ইরানের সঙ্গে আমেরিকার সংঘাত আরও ভয়াবহ আকার নিল। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের 'আরও কঠোর ও ভয়াবহ' পাল্টা হামলার হুঁশিয়ারি উপেক্ষা করেই বুধবার ভোরে জর্ডন, কুয়েত ও বাহরাইনে মার্কিন সামরিক ঘাঁটিকে লক্ষ্য করে একের পর এক ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালানোর দাবি করল ইরান।
ইরানের এই হামলার কয়েক ঘণ্টা আগেই দক্ষিণ ইরানে নতুন করে হামলা চালিয়েছিল মার্কিন সেনা। ওয়াশিংটনের দাবি, ইরানের ইসলামিক রেভলিউশনারি গার্ড কর্পস (IRGC)-এর পরিকাঠামোই ছিল হামলার লক্ষ্য। মার্কিন প্রশাসনের অভিযোগ, সম্প্রতি হরমুজ প্রণালীতে বাণিজ্যিক জাহাজ এবং মার্কিন সেনাদের বিরুদ্ধে হামলার চেষ্টা চালিয়েছিল ইরান।
ঘাঁটি লক্ষ্য করে হামলা
ইরানের IRGC-এর দাবি, জর্ডনে মার্কিন মেরিন কর্পসের একটি ঘাঁটি লক্ষ্য করে ভারী ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানো হয়েছে। ইরানের সংবাদমাধ্যম Tasnim ঘাঁটিটির নাম 'ক্যাম্প টিটিন' বলে উল্লেখ করেছে, যা গালফ অব আকাবার কাছে অবস্থিত। তবে ইরানের সংবাদমাধ্যমে মার্কিন সেনা হতাহতের যে দাবি করা হয়েছে, তা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। অন্যদিকে, জর্ডনের সেনাবাহিনী জানিয়েছে, ইরান থেকে ছোড়া ১৩টি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের মধ্যে ১০টি তাদের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ধ্বংস করেছে। বাকি তিনটি জনবসতি থেকে দূরে প্রত্যন্ত এলাকায় পড়েছে। হামলায় কোনও হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি বলেও জানিয়েছে জর্ডন।
পরবর্তী সময়ে ফের হামলার সতর্কতা জারি করে সাইরেন বাজানো হয়। Reuters-এর উদ্ধৃতি দিয়ে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী জর্ডনে মার্কিন ঘাঁটিগুলিতে কোনও হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি। ইরানের হামলার আওতায় এসেছে কুয়েতও। কুয়েতের সেনাবাহিনী জানিয়েছে, তারা 'শত্রুতামূলক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা'র বিরুদ্ধে আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সক্রিয় করেছে।এক মাসেরও বেশি সময় পর কুয়েতে ইরানের হামলার এটি প্রথম প্রকাশ্য খবর বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। ইরানের সংবাদমাধ্যমের দাবি, দেশটির মার্কিন-সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন স্থাপনা লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন ছোড়া হয়েছে। বিস্ফোরণের শব্দ ও সতর্কতামূলক সাইরেনও শোনা যায়। তবে ক্ষয়ক্ষতি বা হতাহতের বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়নি।
তেহরানের দাবি
বাহরাইনও ইরানের হামলার লক্ষ্য হয়েছে বলে দাবি করেছে তেহরান। ইরানের সেনাবাহিনীর দাবি, শেখ ইসা এয়ারবেসের রাডার স্থাপনা এবং আশপাশের এলাকাকে লক্ষ্য করে ড্রোন হামলা চালানো হয়েছে। ওই ঘাঁটিতে মার্কিন সেনা মোতায়েন রয়েছে বলেও দাবি করেছে ইরান। ইরানের সংবাদ সংস্থা Tasnim এই অভিযানকে 'অপারেশন থান্ডার'-এর ২৯তম ধাপ বলে উল্লেখ করেছে। আরও হামলা হলে 'ব্যাপক ও কঠোর জবাব' দেওয়ার হুঁশিয়ারিও দিয়েছে তারা।
'আরও কঠিন হামলা হবে', হুঁশিয়ারি ট্রাম্পের
দক্ষিণ ইরানে নতুন করে মার্কিন হামলার পরই পাল্টা আক্রমণ না চালানোর জন্য তেহরানকে সতর্ক করেছিলেন ট্রাম্প। তাঁর দাবি, আমেরিকার সাম্প্রতিক হামলা ছিল 'ন্যায্য'। পাল্টা হামলা হলে ইরানকে আরও 'কঠিন ও উচ্চমাত্রার' আঘাতের মুখে পড়তে হবে বলেও হুঁশিয়ারি দেন তিনি।কিন্তু ট্রাম্পের সেই হুঁশিয়ারির পরই ইরানের তরফে পাল্টা হামলার দাবি সামনে এল। IRGC-এর মুখপাত্র হোসেইন মোহেবি জানান, নতুন মার্কিন হামলার জন্য আমেরিকাকে 'অনুতপ্ত' হতে হবে এবং আগ্রাসনের 'কঠোর শাস্তি' দেওয়া হবে।
বিয়েবাড়িতে হামলা
এই উত্তেজনার মধ্যেই দক্ষিণ ইরানের সিরিক এলাকায় মার্কিন হামলায় একটি বিয়ের অনুষ্ঠানে শিশুসহ পাঁচজনের মৃত্যু এবং ৫০-এর বেশি মানুষের আহত হওয়ার দাবি করেছে ইরানের রেড ক্রিসেন্ট। ঘটনাটি ঘিরে ইতিমধ্যেই আন্তর্জাতিক উত্তেজনা আরও বেড়েছে।

