কলকাতা: ২০২৬ সালের পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচন বদলে দিতে পারে অনেক হিসাব। রাজ্যের একাধিক জেলা এবং বিধানসভা কেন্দ্র মানুষ চেনে তৃণমূল বা বিজেপির গড় হিসাবে। কিন্তু ২০২৬ সালের রেকর্ড ভোট হওয়ার পরে বহু হিসাব বদলে যেতে পারে। অনেক জায়গাতেই ভোট সুইং বিধাবসভা নির্বাচনের ফল নির্ধারণে বড় ভূমিকা নিতে পারে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
ম্যাজিক ফিগার ১৪৮, কিন্তু সেই অঙ্ক ছুঁতে রাজনীতির সমীকরণ কতটা বদলায় তা-ই এখন চর্চার বিষয়।
ডায়মন্ড হারবারে প্রশাসনিক নজরদারি-ভবিষ্যতের ইঙ্গিত?
ডায়মন্ড হারবার অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের গড় এবং গোটা দক্ষিণ ২৪ পরগনা এলাকা তৃণমূল কংগ্রেসের শক্ত ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত। তবে ২০২৬ সালের ভোটে এই এলাকায় নজিরবিহীন নিরাপত্তা দেখা গিয়েছে।
ভোট চলাকালীন তাজা বোমা মজুত থাকার অভিযোগ সামনে এসেছে এবং নিরপেক্ষতা বজায় রাখতে ব্যর্থ হওয়ায় কয়েক জন স্থানীয় কর্মকর্তাকে বরখাস্ত করা হয়। ফলে গোটা এলাকায় চাপের পরিস্থিতি তৈরি হয়।
লোকসভাতেই ডায়মন্ড হারবারে বড় ব্যবধানে জিতেছিল তৃণমূল কংগ্রেস। কিন্তু প্রথম থেকে বিজেপির নজরে ছিল 'ডায়মন্ড হারবার মডেল' তার কতটা প্রভাব পড়ে সেটাই দেখার।
উত্তরবঙ্গ ও জঙ্গলমহলে 'গেরুয়া প্রাচীর' কি টিকে থাকবে?
দক্ষিণবঙ্গ তৃণমূলের শক্তঘাটি হলে উত্তরবঙ্গ দীর্ঘদিন ধরেই রাজ্যের বিরোধীদের প্রধান ঘাঁটি। চা বাগান এবং আলিপুরদুয়ার এলাকার উন্নয়ন এবং শ্রমিকদের রোজগার বৃদ্ধি-সহ একধিক প্রতিশ্রুতি বিজেপি দিয়েছে তাদের নির্বাচনী ইস্তেহারে।
দক্ষিণবঙ্গের মতো ৯৩ শতাংশের বেশি ভোট না হলেও উত্তরবঙ্গেও রেকর্ড পরিমাণ ভোট পড়েছে এই নির্বাচনে। অন্য দিকে, পশ্চিমাঞ্চলের জঙ্গলমহল অঞ্চল এবার গুরুত্বপূর্ণ 'সুইং জোন' হিসেবে উঠে এসেছে। আদিবাসী অধ্যুষিত এই এলাকায় অর্থনৈতিক উন্নয়নই ছিল প্রধান প্রচারের বিষয়। বিভিন্ন এক্সিট পোল ইঙ্গিত দিচ্ছে যে এখানে ওবিসি এবং আদিবাসী ভোট গুরুত্বপূর্ণ যা অতীতের হিসেব বদলে দিতে পারে। পুরুলিয়া এবং বাঁকুড়ার মতো জেলায় 'নীরব ভোটার'-দের প্রভাব জরুরী।
২১টি 'মার্জিনাল আসন'-ফল নির্ধারণের চাবিকাঠি?
শেষ পর্যন্ত ক্ষমতার লড়াই নির্ভর করছে ২১টি গুরুত্বপূর্ণ আসনের উপর, যা কলকাতা শহরতলী এবং হুগলি-হাওড়া শিল্পাঞ্চলে ছড়িয়ে রয়েছে। এই আসনগুলিতে জয়ের ব্যবধান ২ শতাংশেরও কম হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে, ফলে এগুলি অত্যন্ত অনিশ্চিত দুই পক্ষের কাছেই। এই এলাকাগুলিতে সরকারের নগর উন্নয়নের দাবি বনাম বিরোধীদের স্বচ্ছ প্রশাসন ও কর্মসংস্থানের প্রতিশ্রুতি-এই দুইয়ের মধ্যে লড়াই হচ্ছে।
সারা রাজ্যে ৯৩.১৯ শতাংশ ভোট পড়ায় সামান্য ভোটের হেরফেরও চূড়ান্ত ফলাফলে বড় পরিবর্তন আনতে পারে। তৃণমূল তাদের উপকণ্ঠের ঘাঁটি ধরে রাখতে পারে কিনা, নাকি বিরোধীরা ১৪৮-এর লক্ষ্য ছুঁয়ে ফেলবে-তা নির্ভর করছে এই হাড্ডাহাড্ডি লড়াইগুলির উপরই।

