টোকিও: একটি ডিম খেলেই নাকি বেড়ে যেতে পারে মানুষের আয়ু সাত বছর! এমনই একটি বিশ্বাস ঘিরে সোশ্যাল মিডিয়ায় তুমুল চর্চায় রয়েছে জাপানের বিশেষ ধরনের 'ব্ল্যাক এগ' বা কালো ডিম। অনেকেই একে 'দীর্ঘায়ুর ডিম' বলেও উল্লেখ করছেন। যদিও এই দাবির পক্ষে এখনও পর্যন্ত কোনও নির্ভরযোগ্য বৈজ্ঞানিক প্রমাণ নেই, তবুও এর অনন্য প্রস্তুত প্রণালী, স্বাদ এবং লোকবিশ্বাসের কারণে সারা বিশ্বের পর্যটকদের কাছে এটি অত্যন্ত জনপ্রিয়।
জাপানের ওওয়াকুদানি (Owakudani) অঞ্চলে এই বিশেষ কালো ডিম পাওয়া যায়। আগ্নেয়গিরির কার্যকলাপ, সালফারসমৃদ্ধ উষ্ণ প্রস্রবণ (হট স্প্রিং) এবং মনোরম প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের জন্য বিখ্যাত এই এলাকা। এখানকার সালফারযুক্ত গরম জলে এবং বাষ্পে সাধারণ ডিম সেদ্ধ করা হয়। সেই প্রক্রিয়াতেই ডিমের খোসা সম্পূর্ণ কালো হয়ে যায়। তাই এগুলিকে বলা হয় 'ব্ল্যাক এগ'।
কেন এত তীব্র গন্ধ?
ডিমের খোসা ছাড়ানোর সঙ্গে সঙ্গেই সালফারের কারণে তীব্র গন্ধ বের হয়, যা অনেকের কাছেই পচা ডিমের মতো মনে হতে পারে। প্রথমবার এই গন্ধে অনেক পর্যটক অস্বস্তি বোধ করলেও, যারা সাহস করে ডিমটি খান, তাঁদের অনেকের মতে এর স্বাদ বেশ আলাদা এবং সুস্বাদু।
সত্যিই কি আয়ু বাড়ে?
স্থানীয় লোকবিশ্বাস অনুযায়ী, ওওয়াকুদানির খনিজসমৃদ্ধ গরম জলে সেদ্ধ হওয়ার ফলে ডিমে কিছু অতিরিক্ত খনিজ উপাদান যুক্ত হয়। প্রচলিত ধারণা, একটি কালো ডিম খেলে মানুষের আয়ু প্রায় সাত বছর পর্যন্ত বাড়তে পারে। তবে বিজ্ঞানীরা স্পষ্ট জানিয়েছেন, এই দাবির কোনও নির্ভরযোগ্য বৈজ্ঞানিক প্রমাণ নেই। যদিও খনিজ উপাদান এবং অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট নিয়ে গবেষণা চললেও, আয়ু সাত বছর বাড়ার দাবি প্রমাণিত নয়।
কীভাবে তৈরি হয় এই কালো ডিম?
এই ডিম তৈরির প্রক্রিয়াও বেশ অভিনব। প্রথমে সাধারণ মুরগির ডিমকে সালফারসমৃদ্ধ উষ্ণ প্রস্রবণের গরম জলে প্রায় এক ঘণ্টা সেদ্ধ করা হয়। এরপর আরও কিছু সময় বিশেষ পদ্ধতিতে রান্না করা হয়। সালফার এবং লোহার রাসায়নিক বিক্রিয়ার ফলে ডিমের খোসা কালো হয়ে যায়। তবে ডিমের ভেতরের অংশ সাধারণ সেদ্ধ ডিমের মতোই থাকে।
কত দাম?
প্রতি বছর হাজার হাজার পর্যটক শুধু এই কালো ডিমের স্বাদ নিতে ওওয়াকুদানিতে ভিড় জমান। স্থানীয় ক্যাফে ও দোকানগুলোতে এই ডিম বিক্রি হয়। একটি ডিমের দাম সাধারণত ৫০০ থেকে ৬০০ জাপানি ইয়েন, অর্থাৎ ভারতীয় মুদ্রায় প্রায় ৩০০ থেকে ৪০০ টাকা।

