ঈরণ রায় বর্মন, কলকাতা: সৌরাশিস লাহিড়ীর বিতর্কে মুখ খুললেন দেবাং গান্ধি ও অরুণলাল। বাংলার কোচ নিয়োগ সংক্রান্ত দায়িত্ব ছিল যে তিন সদস্যের কমিটির উপর, তাদের মধ্যে দু'জন হলেন দেবাং ও অরুণলাল। বাংলা ক্রিকেট দলের কোচিং প্যানেল থেকে বাদ পড়ার পর সোশ্যাল মিডিয়ায় বিস্ফোরক মন্তব্য করেন সৌরাশিস লাহিড়ী।
নাম না করে সিএবিকে এক হাত নেন তিনি। কোচ নিয়োগ পদ্ধতি নিয়েও সমালোচনা করেন। পরবর্তী সময়ে সংবাদমাধ্যমে একাধিক অভিযোগ করেন সৌরাশিস।
সৌরাশিসের অভিযোগ সামনে আসতেই এবার মুখ খুললেন প্রাক্তন দুই ভারতীয় ক্রিকেটার দেবাং গান্ধি ও অরুণলাল। নিউজ18 বাংলাকে দেবাং বলেন, ''সৌরাশিস কোথায় কী বলেছে জানি না। তবে কোচ হিসেবে সিলেক্ট না হতে পেরে যদি সিএবির বিরুদ্ধে সৌরাশিস মুখ খুলে থাকে সেটা ঠিক নয়। এই সংস্থার জন্যই আমরা ক্রিকেটার হতে পেরেছি। কোচ হতে পেরেছি। আমরা এটুকু বলতে পারি যোগ্যতা অনুযায়ী স্বচ্ছতার সঙ্গে কোচ নির্ধারণ করা হয়েছে। আট বছর ধরে কোচিং করিয়েছেন সৌরাশিস। শেষ পাঁচ বছরে কোনও সাফল্য নেই। আমরা তাই পরিবর্তনের পক্ষে ছিলাম। নতুনদের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। কোচ হিসেবে সৌরাশিস ভাল। তবে ওর থেকে অনেক ভাল প্রেজেন্টেশন দিয়েছেন বাকিরা।''

সৌরাশিস অভিযোগ করেছিলেন, ইন্টারভিউতে আহবান করে সিএবি যে চিঠি দিয়েছে তাদের প্রেজেন্টেশন দেওয়ার কথা কোথাও বলার ছিল না। তবে তিনি প্রেজেন্টেশন দিতে চেয়েছিলেন। কিন্তু ইন্টারভিউ রুমে কোনও পাওয়ার পয়েন্টের ব্যবস্থাও ছিল না। সৌরাশিসের এই অভিযোগ শুনে দেবাং আরও বলেন, "সৌরাশিস ইন্টারভিউ দিতে এসেছিল শুধু একটা ডায়রি নিয়ে আর ফোন নিয়ে। ওর আগে আরও তিনজন ইন্টারভিউ দিয়েছিল। তারা নিজেদের প্রস্তুতি নিয়ে এসেছিল। ল্যাপটপ নিয়ে আসে। নিজেদের কী প্ল্যানিং, সেটা সুস্পষ্টভাবে দেখিয়ে দেয়। আপনি চাকরির জন্য ইন্টারভিউ দিতে যাচ্ছেন, সেখানে বিনা প্রস্তুতিতে চলে যাবেন? সেখানে তো অনেক কিছু না-ও থাকতে পারে। কিন্তু আপনি যখন ইন্টারভিউ দিতে যাবেন, সেই প্রস্তুতি আপনাকেই নিয়ে যেতে হবে। আমরা সৌরাশিসের জায়গায় কাকে কোচ হিসাবে নিয়ে এসেছি? মনোজ তিওয়ারিকে। ঘরোয়া ক্রিকেটে যার দশ হাজারের উপর রান রয়েছে। আন্তর্জাতিক ক্রিকেট খেলেছে। বাংলা ক্রিকেটে মনোজের অবদান নিয়ে কেউ প্রশ্ন তুলতে পারবেন? সৌরাশিস তাহলে কী বলতে চাইছে? বাংলা ক্রিকেটে ওর অবদান শুধু রয়েছে। মনোজের কোনও অবদান নেই? প্রশ্ন উঠত, যদি আমরা অযোগ্য কাউকে কোচ নিয়োগ করতাম। সেটা তো হয়নি। সিনিয়র থেকে শুরু করে অনূর্ধ্ব ১৬ পর্যন্ত কোচের তালিকা দেখুন। সিনিয়রে লক্ষ্মীরতন শুক্লা, অনূর্ধ্ব তেইশে ঋদ্ধিমান সাহা, অনূর্ধ্ব উনিশে মনোজ তিওয়ারি। যাদের সবার আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের অভিজ্ঞতা রয়েছে। অনূর্ধ্ব ১৬-তে অনুষ্টুপ মজুমদারকে কোচ করা হয়েছে। অনুষ্টুপ ভারতীয় 'এ' দলের হয়ে খেলেছে। আগে কখনও এত ভালে বাংলার কোচিং প্যানেল হয়েছে? পুরোটাই হয়েছে স্বচ্ছভাবে। একটা নির্দিষ্ট প্রক্রিয়া মেনে। কোচেস কমিটি তৈরি হয়েছিল। বাংলা ক্রিকেটে যা আগে কখনও হয়নি। অরুণ লালের কোচিংয়েও বাংলা ফাইনাল খেলেছিল। তার পরের বছর ওঁকে সরে যেতে হয়েছিল। এটাই নিয়ম। কেউ সারাজীবন কোনও পদে থাকতে পারে না।''

সৌরাশিসের অভিযোগ শুনে বিরক্ত প্রকাশ করেন কোচ নির্বাচন কমিটিতে থাকা আরেক প্রাক্তন ভারতীয় ক্রিকেটার অরুণলালও। তিনি বলেন, ''একজন কোচ ছাড়া জীবন থেকে যেতে পারেন না। একটা সময়ের অন্য কেউ সুযোগ দিতে হয়। তবে সৌরাশিস আমার খুব কাছের। ওকে প্রচণ্ড ভালেবাসি। ও যে কথাগুলো বলেছে, সেটা প্রচণ্ড দুর্ভাগ্যের। আমার সঙ্গে যখন কাজ করেছিল ভালই কাজ করেছিল। ভাল কোচ। তবে ওকে এই অ্যাসোসিয়েশন অনেক সুযোগ দিয়েছে। সাত-আট বছর সুযোগ পেয়েছে। তাহলে? ওকে যদি কোচ করা হত, তাহলে কি এই কথাগুলো বলত? দায়িত্ব পেলে অ্যাসোসিয়শন ভালে। আর সুযোগ না পেলেই অ্যাসোসিয়েশন খারাপ হয়ে যায়? এটা সুবিধাবাদীর মতো কথা।"
পাশাপাশি সৌরাশিসের অভিযোগ ছিল, তাকে যদি কোচ হিসেবে আর না রাখা হয় সেটা সিএবি কেন ডেকে বলল না। স্পষ্টভাবেই যদি আগে জানিয়ে দেওয়া হতো তাহলে অন্য কোনও জায়গায় আবেদন করতে পারত। সৌরাশিসের এই যুক্তি শুনে অরুণলালের বক্তব্য, ''ইন্টারভিউতে যে চাকরি পায় তাকেই ফোন করে রাখা হয় এবং বলা হয় চাকরিতে জয়েন করার জন্য। যারা পায় না তাদের কি ফোন করে বলা আপনি ইন্টারভিউতে ব্যর্থ হয়েছেন এবং কেন ব্যর্থ হয়েছেন তার ব্যাখ্যা শুনুন? আসলে এটা হতে পারে না। লালজি আরও যোগ করে বলেন, আমি দেবাং, কল্যাণ সবার ইন্টারভিউ নেওয়ার পর যোগ্যদের তালিকা জমা দিয়েছি। তার থেকে সিএবি বেছে নিয়েছে। মাথায় রাখবেন সিএবির প্রধান পদে ভারতের সর্বকালের অন্যতম সেরা ক্রিকেটার সৌরভ রয়েছেন। তিনি বাংলা ক্রিকেটের সঙ্গে সেরা সিদ্ধান্তই নেবেন। আমরা তার সঙ্গে সহমত সব সময়।''

