কলকাতা:মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে দীর্ঘ সময় বৈঠক করল নব তৃণমূলে। নবান্নে মুখ্যমন্ত্রী ও নব তৃণমূলের বৈঠক হয় প্রায় দেড় ঘণ্টা। এই বৈঠে মূলত ২১ জুলাই শহিদ সমাবেশ কোথায় করা যায় তা নিয়েই কথা বলেন ঋতব্রত-পন্থীরা। ঋতব্রত শিবির জানায় ভিক্টোরিয়া হাউজের সামনে অনুমতি দেয়নি পুলিশ সেই সমাবেশ করার জন্য।
তাই কলকাতার অনত্র করতে চায় বিক্ষুব্ধ তৃণমূল কংগ্রেস কর্মীরা। সেই অনুমতি চাইতেই সরকারের কাছে আবেদন ঋতব্রত শিবিরের।
৩টি জায়গার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে তাঁদের তরফে। কিন্তু কোথায় ২১ জুলাইয়ের সভা হবে তা এখনও নিশ্চিত হয়নি বলেই সূত্রের খবর। বৈঠকে ছিলেন ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়, অরূপ রায়, আখরুজ্জামান, বিপ্লব মিত্র, জাভেদ খান, সন্দীপন সাহা। সপ্তাহখানেক আগেই কলকাতা পুলিশের তরফে কালীঘাটপন্থী তৃণমূল ও ঋতব্রতপন্থী তৃণমূল কাউকেই অনুমতি দেওয়া হয়নি। ধর্মতলায় তৃণমূলের একুশের কি তবে ইতি? মমতা বা নব কোনও তৃণমূলকেই সভার 'অনুমতি নয়'। অর্থাৎ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের তৃণমূল ২১ জুলাই ধর্মতলায় সভা করতে পারবে না। ঋতব্রতর নব তৃণমূলও ২১ জুলাই ধর্মতলায় সভা করতে 'পারবে না'। কাউকেই ধর্মতলায় সভার অনুমতি নয় । জানিয়েছিলেন পুলিশ কমিশনার।
কয়েক বছর বাদ দিলে গত ৩৩ বছর ধরে ধর্মতলাতেই ২১ জুলাইয়ের সভা করে এসেছে তৃণমূল। ২০১১ সালে ব্রিগেড ময়দানে ২১ জুলাইয়ের কর্মসূচি হয়েছিল। ২০১৩ সালে এবং কোভিডের কারণে ২০২০ ও ২০২১ সালেও ধর্মতলায় ২১ জুলাইয়ের সভা করেনি তৃণমূল।
পাশাপাশি, ২১ জুলাই নিয়ে মমতা-অভিষেককে নোটিস দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছিল বিচারপতি অরিজিৎ বন্দ্যোপাধ্যায়ের ডিভিশন বেঞ্চ। হাইকোর্টের নির্দেশ অবমাননার অভিযোগ ছিল। গুরুত্বপূর্ণ রাস্তা বন্ধ করে সভা করা যাবে না। ২০১৮ সালে নির্দেশ দেয় কলকাতা হাইকোর্ট। তৃণমূল-সহ ৩৮ রাজনৈতিক দলকে নির্দেশ দেয় হাইকোর্ট। কিন্তু আদালতের নির্দেশ 'না মেনে'-এই ২০২৫-এ একুশে জুলাইয়ের সভা করে তৃণমূল। আদালত অবমাননার অভিযোগ করেন জনস্বার্থ মামলাকারীর। সেই জনস্বার্থ মামলায় নোটিস-নির্দেশ দেয় হাইকোর্ট।
সোমরাজ বন্দ্যোপাধ্যায়

