কলকাতা:হাইকোর্ট থেকে জামিন পাওয়ার পর থেকেই শুরু হয়েছিল জল্পনা। বুধবার বিজেপির ষষ্ঠ প্রার্থী তালিকা প্রকাশ হতেই স্পষ্ট হয়ে গেল বিষয়টা। দেখা গেল সেখানে সদ্য জেলমুক্ত নেতাকে কলকাতা বন্দর থেকে প্রার্থী করেছে বিজেপি। যে কলকাতা বন্দরে তৃণমূলের হয়ে লড়তে চলেছেন ফিরহাদ হাকিম। নাম ঘোষণা হওয়ার পর থেকেই প্রচারের ময়দানে নেমে পড়েছেন বিজেপি নেতা।
প্রতিদ্বন্দ্বী হিসাবে রাকেশ সিং-কে সামনে আসার পরে কী প্রতিক্রিয়া জানালেন ফিরহাদ?
বৃহস্পতিবার রাকেশ সিং প্রসঙ্গে ফিরহাদ হাকিমকে প্রশ্ন করা হলে রীতিমতো তাচ্ছিল্যের সুরে তিনি বলেন, ''কে রাকেশ সিং! রাকেশ সিং টা কে!! তুই একবার অন্য দল থেকে আমার বিরুদ্ধে দাঁড়িয়েছিল কি? আমি ঠিক জানি না। কারণ আমি তো পোর্টের মানুষকে চিনি। প্রার্থীদের অতটা চিনি না।''
ফিরহাদ বলেন, ''বোধহয় একটা কোন আগের ইলেকশনে দাঁড়িয়েছিল, অন্য পার্টি থেকে। বোধহয় জামানত বাজেয়াপ্ত হয়েছিল! শুনেছিলাম। ইনি সেই রাকেশ সিং কি না, আমি জানি না। আমার সঙ্গে সম্পর্ক নেই। কারণ, আমি মানুষের পাশে যাব, মানুষ তাঁদের আশীর্বাদ দিলে, আমি তাঁদের সেবা করব।''
মৌলালিতে কংগ্রেস দফতরে ভাঙচুর ও রাহুল গান্ধির পোস্টারে কালি লাগানোর ঘটনায় রাকেশ সিংয়ের বিরুদ্ধে অভিযোগ ওঠে। বিহারে রাহুল গান্ধির একটি মিছিল থেকে কিছু আপত্তিকর মন্তব্য করা হয়েছিল বলে জানা যায়, যার প্রতিবাদেই কলকাতার কংগ্রেস দফতরে এই হামলা চালানো হয় বলে অভিযোগ। ঘটনার পর থেকেই রাকেশ সিং নিখোঁজ ছিলেন। তাঁর বিরুদ্ধে অস্ত্র আইনসহ একাধিক ধারায় মামলা দায়ের করে পুলিশ তদন্ত শুরু করে। তদন্তের সূত্র ধরে গত বছরের সেপ্টেম্বর মাসে ট্যাংরা এলাকা থেকে তাঁকে গ্রেফতার করা হয়। তাঁর সঙ্গে যুক্ত আরও কয়েকজন নেতাকেও গ্রেফতার করা হয়। এমনকি বিজেপি নেতার ছেলে শিবম সিংকেও আটক করা হয়েছিল, যদিও পরে তিনি জামিনে মুক্তি পান। তবে সেই সময় রাকেশ সিংয়ের জামিন মঞ্জুর হয়নি।
গত ৬ এপ্রিল কলকাতা হাই কোর্টের বিচারপতি কৌশিক চন্দের বেঞ্চ বিজেপি নেতার জামিন মঞ্জুর করে। গতকাল অর্থাৎ মঙ্গলবার তাঁর জেলমুক্তি ঘটে। এরপরেই কলকাতা বন্দর, যা কিনা ফিরহাদ হাকিমের গড় হিসাবে পরিচিত সেখানেই প্রার্থী হিসাবে রাকেশ সিংয়ের নাম ঘোষণা করে বিজেপি। প্রসঙ্গত, গত বিধানসভা নির্বাচনেও কলকাতা বন্দর এলাকা থেকে রাকেশ সিংয়ের প্রার্থী হওয়ার জল্পনা ছিল। কিন্তু সে বার পুলিশের হাতে গ্রেফতার হওয়ায় প্রার্থী হওয়া হয়নি তাঁর।

