নয়াদিল্লিঃ দেশে নবায়নযোগ্য শক্তির উৎপাদন আরও বাড়াতে বড় সিদ্ধান্ত নিল কেন্দ্র। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সভাপতিত্বে কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভা 'প্রধানমন্ত্রী সূর্য সরোবর যোজনা' (PM-SSY)-র অনুমোদন দিয়েছে। এই প্রকল্পের লক্ষ্য, দেশের বিভিন্ন জলাধার, হ্রদ এবং অন্যান্য অভ্যন্তরীণ জলাশয়ের উপর ভাসমান সৌর বিদ্যুৎ (Floating Solar Photovoltaic বা FSPV) প্রকল্প গড়ে তোলা।
পাশাপাশি প্রতিটি প্রকল্পের সঙ্গে শক্তি সঞ্চয় ব্যবস্থা (Energy Storage System বা ESS) তৈরিরও পরিকল্পনা রয়েছে।
এই প্রকল্পের জন্য মোট ৫,০৭০ কোটি টাকা বরাদ্দ করেছে কেন্দ্র। সরকারের লক্ষ্য, এই প্রকল্পের মাধ্যমে ৫,০০০ মেগাওয়াট ভাসমান সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদন ক্ষমতা গড়ে তোলা। প্রতিটি প্রকল্পের সঙ্গে কমপক্ষে দুই ঘণ্টা বিদ্যুৎ সংরক্ষণে সক্ষম ব্যাটারি বা এনার্জি স্টোরেজ সিস্টেম থাকবে। এর ফলে মোট ১০,০০০ মেগাওয়াট-ঘণ্টা (MWh) শক্তি সঞ্চয়ের পরিকাঠামো তৈরি হবে।
সরকারি পরিকল্পনা অনুযায়ী, ২০২৬-২৭ অর্থবর্ষ থেকে ২০৩০-৩১ অর্থবর্ষ পর্যন্ত প্রকল্পগুলির অনুমোদন দেওয়া হবে। আর্থিক সহায়তা ২০৩২-৩৩ অর্থবর্ষ পর্যন্ত চালু থাকতে পারে।
ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অফ সোলার এনার্জি (NISE)-র সাম্প্রতিক সমীক্ষা অনুযায়ী, ভারতের বিভিন্ন জলাধার ও উপযুক্ত অভ্যন্তরীণ জলাশয়ে প্রায় ১০২.১৮ গিগাওয়াট (GWp) ভাসমান সৌরবিদ্যুতের সম্ভাবনা রয়েছে। বর্তমানে দেশে মাত্র প্রায় ৭০০ মেগাওয়াট ভাসমান সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনের সক্ষমতা রয়েছে। নতুন প্রকল্পের মাধ্যমে আরও ৫,০০০ মেগাওয়াট ক্ষমতা যুক্ত হলে দেশের নবায়নযোগ্য শক্তির ক্ষেত্রে বড় পরিবর্তন আসবে বলে মনে করছে কেন্দ্র।
এই প্রকল্পে সফলভাবে বিদ্যুৎ উৎপাদন শুরু হলে প্রতি মেগাওয়াটের জন্য ১ কোটি টাকা করে কেন্দ্রীয় আর্থিক সহায়তা (Central Financial Assistance) দেওয়া হবে। এছাড়া প্রকল্পের সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের জন্য, যেমন বাথিমেট্রি, হাইড্রোগ্রাফি, পরিবেশগত মূল্যায়ন এবং অন্যান্য প্রাথমিক সমীক্ষার জন্য প্রতিটি প্রকল্পে ৫০ লক্ষ টাকা পর্যন্ত আর্থিক সহায়তা দেওয়ারও সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
এই প্রকল্প দেশের সমস্ত রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলগুলির জন্য প্রযোজ্য হবে। সরকারের দাবি, এই প্রকল্পের মাধ্যমে প্রতি বছর প্রায় ১ কোটি টন কার্বন ডাই-অক্সাইড (CO₂) নির্গমন কমানো সম্ভব হবে। পাশাপাশি উৎপাদন, স্থাপন এবং পরিচালনার ক্ষেত্রে ১৬ হাজার থেকে ১৭ হাজার পূর্ণকালীন কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হবে।
এছাড়া বিদ্যুৎ সঞ্চয় ব্যবস্থার মাধ্যমে গ্রিডের নির্ভরযোগ্যতা বাড়বে, নতুন জমি অধিগ্রহণের প্রয়োজন ছাড়াই বিদ্যমান জলাধার ও শিল্পাঞ্চলের জলাশয় ব্যবহার করা যাবে। একই সঙ্গে 'আত্মনির্ভর ভারত' উদ্যোগের আওতায় ভাসমান প্ল্যাটফর্ম, সৌর মডিউল, পিভি সেল এবং শক্তি সঞ্চয় ব্যবস্থার দেশীয় উৎপাদনও উৎসাহিত হবে বলে কেন্দ্রের আশা।

