবকদের সঠিক সুযোগ, সঠিক দিকনির্দেশনা এবং নিজের মাটিতেই বড় স্বপ্ন পূরণের আত্মবিশ্বাস দিতে পারলে সেই সম্ভাবনাই দেশের শক্তিতে রূপান্তরিত হয়। আর এই ক্ষেত্রে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলির ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।" তিনি বলেন, 'আত্মনির্ভর ভারত' এবং 'মেক ইন ইন্ডিয়া'-র মতো কেন্দ্রের গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগগুলির সাফল্যের পিছনেও রয়েছে দেশের তরুণদের দক্ষতা ও পরিশ্রম।
বিশ্বের দরবারে ভারতের উত্থানের নেপথ্যে যুবসমাজ
প্রধানমন্ত্রী বলেন, বর্তমানে বিশ্বের বৃহৎ অর্থনীতিগুলির মধ্যে ভারতের অর্থনীতি সবচেয়ে দ্রুত বৃদ্ধি পাচ্ছে। এই সাফল্যের আসল চালিকাশক্তি দেশের যুবসমাজ। তিনি বলেন, "আজ বিশ্বের বড় অর্থনীতিগুলির মধ্যে ভারতের অর্থনীতি সবচেয়ে দ্রুত বৃদ্ধি পাচ্ছে। এই প্রবৃদ্ধির নেপথ্যে রয়েছে ভারতের যুবশক্তির প্রতিভা, সামর্থ্য ও সম্ভাবনা।" মোবাইল ফোন উৎপাদনের ক্ষেত্রেও ভারত আজ বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম উৎপাদক। এর কৃতিত্বও দেশের তরুণদেরই বলে উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রী।
মহাকাশ গবেষণায়ও নতুন নজির
মহাকাশ গবেষণার প্রসঙ্গ টেনে মোদি বলেন, ভারতের তরুণরা আরও একটি ঐতিহাসিক সাফল্য অর্জন করেছে।
তিনি বলেন, "প্রথমবারের মতো তরুণ ভারতীয়দের প্রতিষ্ঠিত ও পরিচালিত একটি বেসরকারি সংস্থার তৈরি রকেট সফলভাবে মহাকাশে পৌঁছেছে।" তাঁর দাবি, ভারতের যুবসমাজ এখন শুধু দেশের নয়, বিশ্ব অর্থনীতি ও প্রযুক্তিগত অগ্রগতিরও অন্যতম চালিকাশক্তি হয়ে উঠছে।
শিক্ষা ব্যবস্থার আধুনিকীকরণে জোর
শিক্ষাক্ষেত্রে কেন্দ্রের উদ্যোগের কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, স্কুলশিক্ষা থেকে উচ্চশিক্ষা-সব ক্ষেত্রেই আধুনিক পরিকাঠামো গড়ে তোলা হচ্ছে।
তিনি জানান, দেশজুড়ে ১৪ হাজারেরও বেশি PM SHRI স্কুল গড়ে তোলা হয়েছে, যাতে পাঠ্যবইয়ের গণ্ডি পেরিয়ে শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্ভাবনী চিন্তাভাবনা ও বৈজ্ঞানিক মানসিকতা গড়ে ওঠে। এই লক্ষ্যেই ১০ হাজারেরও বেশি অটল টিঙ্কারিং ল্যাব স্থাপন করা হয়েছে। এছাড়াও তিনি জানান, বর্তমানে দেশে ৮২৩টি মেডিক্যাল কলেজ রয়েছে।
মোদির বক্তব্য, "একদিকে যেমন আমরা শিক্ষা পরিকাঠামোকে আধুনিক করছি, তেমনই আধুনিক যুগের চাহিদার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে গোটা শিক্ষা ব্যবস্থাকেও রূপান্তরিত করা হচ্ছে।"
মাইসুরুর সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের প্রশংসা
মাইসুরুকে ভারতের চিরন্তন সাংস্কৃতিক চেতনার অন্যতম কেন্দ্র বলে উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, শহরের মন্দির, ঐতিহ্য, উৎসব, মাইসোর প্যালেস, মাইসুরু দশেরা, সঙ্গীত ও সাহিত্যচর্চা ভারতের সমৃদ্ধ সংস্কৃতির প্রতীক। একইসঙ্গে তিনি বলেন, রামকৃষ্ণ আশ্রম এবং স্বামী বিবেকানন্দের স্মৃতি মাইসুরুর পরিচয়ের অবিচ্ছেদ্য অংশ।
খেলাধুলার পরিকাঠামোতেও উন্নয়ন
খেলাধুলার প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী জানান, 'খেলো ইন্ডিয়া' প্রকল্পের মাধ্যমে দেশজুড়ে আধুনিক ক্রীড়া পরিকাঠামো গড়ে তোলা হচ্ছে। গ্রাম ও ছোট শহর থেকে নতুন প্রতিভা তুলে আনা হচ্ছে এবং আন্তর্জাতিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতায় ভারতের পারফরম্যান্সও ধারাবাহিকভাবে উন্নত হচ্ছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

