কলকাতা:বর্ধমানের রেনেসাঁ উপনগরী আবাসন থেকে জঙ্গিযোগ সন্দেহে এসটিএফ-এর হাতে গ্রেফতার হয়েছে হামিম মণ্ডল। যুবকের গ্রেফতারির পর থেকে তাঁর পাক যোগ, প্রশিক্ষণ প্রসঙ্গ সব কিছুই সামনে আসছে। জানা গিয়েছে, একটি গেঞ্জি কারখানায় কাজ করত হামিম। সোমবার এসটিএফ যখন হামিমকে ধরতে আবাসনে পৌঁছয় তখন সে জিমে শারীরিক কসরত করছিল।
পুলিশ ঢোকে, হামিমকে ডাকে, হামিম মোবাইল ফোন ও ব্যাগ নিয়ে এগিয়ে যায় পুলিশের দিকে। এদিন হামিমকে তোলা হয় বর্ধমান আদালতে। তাকে ১৪ দিনের পুলিশি হেফাজতের নির্দেশ কোর্ট। 61,152 BNS ফরেনার্স এবং ইমিগ্রেশন ও মাইগ্রেশন অ্যাক্ট ও আইটি অ্যাক্ট-অধীনে অভিযোগ আনা হয়েছে।
হামিম মণ্ডলের বিরুদ্ধে কী অভিযোগ?
জানা গিয়েছে, নাশকতায় পাকিস্তানের আইএসআই এজেন্টের সঙ্গে যোগাযোগ ছিল এই হামিমের। সিক্রেট অ্যাপ-এর মাধ্যমে পাকিস্তানের সাথে হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে এবং এক্স-অ্যাকাউন্টে যোগাযোগ ছিল। শেষ তিন মাস ধরে বিভিন্ন পলিটিক্যাল বক্তব্য, সিকিওরিটি সিস্টেম সম্বন্ধে সেখানে জানাত সে।
অভিযোগ, আইএসআই এজেন্ট হিসেবে কর্মরত কিছু বিদেশি শত্রু ভাবাপূর্ণ শক্তির সঙ্গে সক্রিয়ভাবে গোপনে যোগাযোগ রাখত বর্ধমানের রেনেসাঁ উপনগরীর রোহিণী নয় নম্বর টাওয়ারের তৃতীয় তলা থেকে গ্রেফতার হওয়া মহম্মদ হামিম মণ্ডল ওরফে হামিম ফুয়েগো নামে এক বছর ২৪- এর যুবক। তার বিরুদ্ধে আন্তঃদেশীয় সীমান্ত অপরাধ ও গুপ্তচরবৃত্তি নেটওয়ার্ক চালানোর অভিযোগও রয়েছে।
এসটিএফ ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, অভিযুক্ত মহম্মদ হামিম মণ্ডল ওরফে হামিম ফুগেগো পাকিস্তান ভিত্তিক 'রানা' নামে এক নিয়ন্ত্রক ও তার সহযোগীদের সংস্পর্শে এসেছিলেন। যারা মূলত বৃহত্তর ভাবে ভারতের অপরাধমূলক ষড়যন্ত্র এবং অপরাধমূলক কার্যকলাপ সংঘটিত করা ও পরিচালনা করা ও নিয়ন্ত্রণ করার দায়িত্ব পালন করত।
ধৃতের রেনেসাঁর বাড়িতে তল্লাশি চালিয়ে পুলিশ একটি আইফোন এবং দুটি সিম উদ্ধার করে বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। একই সাথে সিক্রেট অ্যাপ্লিকেশন দ্বারা পরিচালিত এলিমেন্ট এক্স অ্যাকাউন্ট, টেলিগ্রাম এবং হোয়াটসঅ্যাপের চ্যাট নথি আকারে বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে।
রাজ্য এসটিএফ ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে,মহম্মদ হামিম মণ্ডল সহ এই নেটওয়ার্ক মূলত পাকিস্তান ভিত্তিক হ্যান্ডেলারদের দ্বারা পরিচালিত হত এবং যারা রাজ্য তথা দেশ জুড়ে এজেন্ট নিয়োগ,তাদের অস্ত্র সরবরাহ এবং সমভাবাপন্ন ব্যক্তিদের সংগঠিত করা, রাজ্য তথা দেশের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি ও গুরুত্বপূর্ণ স্থাপত্য ও তার নিরাপত্তা সংক্রান্ত গোপন তথ্য পাকিস্তান নিযুক্ত এজেন্টদের কাছে সরবরাহ করত এবং রাজ্য তথা ভারতের বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গদের হানিট্রাপ,অপহরণ, গোপনে হত্যা সহ জাতীয় নিরাপত্তা বিঘ্নিত হতে পারে এই ধরনের কর্মকাণ্ডের প্রস্তুতি এবং একই সাথে ভারতের সার্বভৌমত্ব,অখন্ডতা ও এক্যকে বিপন্ন করার মতো গুরুত্বপূর্ণ অপরাধমূলক কাজকর্ম করত।
হামিম মণ্ডল হাওড়ার বালির বিধায়ক উমেশ রাইয়ের পরিবারের এক সদস্যকে কিডন্যাপের চক্রান্ত করছিল। তদন্তকারীরা হামিম মণ্ডলের মোবাইলের হোয়াটসঅ্যাপ চ্যাট দেখে এই তথ্য পেয়েছে। মূলত, হামিম মণ্ডল প্রমাণ করতে মরিয়া হয়ে উঠেছিল যে সে জঙ্গিবাদী কার্যকলাপ করতে পারে। সাজ্জাদ ভাট গোষ্ঠীকে তার অস্তিত্ব প্রমাণে মরিয়া হয়ে উঠেছিল। যদিও বেঙ্গল এসটিএফ-এর তদন্তকারীরা কয়েকজনের পেছনে ফলো করছিল। ফলো করতেই এই তথ্য তাদের কাছে উঠে আসে। তারপর তারা ট্র্যাপ তৈরি করে হামিম মণ্ডলের জন্য।
কিন্তু উমেশ রাইয়ের পরিবার বা উমেশ রাই তারা নিজেও কিছু জানত না, এই সব বিষয়। হামিম মণ্ডল দু'তিনজন যুবককেও নিজের কাছে টানার চেষ্টা করেন। হোয়াটসঅ্যাপ চ্যাট থেকে এই তথ্য তদন্তকারীরা পেয়েছে। যদিও হামিম মণ্ডল বারবার বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করছেন তদন্তকারীদের।
অন্যদিকে, মুখ্যমন্ত্রীর লোকেশন সংক্রান্ত তথ্য whatsapp থেকেই পাওয়া গেছে। তিনি বিভিন্ন সময় এই ধরনের তথ্য পাঠিয়ে নিজেকে প্রমাণ করতে মরিয়া হয়ে উঠেছিলেন যে তিনি জঙ্গিবাদী কাজ-কলাপ বা সন্ত্রাসবাদী কার্যকলাপ করতে পারেন। তার কাছে মুখ্যমন্ত্রী যাতায়াতের বিভিন্ন তথ্য রয়েছে বলেও হোয়াটসঅ্যাপ করে বিভিন্ন সময় এই জঙ্গি গোষ্ঠীর কাছে তথ্য পাঠাতেন।
হামিম মণ্ডল গ্রেফতার হওয়ার পর মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী নবান্নে উচ্চ পর্যায়ের বৈঠক করেন রাজ্য পুলিশের ডিজিপি নিরাপত্তা অধিকর্তার আধিকারিকদের সঙ্গে। নিরাপত্তা বাড়ানোর জন্য যা যা পদক্ষেপ করার প্রয়োজন সরাসরি কে নির্দেশ দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বলেই সূত্রের খবর।

