ব্যুরো নিউজ, ৩০ মে ২০২৬ : তীব্র দাবদাহের পর দেশজুড়ে আবহাওয়ার ভোলবদল দেখা দিয়েছে। গরম থেকে স্বস্তি মিললেও প্রকৃতির তাণ্ডবে প্রাণ হারিয়েছেন অনেকে। শুক্রবার পশ্চিমবঙ্গ-সহ দেশের বেশ কয়েকটি রাজ্যে ভারী বৃষ্টি, কালবৈশাখী ও শিলাবৃষ্টি ব্যাপক ধ্বংসলীলা চালিয়েছে। ঝড়বৃষ্টির জেরে একাধিক দুর্ঘটনায় শুধুমাত্র উত্তরপ্রদেশেই কমপক্ষে ২০ জন এবং প্রতিবেশী রাজ্য বিহারে ১৪ জনের মৃত্যু হয়েছে।
সব মিলিয়ে এই দুই রাজ্যেই মৃতের সংখ্যা ৩৪। এছাড়া উত্তরাখণ্ড, ঝাড়খণ্ড এবং জম্মু-কাশ্মীরেও কয়েকজনের মৃত্যুর খবর মিলেছে।
পশ্চিমবঙ্গেও ঝড়বৃষ্টির দাপটে আটজনের মৃত্যু হয়েছে এবং জখম হয়েছেন আরও অনেকে। ঝড়ের দাপটে বিভিন্ন রাজ্যে বিদ্যুতের খুঁটি ও গাছ উপড়ে পড়ে বিদ্যুৎ পরিষেবা বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। ট্রেন লাইনের উপর গাছ ও খুঁটি ভেঙে পড়ায় অনেক জায়গায় থমকে যায় ট্রেন চলাচল। উত্তর-পূর্ব রেলের বারাণসী ডিভিশনের চৌরিচৌরা এবং গৌরী বাজার স্টেশনের মাঝে রেল লাইনের উপর একাধিক বড় গাছ ভেঙে পড়ে। এর জেরে গোরক্ষপুর ক্যান্টনমেন্ট এবং দেওরিয়ার মধ্যে বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। ওরাই এবং ভুয়া স্টেশনের মাঝে ওভারহেডের বৈদ্যুতিক তার ছিঁড়ে ঝাঁসি-লক্ষ্ণৌ সেকশনেও ট্রেন চলাচল পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায়।
এছাড়া, খারাপ আবহাওয়ার জেরে বিমান পরিষেবাও ব্যাহত হয়েছে, পাটনা বিমানবন্দরে বেশ কয়েকটি বিমানের রুট ঘুরিয়ে দেওয়া হয়। বিহারেও ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। পশ্চিম চম্পারণ জেলায় গণ্ডক নদীর জলস্তর দ্রুত বাড়তে শুরু করেছে, যার ফলে একটি পন্টুন ব্রিজের সংযোগকারী রাস্তা জলের তলায় তলিয়ে গিয়েছে। উত্তরাখণ্ডের রুদ্রপ্রয়াগের তুঙ্গনাথ-চোপতা এলাকায় ঝড়বৃষ্টিতে দুজনের মৃত্যু হলেও, রাজ্যের বনাঞ্চলের বিধ্বংসী আগুন সম্পূর্ণ নিভে গিয়েছে, যা স্বস্তির খবর। এই প্রাকৃতিক দুর্যোগে জনজীবন ব্যাপক ভাবে প্রভাবিত হয়েছে এবং বহু এলাকায় স্বাভাবিক পরিষেবা ব্যাহত হয়েছে।

