কলকাতা: রাজ্যে পালাবদলের পর থেকেই তৃণমূলের অন্দরে-বাইরে বেসুরো সুর। রীতিমতো দলের শীর্ষ নেতৃত্বকেই চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দিচ্ছেন অনেকে। সোশ্যাল মিডিয়া থেকে পুরসভার করিডর ইতিমধ্যেই তার স্বাক্ষী। ফের একবার সেই সুর বেশ জোরালো দলে। এবার পদত্যাগ করতে চললেন কলকাতা পুরসভার মেয়র পারিষদ তারক সিং।
তিনি বলেন, "মনসুন মিটিং হয়নি। এখানে এসে কিছুই হয় না। চা পর্যন্ত পাওয়া যায় না। কলকাতার জমা জলের স্বার্থে কাজ করতে চাই। কতবার বলব! এমআইসি মিটিং হল না। মেয়র তো আমাদের সঙ্গে আলোচনা করতে পারতেন। করেননি। অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাড়িতে নোটিস নিয়ে কমিশনারের বিরুদ্ধে যেতে বলেছিল অনেকে। ভুল বুঝিয়েছিল। নোটিস দিয়ে কোনও অপরাধ করেনি।"
সোমবার ঋতব্রত এবং সন্দীপনকে বহিষ্কারের পরেই জল্পনা শুরু হয়েছিল। এর আগে তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বৈঠকে বিধায়কদের অনুপস্থিত থাকা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছিল, এবার তৃণমূলে ভাঙনের সম্ভাবনা আরও জোরাল। এর মধ্যেই মঙ্গলবার রানি রাসমণি অ্যাভিনিউয়ে ধর্নার ডাক দেন তৃণমূলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। দুপুরেই ধর্না সমাবেশে পৌঁছালেন তৃণমূল নেত্রী। মমতার সঙ্গে এই সমাবেশে রয়েছেন ফিরহাদ হাকিম, কুণাল ঘোষ, কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়, অসীমা পাত্র, দোলা সেন এবং মদন মিত্র। মমতার পাশে রয়েছেন দলের ৫ বিধায়ক এবং সাংসদ।
সংবিধান হাতে করে এসেছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। আম্বেদকরের মূর্তিতে মালা দিলেন তৃণমূলনেত্রী। মেয়ো রোডে মহাত্মা গান্ধীর স্ট্যাচুতে শ্রদ্ধা জানালেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। যদিও মমতার এই ধর্না কর্মসূচি নিয়ে ইতিমধ্যে বেশকিছু অনিশ্চয়তা তৈরি হওয়ার খবরও পাওয়া গিয়েছিল। তবে সমাবেশ স্থলে উপস্থিত হয়েছেন তৃণমূলনেত্রী, সঙ্গে রয়েছেন ফিরহাদ, কুণালদের মতো শীর্ষ তৃণমূল নেতৃত্ববৃন্দ। তার আগেই মঙ্গলবার কালীঘাটে আসেন চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য এবং কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়।

