কলকাতা: 'মধ্যমগ্রামে চন্দ্রনাথ রথকে নৃশংসভাবে খুন করার ঘটনার তীব্র নিন্দা জানাচ্ছি আমরা।''-এই মর্মে বুধবার রাতে ( পূর্বতন ট্যুইটার) এক্স হ্যান্ডলে পোস্ট করা হয় তৃণমূলের পক্ষ থেকে। ওই একই বার্তায় নিন্দা জানানো হয়েছে নির্বাচন পরবর্তী রাজ্যে তিন তৃণমূলকর্মী খুনের ঘটনাতেও। সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট করা ওই বার্তায় অভিযোগ, আদর্শ আচরণবিধি জারি থাকা সত্ত্বেও গত তিন দিন বিজেপি আশ্রিত দুষ্কৃতীদের হাতে খুন হয়েছেন তৃণমূলকর্মীরা।
সোশ্যাল মিডিয়ায় তৃণমূলের বার্তা, ''চন্দ্রনাথ রথের নৃশংস হত্যার তীব্র নিন্দা করছি। একইসঙ্গে বিজেপি আশ্রিত দুষ্কৃতীদের হাতে নির্বাচন পরবর্তী হিংসায় তিন তৃণমূলকর্মীর মৃত্যুরও প্রতিবাদ জানাচ্ছি আমরা। এ বিষয়ে আমরা কঠোরতম পদক্ষেপ দাবি করছি। আদালতের নজরদারিতে সিবিআই তদন্তের দাবি করছি, যাতে যারা এই ঘটনায় জড়িত, তাদের দ্রুত শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনা যায়। গণতন্ত্রে হিংসা এবং রাজনৈতিক হত্যার কোনও স্থান নেই।''
বুধবার রাতে মধ্যমগ্রামের দোহারিয়াতে বাইকে করে এসে স্করপিও গাড়িতে থাকা চন্দ্রনাথ রথকে করে হত্যা করা হয় বলে অভিযোগ। ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয় তাঁর। জানা গিয়েছে, বুধবার দিনভর শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গেই ছিলেন চন্দ্রনাথ রথ। রাতে বাড়ি ফেরার সময় উত্তর চব্বিশ পরগণার মধ্যমগ্রামের কাছে ওই গাড়িটি একটি বিরিয়ানির দোকানের সামনে থেমেছিল। গাড়ির চালকের পাশের আসনে বসছিলেন চন্দ্রনাথ রথ। খুব কাছ থেকে তাঁকে লক্ষ্য করে পয়েন্ট ব্ল্যাঙ্ক রেঞ্জ থেকে গুলি চালায় অভিযুক্তরা। তাঁর শরীরে অন্তত তিনটি গুলি বিদ্ধ হয় বলে জানা গিয়েছে। গাড়ি চালকও গুলিবিদ্ধ হয়েছেন। এই ঘটনার পরই চম্পট দেয় দুষ্কৃতীরা। আশঙ্কাজনক অবস্থায় চন্দ্রনাথ রথ এবং গাড়ির চালককে স্থানীয় একটি বেসরকারি হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসকরা চন্দ্রনাথকে মৃত বলে ঘোষণা করেন।

দীর্ঘ দিন ধরেই শুভেন্দুর আপ্ত সহায়কের দায়িত্ব সামলেছেন চন্দ্রনাথ রথ। শুভেন্দুর অভিযোগ, বেশ কয়েক দিন ধরে রেইকি করে পরিকল্পনামাফিক ঠান্ডা মাথায় খুন করা হয়েছে তাঁর আপ্ত সহায়ককে। তিনি জানান, মৃতের পরিবারের ও আহতদের চিকিৎসার যাবতীয় দায়িত্ব নেবে দল। এই প্রসঙ্গে বিজেপি নেত্রী কেয়া ঘোষের অভিযোগ, ভবানীপুর কেন্দ্রে নিবিড়ভাবে নির্বাচনী কাজ করার জন্যই প্রাণের মাশুল দিতে হল চন্দ্রনাথ বা চন্দ্রকে। বিধানসভা নির্বাচনে ভবানীপুরে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে শুভেন্দু অধিকারীর জয়কে 'ঐতিহাসিক' আখ্যা দিয়ে কেয়ার দাবি, আক্রোশ, রাগ এবং হতাশা থেকেই চন্দ্রনাথকে হত্যা করেছে তৃণমূল। নতুন সরকার তৈরি হওয়ার পর যে বা যারা এই খুন করেছে বা যারা এই হত্যার সুপারি দিয়েছে, তাদের একজনও রেহাই পাবে না বলে দাবি বিজেপি নেত্রী কেয়ার।

