নয়াদিল্লি: সারা দুনিয়ার প্রশংসায় ভাসছে কিশোর প্রতিভা বৈভব সূর্যবংশী। কিন্তু এবার যাঁর মুখ থেকে প্রশংসা এল তার কাছ থেকে এক কুঁচি পজিটিভ শোনা মানেও সকলের জোশ হাই হয়ে যাওয়া। সেখানে সচিনের মুখ থেকে বৈভবকে নিয়ে এতগুলো শব্দ বলে দিলেন। 'বেবি বস' নামে পরিচিত বৈভব সূর্যবংশী তার বিস্ফোরক খেলা দিয়ে আলোড়ন সৃষ্টি করেছেন।
এমনকি বড় বড় নামও তার ব্যাটিং দেখে অবাক হন।
মাত্র ১৫ বছর বয়সে বিশ্ব ক্রিকেটে ঝড় তুলে বৈভব এখন ভারতীয় দলে প্রবেশের দোরগোড়ায়। আর হবেই বা না কেন? এমনকি ক্রিকেটের ঈশ্বর সচিন তেন্ডুলকরও স্বীকার করেন যে বৈভব একজন অসাধারণ খেলোয়াড়। সচিন যাঁকে ক্রিকেট ভগবান বলে মনে করে গোটা দুনিয়া তিনি আর পাঁচজনের থেকে একেবারে অন্যভাবে বিশ্লেষণ করে বুঝিয়ে দিলেন বৈভবের ব্যাটিং স্কিল। তিনি সূর্যবংশীর ব্যাটিংয়ের ভক্ত হয়ে উঠেছেন। তাই তিনি একটি অনুষ্ঠানে বৈভবের প্রশংসায় মাতেন। তিনি বলেন, 'বৈভব শুধু যেভাবে বল মারে সেটাই নয়, তাঁর কবজির কাজও চমকপ্রদ। এটাই কোনও ভাল ব্যাটারকে মাঠের যে কোনও দিকে বল মারতে সাহায্য করে। ও জাস্ট বলকে নক করছে নয়, ও বলের লাইন ও লেংথ বিচার করছে আর পাঁচজনের থেকে অনেক আগে।''
ইএসপিএনক্রিকইনফোর একটি শো-তে কথা বলতে গিয়ে সচিন বৈভব সম্পর্কে বলেন, "মাঠের সব দিকে খেলতে কব্জির ভালো সঞ্চালন প্রয়োজন, এবং সে বল খুব জোরে মারে না। সে স্লগার নয়। সে অন্য খেলোয়াড়দের আগে বলের লাইন ও লেন্থ বুঝতে পারে, যার ফলে সে সহজেই ছক্কা মারতে পারে।"
দেখে নিন বৈভব সূর্যবংশীকে নিয়ে কী বললেন সচিন
সচিন বৈভবকে টেস্টে খেলতে দেখতে চান।
বৈভব সূর্যবংশীর ভবিষ্যৎ প্রসঙ্গে সচিন বলেন, "শুধু আমি নই, সবাই তাকে কোনও এক পর্যায়ে টেস্ট ক্রিকেট খেলতে দেখতে চায়। আমি জানি না সেটা কবে হবে, কিন্তু একজন প্রতিভাবান খেলোয়াড়ের উৎসাহ প্রয়োজন, এবং সে যদি ভাল খেলে, তবে আমাদের তাকে উৎসাহিত ও সমর্থন করা উচিত।" সর্বোপরি, তাদের এটা বা ওটা খেলা উচিত কি না, কিংবা কোন দলে নির্বাচিত হওয়া উচিত-এসব নিয়ে ক্রমাগত চাপ না দিয়ে বরং তাদের খেলাটা উপভোগ করা উচিত। এই বিষয়গুলো দায়িত্বশীলদের ওপর ছেড়ে দিন।
আইপিএল ২০২৬-এ বৈভব ৭৭৬ রান করেছেন
আইপিএল ২০২৬-এ রাজস্থান রয়্যালসের হয়ে ইনিংস ওপেন করে দুর্দান্ত পারফর্ম করেছেন বৈভব সূর্যবংশী। এই মরশুমে বৈভব রাজস্থানের হয়ে ১৬ ম্যাচে ৭৭৬ রান করেছেন। এর মধ্যে রয়েছে পাঁচটি অর্ধশতক এবং একটি শতক। নকআউট পর্বের দুটি ম্যাচে বৈভব ৯৭ এবং ৯৬ রান করেন। এই দুটি ম্যাচ খেলতে না পারলে এই মরশুমে তিনি তিনটি শতরানের দরজায় দাঁড়িয়েও দু-তিন রানের জন্য সেঞ্চুরি মিস করেন।

