Dailyhunt Logo
  • Light mode
    Follow system
    Dark mode
    • Play Story
    • App Story
তুকারাম মুন্ডের সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার! মহারাষ্ট্রে খোলা অবস্থায় খাবারের তেল বিক্রির উপর FDA প্রধানের নিষেধাজ্ঞা কেন স্থগিত করলেন মুখ্যমন্ত্রী দেবেন্দ্র ফড়নবিশ?

তুকারাম মুন্ডের সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার! মহারাষ্ট্রে খোলা অবস্থায় খাবারের তেল বিক্রির উপর FDA প্রধানের নিষেধাজ্ঞা কেন স্থগিত করলেন মুখ্যমন্ত্রী দেবেন্দ্র ফড়নবিশ?

মুম্বই: মহারাষ্ট্রের মুখ্যমন্ত্রী দেবেন্দ্র ফড়নবিশ 'দাবাং' FDA কমিশনার তুকারাম মুন্ডের সম্প্রতি খোলা অবস্থায় ভোজ্য তেল বিক্রির (প্যাকেটজাত নয় এমন তেল) উপর জারি করা সার্বিক নিষেধাজ্ঞা স্থগিত করেছেন। এর ফলে ঐতিহ্যবাহী ব্যবসায়ীদের জন্য এক বছরের ছাড় এবং সময়সীমা বাড়ানোর সুযোগ দেওয়া হয়েছে।

২১ অগাস্ট, ২০২৬-এ মহারাষ্ট্রের খাদ্য ও ওষুধ প্রশাসন (FDA)-এর কমিশনার তুকারাম মুন্ডে রাজ্যজুড়ে কঠোরভাবে কার্যকর করেন একটি নির্দেশ, যার মাধ্যমে প্যাকেটবিহীন বা খোলা অবস্থায় ভোজ্য তেল বিক্রির উপর নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়।

এই নির্দেশে বলা হয়, ভেজাল ও দূষণের মতো খাদ্য সুরক্ষা সংক্রান্ত ঝুঁকি দূর করতে সমস্ত ধরনের তেল ও চর্বিজাতীয় পণ্য শুধুমাত্র সিল করা, টেম্পার-প্রুফ এবং যথাযথভাবে লেবেলযুক্ত খাদ্য-উপযোগী প্যাকেজিংয়ে বিক্রি করতে হবে।

হঠাৎ জারি হওয়া এই সার্বিক নিষেধাজ্ঞার তীব্র বিরোধিতা শুরু করে ব্যবসায়ী সংগঠনগুলি। বেশ কয়েকজন মন্ত্রী এবং স্থানীয় ব্যবসায়ীরা যুক্তি দেন, তাৎক্ষণিকভাবে এই বিধিনিষেধ কার্যকর হলে ঐতিহ্যবাহী ও পারিবারিকভাবে পরিচালিত দোকানগুলি ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে। পাশাপাশি, কম আয়ের ক্রেতারাও সমস্যায় পড়বেন, কারণ তাঁরা কম পরিমাণে এবং সাশ্রয়ী দামে প্যাকেটবিহীন বা খোলা তেল কিনে থাকেন।

সমস্যার মধ্যপন্থী সমাধান খুঁজতে হস্তক্ষেপ করেন মুখ্যমন্ত্রী দেবেন্দ্র ফড়নবিশ। মঙ্গলবার, ১ সেপ্টেম্বর তিনি তাৎক্ষণিক নিষেধাজ্ঞা স্থগিত করেন। সরাসরি নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করার পরিবর্তে তিনি FDA-কে একটি স্ট্যান্ডার্ড অপারেটিং প্রসিডিউর (SOP) তৈরি করার নির্দেশ দেন।

এই সিদ্ধান্তের ফলে অস্থায়ীভাবে বাড়ানো সময়সীমার মধ্যে ঐতিহ্যবাহী খুচরো ব্যবসায়ীরা আইনিভাবে খোলা তেল বিক্রি চালিয়ে যেতে পারবেন। একইসঙ্গে, স্থানীয় ব্যবসাগুলিকে ক্ষতিগ্রস্ত না করে ভেজাল রোধে নতুন নির্দেশিকা তৈরি করবে সরকার।

তুকারাম মুন্ডে কেন খোলা তেল বিক্রি নিষিদ্ধ করেছিলেন?

তুকারাম মুন্ডে মূলত ব্যাপক ভেজাল, পণ্যের উৎস সম্পর্কে তথ্যের অভাব এবং গুরুতর জনস্বাস্থ্য ঝুঁকি দূর করতে খোলা অবস্থায় ভোজ্য তেল বিক্রি নিষিদ্ধ করেছিলেন। তিনি স্পষ্ট করেছিলেন যে, ২০১১ সাল থেকেই FSSAI-এর নিয়ম অনুযায়ী দেশজুড়ে খোলা তেল বিক্রি প্রযুক্তিগতভাবে নিষিদ্ধ। তবে মহারাষ্ট্রজুড়ে FDA-এর অডিট ও পরিদর্শনে ব্যাপক অনিয়মের চিত্র উঠে আসার পর তিনি এই নিষেধাজ্ঞা কঠোরভাবে কার্যকর করেন।

প্যাকেটবিহীন তেলে ইচ্ছাকৃতভাবে ভেজাল মেশানোর ঝুঁকি অত্যন্ত বেশি। যেমন, দামি রান্নার তেলের সঙ্গে সস্তা, শিল্পকারখানায় ব্যবহৃত বা ঘোষণা না করা অন্য ধরনের তেল মিশিয়ে দেওয়া হতে পারে। মুন্ডে বিশেষভাবে আর্গেমোন দূষণের মতো প্রাণঘাতী ঝুঁকির কথা তুলে ধরেছিলেন। এর ফলে এপিডেমিক ড্রপসি হতে পারে, যার পরিণতিতে হৃদ্‌যন্ত্র বিকল, গ্লুকোমা এবং মৃত্যু পর্যন্ত হতে পারে। এছাড়া বিষাক্ত ট্রান্স-ফ্যাটি অ্যাসিডের উপস্থিতিও ক্যানসার, স্ট্রোক এবং কিডনির ক্ষতির কারণ হতে পারে।

খোলা তেলের ক্ষেত্রে উৎপাদন সংক্রান্ত তথ্য, ব্যাচ নম্বর এবং মেয়াদ শেষের তারিখ থাকে না। ফলে খাদ্যে বিষক্রিয়া বা গুরুতর অসুস্থতার ঘটনা ঘটলে তেলের উৎস শনাক্ত করা বা ত্রুটিপূর্ণ ব্যাচ বাজার থেকে প্রত্যাহার করা কর্তৃপক্ষের পক্ষে কার্যত অসম্ভব হয়ে পড়ে।

খোলা তেল প্রায়শই মরচে ধরা, পুরনো এবং স্পট-ওয়েল্ড করা টিনের পাত্রে সংরক্ষণ ও সরবরাহ করা হয়। তুকারাম মুন্ডে সতর্ক করেছিলেন, খাদ্য সংরক্ষণের উপযোগী নয় এমন এই পাত্রগুলি থেকে সিসা তেলের মধ্যে মিশে যেতে পারে। এর ফলে শরীরে ধীরে ধীরে সিসা জমে একটি স্নায়ুবিষ হিসেবে কাজ করতে পারে, যা শিশুদের জন্য বিশেষভাবে বিপজ্জনক।

FDA-এর পক্ষ থেকে জোর দিয়ে বলা হয়, খোলা তেল বিক্রির অনিয়মের সবচেয়ে বড় প্রভাব সরাসরি পড়ে সাধারণ ও নিম্ন আয়ের ক্রেতাদের উপর। কারণ তাঁরা প্রতিদিন স্থানীয় ছোট দোকান বা পারিবারিকভাবে পরিচালিত দোকান থেকে খুব অল্প পরিমাণে, প্যাকেটবিহীন রান্নার তেল কিনে থাকেন।

Dailyhunt
Disclaimer: This content has not been generated, created or edited by Dailyhunt. Publisher: News18 Bengali