কলকাতা: কথায় বলে, 'যে প্রেম নিষিদ্ধ, সে-প্রেম প্রসিদ্ধ'…পরকীয়া সম্পর্কে কেন মজেন মানুষ? কেন জেনে বুঝে চোরাবালির দিকে এগিয়ে যান? এর নির্দিষ্ট কোনও কারণ নেই! সেই ইতিহাসের যুগ থেকে পরকীয়া সম্পর্কের চর্চা! মানুষ জানেন ভুল করছেন, তবু অপ্রতিরোদ্ধ, অমোঘ হাতছানিতে এগিয়ে যান এক পা, এক পা করে…!
পরকীয়া শুরুতে যতটা উপভোগ্য, পরে ততটাই কষ্টের। বিশেষ করে মানসিক কষ্ট। এই সম্পর্কে জড়িয়ে পড়া যতটা সহজ, বার হওয়া ততটাই কঠিন।
যেমন রাহুল, তানিয়া আর গৌরবের জীবনের গল্প (নাম অপরিবর্তিত)। রাহুল আর তানিয়া ছোটবেলার বন্ধু। দু'জনের বিয়ে হয়। তাঁরা যতটা না প্রেমিক ছিলেন, তারচেয়ে বেশি বন্ধু। তানিয়ার বাড়ির সবার রাহুলকে পছন্দ ছিল। ধুমধাম করে বিয়েটা হয়ে গেল। বিয়ের পর ধীরে ধীরে বদলাতে থাকে রাহুল আর তানিয়ার সমীকরণ। রাহুল আর তখন 'রোম্যান্টিক নায়ক' নয়, কাঁধে সংসারের দায়িত্ব। তানিয়ারও অফিস-বাড়ি সামলে ল্যাজে-গোবরে অবস্থা। ধীরে ধীরে কমতে লাগল দু'জনের মধ্যেকার উষ্ণতা। রাহুল আজকাল তানিয়াকে বড্ড কম সময় দেয়। বেশিরভাগ সময় অফিসের কাজে ব্যস্ত থাকে। এইসময়েই সোশ্যাল মিডিয়ায় আচমকাই একদিন তানিয়ার আলাপ হল গৌরবের সঙ্গে। গৌরবই ফেসবুকে ফ্রেন্ড রিকোয়েস্ট পাঠিয়েছিল। ভদ্র, শিক্ষিত, সম্ভ্রান্ত ছেলে। দু-একদিন এড়িয়ে গেলেও শেষপযর্ন্ত গৌরবের সঙ্গে কথা বলে তানিয়া। এক, দুদিন, তিনদিন… কথা বলা বাড়তে লাগল। যে সময়টা রাহুল তাকে দিত না, সেই সময়টা দিতে শুরু করল গৌরব। কথা বলা থেকে দেখা করা, সিনেমা দেখা, বেড়াতে যাওয়া…বাড়তে লাগল সম্পর্কের পরিধি। তানিয়া বুঝতেই পারল না, কখন সে অর্ধেক চোরাবালিতে তলিয়ে গিয়েছে। যতক্ষণে তার সম্বিৎ ফিরল, ততক্ষণে বেশ দেরি হয়ে গিয়েছে! গৌরব তার অভ্যাস হয়ে দাঁড়িয়েছে। একদিকে তানিয়ার মনে রাহুল, অন্যদিকে গৌরব। সে রাহুলকে ছাড়তে পারবে না, গৌরবকেও ভুলতে পারছে না! কী করবে? পরকীয়া থেকে তো তাকে বেরিয়ে আসতেই হবে! নইলে বিয়ে ভাঙবে, ঘর ভাঙবে, সেটা তো চায়নি তানিয়া…তাহলে এখন কী করবে? কীভাবে বার হবে পরকীয়া সম্পর্ক থেকে?
Practical Philosopher Official-এর লাইফ কোচের মতে,পরকীয়া সম্পর্ক শুরু করা যতটা সহজ, ইতি টানা ততটাই কঠিন। প্রথমেই মনে আসে অপরাধবোধ! একদিকে নিজের স্বামীকে ঠকানোর অপরাধবোধ, অন্যদিকে, প্রেমিককে ছেড়ে দেওয়ার দ্বিধা-দ্বন্দ! কারণ আপনি ইতিমধ্যেই তাঁর সঙ্গে ইমোশনালি জড়িয়ে পড়েছেন। কাজেই পরকীয়া যেন শেষ হয়েও হতে চায় না! 'ইতি' টানার পরেও একটু-আধটু যোগাযোগ রয়েই যায়, যার থেকে আবার জন্ম নেয় 'বিষবৃক্ষ'! কাজেই পরকীয়া শেষ করার প্রথম শর্ত হল, সমস্তরকম যোগাযোগ বন্ধ করা।
আপনার প্রেমিক বা প্রেমিকার কাছে সবটা খুলে বলুন। জানান, আপনি সম্পর্ক রাখতে চান না। প্রয়োজন হলে ক্ষমা চেয়ে নিন, এতে আপনি ছোট হবেন না। কিন্তু ভুলেও আর যোগাযোগ রাখবেন না। মাথায় রাখবেন,সামান্য যোগাযোগ থেকেই শুরু হয়েছিল সম্পর্ক। অধিকাংশ পরকীয়ার সূচনা হয়, স্রেফ কথা বলার সঙ্গী হিসাবে। নিজের কথা শেয়ার করার জন্য।
আপনি সম্পর্ক থেকে বেরিয়ে আসতে চান, এ'কথা আপনার প্রেমিক বা প্রেমিকাকে জানানোর সময় ভয় পাবেন না, দুর্বল হয়ে পড়বেন না। শক্ত থাকুন। ঠান্ডা গলায় কথা বলুন।
আপনার স্বামী বা স্ত্রীর সঙ্গে কথা বলুন। চাইলে আপনার পরকীয়ার কথা স্বীকার করতে পারেন, নাও পারেন। কিন্তু মাথায় রাখবেন, আপনি পরকীয়ায় জড়িয়েছিলেন মানে, নিশ্চয়ই আপনাদের সম্পর্কে কোথাও একটা দূরত্ব তৈরি হয়েছিল। সেই দূরত্বটা নিয়ে কথা বলুন। ঠিক কোন জায়গায় ফাঁক থেকে গিয়েছিল, যেখানে তৃতীয় ব্যক্তি আসার সুযোগ পেল। সেই ফাঁকটা নিয়ে কথা বলুন।

