বালুরঘাট: ইতিহাস ও ঐতিহ্যের জেলা দক্ষিণ দিনাজপুর। এই জেলার আনাচে কানাচে লুকিয়ে রয়েচে বহু প্রাচীন ইতিহাসের নিদর্শন। কুমারগঞ্জের সিদ্ধেশ্বরী রামেশ্বর ধাম তারই অন্যতম নিদর্শন। পাল বংশের স্মৃতি বুকে আঁকড়ে আজও দাঁড়িয়ে রয়েছে দক্ষিণ দিনাজপুর জেলার কুমারগঞ্জ ব্লকের ধাদলপাড়ায় বিদ্ধেশ্বরী রামেশ্বর ধাম।
এখানে ভগবান শিব 'রামেশ্বর' রূপে পূজিত হন। পাশেই রয়েছে দেবী 'সিদ্ধেশ্বরী'র অবস্থান। লোকমুখে ছড়াতে ছড়াতে এই স্থানের নাম হয়েছে সিদ্ধেশ্বরী রামেশ্বর ধাম। উঁচু ঢিবির উপর অবস্থিত শিব মন্দিরের নীচে চাপা পড়ে রয়েছে হাজার বছরের পুরনো এক মন্দিরের ধ্বংসাবশেষ। বিভিন্ন সময়ে মাটি খুঁড়তে গিয়ে প্রাচীন ইট, টেরাকোটার নকশা পাওয়া গিয়েছে। যা সাম্প্রতিক সময়ের নয়।
জেলার ইতিহাসবিদরা সেই সমস্ত ইট ও নকশা পর্যবেক্ষণ করে নিশ্চিত করেছে, ইটের গঠন কিংবা টেরাকোটার নকশা দেখে অনুমান করা যায় এগুলো হাজার বছরের পুরনো। পাল যুগের সময়ের। যা হিন্দু স্থাপত্যের এক অনন্য নিদর্শন।
আরও পড়ুনঃ কাঁকড়া ধরতে গিয়ে বাঘের মুখে! সঙ্গীকে বাঁচাতে ঝাঁপালেন মৎস্যজীবীরা, বাঁশ পেটা করে…! সুন্দরবনের জঙ্গলে ভয়ঙ্কর অভিজ্ঞতা
মহা শিবরাত্রি উপলক্ষ্যে ভক্তের ঢল নামে বিদ্ধেশ্বরী রামেশ্বর ধামে। এই সময়ে দক্ষিণ দিনাজপুর তো বটেই, এমনকি পার্শ্ববর্তী উত্তর দিনাজপুর এবং মালদহ থেকেও হাজার হাজার ভক্ত এখানে পুজো দিতে আসেন। চৈত্র সংক্রান্তির সময়েও দূরদূরান্ত থেকে অগণিত ভক্ত আসেন মন্দিরে। মন্দির ঘিরে স্থানীয় বাসিন্দাদের অপার ভক্তি শ্রদ্ধা রয়েছে। গাছপালায় ঘেরা মন্দিরের শান্ত পরিবেশ ভক্তি ও সাধনার ক্ষেত্রে।
মন্দির কমিটির সম্পাদক বিপ্লব মণ্ডল জানান, মন্দিরের বয়স হাজার বছরের বেশি। বহু বছর আগে বাবা রামেশ্বর এই শিব মন্দুরে পুজো করতেন। তাঁর মৃত্যুর পর মন্দিরের নাম হয় রামেশ্বর ধাম।

