নয়াদিল্লি: প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি মঙ্গলবার ফের ভারতীয়দের সোনা কেনা থেকে বিরত থাকার আবেদন জানিয়েছেন। নিজের ইনস্টাগ্রাম পোস্টে এই বার্তা শেয়ার করেছেন তিনি।
ইনস্টাগ্রামে পোস্ট করা রিলে মোদি বলেন, "প্রয়োজন না থাকলে সোনাও কেনা উচিত নয়। আমরা যত বেশি স্বদেশির উপর জোর দেব, তত বেশি আত্মনির্ভরতার উপর জোর দেব।
আমার দৃঢ় বিশ্বাস, ভারত যখন স্বাধীনতার ১০০ বছর পূর্ণ করবে, তখন আমরা আমাদের তরুণ প্রজন্মের হাতে একটি উন্নত ভারত তুলে দিতে পারব।"
এই বছর দ্বিতীয়বার ভারতীয়দের সোনা না কেনার আবেদন জানালেন প্রধানমন্ত্রী। মে মাসে তিনি ভারতীয়দের এক বছরের জন্য সোনা কেনা বন্ধ করার আহ্বান জানিয়েছিলেন।
ভারতীয় পরিবারগুলির কাছে দীর্ঘদিন ধরেই সোনা অন্যতম নিরাপদ দীর্ঘমেয়াদি সম্পদ হিসেবে বিবেচিত। একইসঙ্গে প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে এর সঙ্গে সাংস্কৃতিক ও আর্থিক গুরুত্বও জড়িয়ে রয়েছে। আর সেই কারণেই প্রধানমন্ত্রীর এই মন্তব্য বিশেষভাবে নজর কেড়েছে। তবে বৃহত্তর সামষ্টিক অর্থনীতির দৃষ্টিকোণ থেকে দেখলে, এই আবেদন বিনিয়োগ নিরুৎসাহিত করার চেয়ে বিশ্বজুড়ে অনিশ্চয়তা বৃদ্ধির সময় ভারতের বৈদেশিক মুদ্রার ভাণ্ডার সুরক্ষিত রাখার উপরই বেশি জোর দেয়।
ভারত তার ব্যবহৃত সোনার বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠ অংশই আমদানি করে। দেশের অভ্যন্তরে উৎপাদিত পণ্যের মতো নয়, সোনা আমদানির জন্য বিদেশি মুদ্রায়, মূলত মার্কিন ডলারে অর্থপ্রদান করতে হয়। ফলে সোনার চাহিদা বাড়লে বৈদেশিক মুদ্রার বাজারে ডলারের চাহিদাও বেড়ে যায়। কারণ বিশ্ববাজারের সরবরাহকারীদের অর্থ মেটাতে ব্যাঙ্ক ও আমদানিকারকদের ডলার কিনতে হয়।
চিনের পর ভারত বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম সোনা ব্যবহারকারী দেশ। মূলত গয়না শিল্পের চাহিদার কারণেই সোনার আমদানি এত বেশি হয়।
প্রধানমন্ত্রীর এই আবেদনের পর গয়না সংস্থাগুলির শেয়ারে পতন দেখা যায়। টাইটান কোম্পানির শেয়ার ১.১২ শতাংশ কমে ৫,০৪৫.৫০ টাকায় নেমে আসে। অন্যদিকে, কল্যাণ জুয়েলার্সের শেয়ার ৪.৫০ শতাংশ পড়ে ৫৮৭ টাকায় দাঁড়ায়।

