মুম্বই: ব্যাটে পারফর্ম করে হোক বা না পারফর্ম- হেডলাইন ছিনিয়ে নেন বৈভব সূর্যবংশী। বেঙ্গালুরুতে নর্থ ইস্ট জোনের বিপক্ষে ইস্ট জোনের দলীপ ট্রফির কোয়ার্টার-ফাইনাল ম্যাচে এই কিশোর বিস্ময় দেখিয়ে দিলেন যে তাঁর খেলায় আরও একটি বাড়তি মাত্রা যোগ করেছেন। মূলত একজন বিধ্বংসী টপ-অর্ডার ব্যাটসম্যান হলেও সূর্যবংশী তার বাঁ-হাতি স্পিন বোলিংও উপভোগ করেন এবং উইকেট শিকারের সামর্থ্য নিয়ে তিনি অত্যন্ত আত্মবিশ্বাসী।
উইকেট শিকারের তাগিদে ইস্ট জোনের অধিনায়ক ঈশান কিষাণ আর কী কারণেই বা ১৬ বছর বয়সী ছেলেটির হাতে বল তুলে দেবেন?
বিসিসিআইয়ের ভিডিওতে সূর্যবংশী বলেছেন - "উইকেট নেহি গির রাহা থা অপনেন্ট টিম কা তোহ মুঝে বোলা গায়া ২-৩ ওভার ডালনে কো, ইশান কিষাণ ভাইয়া কো অ্যায়সা লাগা কি উহ রিস্ক লেগে বোলিং দে রেহে হ্যায়। বাট উনকো পাতা নেহি পাতা থা কি ম্যায় উইকেটটেকার হুঁ (আই থিঙ্ক ইশান ফেল্ট লাইক হি ওয়াজ টেকিং রিক্স বাই গিভিং মি দ্যাট বল, বাট হি ডিড নট নো দ্যাট আই অ্যাম উইকেট টেকার।'' ) । অর্থাৎ উইকেট যখন পড়ছিল তখন তাঁকে বল করার প্রস্তাব দিয়েছিলেন ইশান কিষাণ।
দেখে নিন ভিডিও
"আমি জানতাম যে পাঁচটি উইকেট নিলেও আমি বল করার জন্য মাত্র তিন ওভার পাব। তাই আমি ওই তিন ওভারের সর্বোচ্চ ব্যবহার করতে, নিজের সেরাটা দিয়ে বল করতে এবং ভালোভাবে আমার স্পেলটি শেষ করতে চেয়েছিলাম," তিনি আরও বলেন।
এটা এমন একটা 'ঝুঁকি' ছিল যা সফল হয়েছিল।
ছয় বলে মাত্র আট রান করে আউট হওয়ার পর, নর্থ ইস্ট জোনের দ্বিতীয় ইনিংসে যখন স্কোর ছিল ৭৫/৫, তখন সূর্যবংশী তার বোলিং দিয়ে প্রভাব ফেলেন। নিজের ছাপ রাখতে এই বাঁহাতি স্পিনারের মাত্র চারটি বলই লেগেছিল; তিনি কিষাণ লিংডোহকে ২৫ রানে এবং ইমলিওয়াতি লেমতুরকে চার রানে আউট করেন ।
জোড়া স্ট্রাইকের ফলে নর্থ ইস্ট জোনের স্কোর ৭৯/৭-এ নেমে আসে এবং ইস্ট জোন ম্যাচে তাদের নিয়ন্ত্রণ আরও মজবুত করে।
অবশেষে সূর্যবংশী তিন ওভারে ১১ রান দিয়ে ২ উইকেটের চিত্তাকর্ষক বোলিং ফিগার নিয়ে ইনিংস শেষ করেন।
"আপনি যদি ব্যাটসম্যানদের জিজ্ঞাসা করেন, তারা আপনাকে বলবে যে তারা বোলিং উপভোগ করে, ঠিক যেমন একজন বোলার ব্যাটিং উপভোগ করে। একজন ব্যাটসম্যান যখন বোলিং করে এবং একজন বোলার যখন ব্যাটিং করে - দুজনেই এতে সমানভাবে উত্তেজিত হয়," তিনি বলেন।
কোয়ার্টার-ফাইনালে ইস্ট জোন আধিপত্য বিস্তার করে এবং তাদের প্রথম ইনিংসে ৪৬৭ রান তোলার পর নর্থ ইস্ট জোনকে ১১১ রানে অলআউট করে দেয়। ফলো-অনের পর নর্থ ইস্ট জোন ১৪৬ রানে অলআউট হয়ে গেলে, ইস্ট জোন এক ইনিংস ও ২১০ রানের বিশাল ব্যবধানে জয়লাভ করে।

