লন্ডন:ব্রিটেনের একটি আদালত ৬০ বছর বয়সি এক ব্যক্তির দু'বছরেরও বেশি সময়ের জন্য কারাদণ্ড ঘোষণা করেছে। অভিযোগ, তিনি তাঁর মায়ের মৃতদেহ প্রায় তিন বছর ধরে একটি ফ্রিজারের মধ্যে লুকিয়ে রেখে তাঁর নামে পেনশন ও সরকারি ভাতা তুলতে থাকেন। দ্য মেট্রো-র প্রতিবেদন অনুযায়ী, দক্ষিণ ওয়েলসের Porthcawl-এ বসবাসকারী ক্রিস্টোফার ফিলিপস ২০২৩ সালের মার্চ মাসে তাঁর মা সিলভিয়া ফিলিপসের মৃত্যুর পর তাঁর দেহ লুকিয়ে রাখেন।
ওই সময়ে তিনি তাঁর মায়ের পেনশন ও বিভিন্ন সরকারি ভাতা বাবদ মোট ৭৮,১৯০ পাউন্ড (ভারতীয় মুদ্রায় প্রায় ১ কোটি টাকা) তুলে নিজের কাছে রেখে দেন ।
দ্য মেট্রো-র প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ফিলিপস তাঁর মায়ের মৃতদেহ তাঁদের বাড়ির একটি ফ্রিজারের মধ্যে সংরক্ষণ করে রাখেন এবং তাঁর মৃত্যুর বিষয়টি কর্তৃপক্ষকে জানাননি। আদালতের নথিতে উল্লেখ করা হয়েছে, তিনি তাঁর মায়ের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টও ব্যবহার করতে থাকেন এবং মৃত্যুর পর বন্ধ হয়ে যাওয়ার কথা ছিল, এমন আর্থিক সুবিধাগুলিও গ্রহণ করতে থাকেন।
২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসে। চিকিৎসকেরা সিলভিয়া ফিলিপসের (Sylvia Phillips) খোঁজখবর না পেয়ে উদ্বিগ্ন হয়ে পুলিশের কাছে তাঁর বাড়িতে গিয়ে খোঁজ নেওয়ার অনুরোধ জানান। পুলিশ বাড়িতে গিয়ে শেষ পর্যন্ত ফ্রিজারের ভিতরে তাঁর মৃতদেহ উদ্ধার করে।
দ্য মেট্রো-র প্রতিবেদন অনুযায়ী, প্রথমে ফিলিপস পুলিশকে জানান যে তাঁর মা লন্ডনে আত্মীয়দের বাড়িতে রয়েছেন। কিন্তু জিজ্ঞাসাবাদে তাঁর বক্তব্যে অসঙ্গতি ধরা পড়লে পুলিশের সন্দেহ হয় এবং পরে বাড়ির ভিতরে ফ্রিজারের মধ্যেই সিলভিয়া ফিলিপসের মৃতদেহ পাওয়া যায়। শুনানিতে আদালতকে জানানো হয়, ফিলিপস বহু বছর ধরে তাঁর মায়ের পূর্ণকালীন পরিচর্যাকারী ছিলেন। তাঁর আইনজীবী জানান, মায়ের মৃত্যুর পর তিনি মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছিলেন এবং তদন্তকারীদের বলেছিলেন, তিনি ''তাঁকে ছেড়ে দিতে চাননি''। আরও দাবি করা হয়, মায়ের মৃত্যুর পর তিনি মানসিক স্বাস্থ্যজনিত সমস্যায় ভুগছিলেন।
বিচারক ফিলিপসকে দু'বছর চার মাসের কারাদণ্ড দেন। আদালতে জানানো হয়, মায়ের মৃত্যুর পরও তিনি পেনশন, অ্যাটেনড্যান্স অ্যালাউন্স, হাউজিং বেনিফিট, শীতকালীন জ্বালানি ভাতা এবং অন্যান্য সরকারি সাহায্য মিলিয়ে ৭৮ হাজার পাউন্ডেরও বেশি (ভারতীয় মুদ্রায় প্রায় ৯৯ লক্ষ টাকা) প্রতারণার মাধ্যমে গ্রহণ করেছিলেন।
ফিলিপস বৈধভাবে দেহ সমাধিস্থ করার প্রক্রিয়ায় বাধা দেওয়া এবং সরকারি ভাতা সংক্রান্ত প্রতারণার অভিযোগে নিজের দোষ স্বীকারও করেছেন। পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনাটি অত্যন্ত মর্মান্তিক। মৃতদেহ উদ্ধারের পর অবশেষে ফিলিপসের মায়ের শেষকৃত্য সম্পন্ন হয়েছে।

