সুবীর দে, কামারহাটি: প্রেমিক-প্রেমিকা নয়, বুধবার সকালে সোদপুরের রাস্তায় ছুরির আঘাতে রক্তাক্ত অবস্থায় উদ্ধার হওয়া যুগল সম্পর্কে স্বামী-স্ত্রী। বুধবার সকালের সোদপুরের ফিউচার গেট এলাকায় এক তরুণীর উপরে ছুরি নিয়ে হামলা চালায় এক যুবক। ছুরির আঘাতে ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয় সোদপুরেরই নাটাগড়ের মহেন্দ্রনগর এলাকার বাসিন্দা ৩৩ বছরের গীতা দাসের।
তরুণীকে ছুরি দিয়ে এলোপাথাড়ি কোপ মারার পর নিজেও ছুরি দিয়ে পেটে আঘাত করে আত্মঘাতী হওয়ার চেষ্টা করে অভিযুক্ত। গুরুতর আহত অবস্থায় ওই যুবককে সাগর দত্ত মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
প্রথমে পুলিশ মনে করেছিল, ওই যুগল হয়তো সম্পর্কে প্রেমিক-প্রেমিকা। কিন্তু পরে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন যুবকের জবানবন্দি নেওয়ার পর জানা যায় তাঁরা আসলে সম্পর্কে স্বামী- স্ত্রী। অভিযুক্ত ওই যুবকের পরিচয়ও জানতে পেরেছে পুলিশ। জানা গিয়েছে, নিজের স্ত্রীর উপরে হামলাকারী ওই যুবকের নাম সুভাষচন্দ্র দাস (৪৫)। তার বাড়ি উত্তর চব্বিশ পরগণার বসিরহাটের হাড়োয়া এলাকায়।
তদন্তকারীরা জানতে পেরেছেন, হাড়োয়ায় বাড়ি হলেও খড়দহ এলাকায় ৭৮/১ রুটের বাসচালক ছিল সুভাষ। সেই সূত্রেই এলাকার বাসিন্দা গীতার সঙ্গে পরিচয় হয় তার। বছর পাঁচেক আগে বিয়ে করে গীতা ও সুভাষ। দু জনের একটি কন্যাসন্তানও রয়েছে।
গীতার পরিবারের অভিযোগ, বিয়ের পর থেকেই স্ত্রীর উপরে শারীরিক এবং মানসিক নির্যাতন করত সুভাষ। স্বামীর বিরুদ্ধে ঘোলা থানায় অভিযোগও দায়ের করেছিলেন গীতা। পুলিশ অভিযুক্ত সুভাষকে গ্রেফতারও করেছিল। তাঁর বিরুদ্ধে পুলিশে অভিযোগ করায় স্ত্রীর উপরে সুভাষের আক্রোশ তৈরি হয়। জেল থেকে ছাড়া পেয়ে স্ত্রীর উপরে অত্যাচারের মাত্রাও বাড়িয়ে দেয় সুভাষ। গীতার পরিবারের সূত্রে খবর, মাঝেমধ্যে এসে স্ত্রীর সঙ্গে থাকলেও অধিকাংশ সময়ই বাড়ির বাইরেই থাকত সুভাষ।
বুধবার সকাল ফিউচার গেট এলাকায় কাজে যান গীতা। অভিযোগ, তখনই কথা বলবে বলে গীতাকে ডেকে আনে সুভাষ। এর পরই রাস্তার উপরে আচমকা স্ত্রীকে ছুরি দিয়ে কোপাতে শুরু করে সে। পথচলতি মানুষ বাধা দিতে গেলে তাঁদের উপরেও চড়াও হয় সুভাষ। শেষ পর্যন্ত নিজের পেটে আঘাত করে সে। রক্তাক্ত অবস্থায় রাস্তার উপরেই লুটিয়ে পড়ে দম্পতি। খবর পেয়ে খড়দহ থানার পুলিশ এসে তাঁদের উদ্ধার করে সাগর দত্ত হাসপাতালে নিয়ে যায়।

