ব্যুরো নিউজ, ২৯ মে ২০২৬ : কর্ণাটকের হাসান জেলার শেত্তিহাল্লি গ্রামে অবস্থিত এক ঐতিহাসিক গির্জা যা বর্ষার সময় সম্পূর্ণ জলের তলায় চলে যায়। হেমাবতী নদীর তীরে ১৮৬০ সালে ফরাসি গথিক স্থাপত্যশৈলীতে নির্মিত হয়েছিল এই শেত্তিহাল্লি রোজারি চার্চ। স্থানীয়দের কাছে এটি 'ভাসমান গির্জা' বা 'ভূতুড়ে গির্জা' নামেও পরিচিত।
একসময় এই গির্জাটি ছিল এলাকার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ উপাসনালয়। কিন্তু হেমাবতী নদীর ওপর বাঁধ নির্মাণের পর পরিস্থিতি বদলে যায়। বাঁধের জলে সংলগ্ন বহু গ্রাম প্লাবিত হয় এবং গির্জাটিও জলের তলায় চলে যেতে শুরু করে।
বর্তমানে এর বেশিরভাগ অংশই ভগ্নপ্রায়, তবে চুনাপাথর ও পাথরের মূল কাঠামো এখনও অক্ষত। প্রতি বছর বর্ষাকালে হেমাবতী বাঁধের জলস্তর বৃদ্ধি পেলে গির্জাটি ধীরে ধীরে জলের গভীরে তলিয়ে যায়। তখন শুধুমাত্র এর চূড়ার সামান্য অংশ জলের উপরে ভেসে থাকে, যা এক অসাধারণ ও রহস্যময় দৃশ্যের সৃষ্টি করে। এই দৃশ্য দেখতে দেশ-বিদেশ থেকে বহু পর্যটক ভিড় জমান। বর্ষার মাসগুলিতে গির্জার কাছে পৌঁছানো প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়ে।
অনেকে এর নির্জনতা ও জলের তলায় ডুবে থাকার কারণে একে ‘ভূতুড়ে গির্জা’ বললেও, এর ঐতিহাসিক গুরুত্ব এবং প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের মিশেল একে এক অনন্য পর্যটন কেন্দ্রে পরিণত করেছে। কর্ণাটকের এই গির্জাটি ভারতের একমাত্র এমন স্থাপত্য যা ঋতুভেদে তার রূপ পরিবর্তন করে, বর্ষায় হয়ে ওঠে এক ভাসমান বিস্ময়।

