শিলিগুড়ি: বছরের পর বছর ধরে বঞ্চিত থেকে গিয়েছে উত্তরবঙ্গ। কোনও উন্নয়ন হয়নি। বারবার বিজেপি নেতাদের মুখে শোনা গিয়েছে এই অভিযোগ। অনুনন্নয়নকেই 'ইস্যু' করে ধীরে ধীরে উত্তরবঙ্গকে নিজের শক্ত ঘাঁটিতে পরিণত করেছে বিজেপি। বঙ্গে বিজেপির ক্ষমতায় আসার পিছনেও উত্তরবঙ্গের ভোটব্যাঙ্কের অবদান কম নয়।
মানুষ যেমন গেরুয়া শিবিরে ভরসা রেখেছেন, তার প্রতিদানও একে একে দিতে শুরু করেছে বিজেপি। উত্তরবঙ্গ পেয়েছে ৭ মন্ত্রী, বিধানসভার স্পিকার এবং শাসকদলের চিফ হুইপ। মুখ্যমন্ত্রী হিসাবে দায়িত্ব নিয়েও একাধিক বার উত্তরবঙ্গে গিয়েছে শুভেন্দু। শুক্রবার উত্তরকন্যার বৈঠকে তিনি জানিয়ে দিয়েছেন, এবার থেকে প্রতি ১৫ দিন অন্তর তিনি উত্তরবঙ্গ নিয়ে বৈঠক হবে। এদিন পরিষদীয় মন্ত্রী শঙ্কর ঘোষও বলেন, বর্তমান সরকার ভরিয়ে দেবে উত্তরবঙ্গকে।
উত্তরকন্যায় কী বলেন শঙ্কর ঘোষ?
পরিষদীয় মন্ত্রীর কথায়, ''আগে উত্তরকন্যাকে ভুতুরে দফতর বলা হত। সচিবদের বসার জায়গা ছিল না। উত্তরকন্যা যে কারণে তৈরি করা হয়েছিল, অর্থাৎ উত্তরের মানুষকে দক্ষিণবঙ্গে যেতে না হয়। তা নিয়ে এবার নির্দেশিকা জারি করার নির্দেশ দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। প্রতিদিন বিভিন্ন দফতরের যুগ্ম সচিব পর্যায়ের কর্তারা থাকবেন। মালদায় রিজিওনাল উত্তরকন্যার দফতর হবে। মালদার গাজলে হবে, প্রাথমিকভাবে ঠিক হয়েছে।''
এছাড়া, শঙ্কর ঘোষ জানিয়েছেন প্রাকৃতিক বিপর্যয়ে যাতে সময় ৫০ জন এক্স আর্মি পাহাড়ে থাকবেন। ঠিক করেছেন মুখ্যমন্ত্রী। মান্থলি মনিটিরিং মিটিং হবে। আর্মি, বিএসএফ, পিডব্লুউডি, সেচ দফতরের কর্তারা থাকবেন। জেলাশাসকদের কাছ থেকে কী কী কাজ হয়েছে দূর্যোগ মোকাবিলায়, এদিন জানতে চেয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। সিভিল ডিফেন্সকে কিভাবে ব্যবহার করা যেতে পারে, তা নিয়ে আধিকারীকদের কাছে জানতে চেয়েছিলেন তিনি। শঙ্কর ঘোষ জানান, সব সরকারি গাড়িতে এবার থেকে স্পিডোমিটার থাকবে। রোড সেফটিকে গুরুত্ব দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।
কালীঘাট মমতা নিয়ে মন্তব্য
দায়িত্ব নেওয়ার পরে প্রথম বার উত্তরবঙ্গ সফরে গিয়েই মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী জানিয়ে দিয়েছিলেন, তিনি উত্তরবঙ্গে বেড়াতে আসবেন না। কাজ করবেন। এদিন খানিক সেই সুরেই শঙ্কর ঘোষ জানান, উত্তরবঙ্গের প্রতি মুখ্যমন্ত্রীর দায় এবং দায়িত্ব আছে। উত্তরের সরকারি বাংলোর চাবি এখনও কালীঘাটে আছে বলে দাবি করেছেন মুখ্যমন্ত্রী। দ্রুত সেগুলি খোলা হবে বলেও জানিয়েছেন তিনি।
তিনি জানান, অন্নপূর্ণা যোজনা নিয়ে কিছু অভিযোগ এসেছে। সেগুলি দ্রুত মেটানো হবে। রিলিফ ম্যাটেরিয়াল কয়েকগুণ বাড়ানো হয়েছে। ৮ জায়গায় স্টক করা হয়েছে। রাজ্য থেকে সাংসদদেরও রিলিফ ম্যাটেরিয়াল দেওয়া হবে। ১৫ দিনে একবার করে বৈঠকে বসবেন উত্তরবঙ্গ নিয়ে। দুই দিনাজপুর এবং মালদা নিয়ে তিন জেলার জন্যে উত্তরবঙ্গ উন্নয়ন দফতরের শাখা কার্যালয় হবে মালদার গাজোলে।

