রাজস্থানের জয়পুরে সরকারি চাকরি ও পারিবারিক সম্পত্তির লোভে নিজের মাকে খুনের অভিযোগ উঠল ২৩ বছরের এক তরুণীর বিরুদ্ধে। পুলিশের দাবি, ঘটনাটিকে পথদুর্ঘটনা বলে দেখানোর জন্য অত্যন্ত পরিকল্পিতভাবে গোটা হত্যাকাণ্ড সাজানো হয়েছিল। ইতিমধ্যেই অভিযুক্ত মেয়ে-সহ একাধিক আত্মীয়কে গ্রেফতার করা হয়েছে।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, মৃতার নাম নীরজ শর্মা (৪৫)। তিনি জয়পুরের প্রতাপ নগর এলাকার রবীন্দ্র নগরের বাসিন্দা ছিলেন। প্রায় এক বছর আগে তাঁর স্বামীর মৃত্যু হয়। এরপর সহানুভূতিমূলক নিয়োগ (Compassionate Appointment) প্রকল্পের আওতায় তিনি সরকারি দফতরে লোয়ার ডিভিশন ক্লার্ক (এলডিসি) পদে চাকরি পান। তদন্তকারীদের দাবি, নীরজের মেয়ে আয়ুষী চেয়েছিলেন ওই সরকারি চাকরিটি তাঁর নামে হস্তান্তর হোক। কিন্তু নীরজ তাতে রাজি না হওয়ায় মা-মেয়ের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে অশান্তি চলছিল।
পুলিশের অভিযোগ, এরপর আয়ুষী তাঁর ছয় জন ঘনিষ্ঠ আত্মীয়ের সঙ্গে মিলে মাকে খুনের ষড়যন্ত্র করেন। পরিকল্পনা অনুযায়ী, গত ৩ জুলাই নীরজ শর্মাকে একটি গাড়ি দিয়ে ইচ্ছাকৃতভাবে ধাক্কা মারা হয়, যাতে ঘটনাটি সাধারণ সড়ক দুর্ঘটনা বলে মনে হয়।
তদন্তে আরও জানা গিয়েছে, অভিযুক্তরা আশা করেছিলেন যে দুর্ঘটনার ছদ্মবেশে হত্যাকাণ্ডটি ধামাচাপা পড়ে যাবে এবং তাঁদের বিরুদ্ধে কোনও সন্দেহ তৈরি হবে না। ঘটনার মোড় ঘুরে যায় যখন নীরজের ভাই রাজেশ তাঁর বোনের মৃত্যুকে ঘিরে সন্দেহ প্রকাশ করে পুলিশের দ্বারস্থ হন। তদন্ত চলাকালীন আয়ুষীর বক্তব্যে একাধিক অসঙ্গতি ধরা পড়ে। এরপর প্রমাণ সংগ্রহ ও জিজ্ঞাসাবাদের ভিত্তিতে পুলিশ নিশ্চিত হয় যে এটি কোনও দুর্ঘটনা নয়, বরং পূর্বপরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড।
পুলিশের দাবি, আয়ুষী তাঁর কাকা ও এক খুড়তুতো ভাইকে মাকে খুন করার জন্য ৭ লক্ষ টাকা দিয়েছিলেন। তদন্তে আরও জানা যায়, প্রায় ১৩০ কিলোমিটার প্রতি ঘণ্টা গতিতে ছুটে আসা একটি এসইউভি গাড়ি দিয়ে নীরজকে ধাক্কা মারা হয়। ধাক্কার জেরে তিনি প্রায় ১০০ ফুট দূরে ছিটকে পড়েন এবং ঘটনাস্থলেই তাঁর মৃত্যু হয়। এই ঘটনায় আয়ুষী-সহ ষড়যন্ত্রে জড়িত একাধিক আত্মীয়কে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। তবে এখনও এক অভিযুক্ত পলাতক। তাঁকে গ্রেফতারের জন্য তল্লাশি চালানো হচ্ছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

