ব্যুরো নিউজ, ৩১ মে ২০২৬ঃ বিধানসভা ভোটে ভরাডুবির পর আজ কালীঘাটে তৃণমূল কংগ্রেসের পরিষদীয় দলের এক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক ডাকা হয়েছে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ডাকে কতজন বিধায়ক উপস্থিত থাকেন, সেদিকেই তাকিয়ে রয়েছে রাজ্যের রাজনৈতিক মহল। ৮০ জন নির্বাচিত বিধায়কের মধ্যে ৩০ জনও বৈঠকে যোগ দেবেন কিনা, তা নিয়ে জোর জল্পনা চলছে।
যদি এই সংখ্যা সত্যি হয়, তবে এটিকে দলের মধ্যে এক ‘মহা ভাঙনের সন্ধিক্ষণ’ হিসেবেই দেখা হবে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা।
শনিবারের কিছু ঘটনা এই জল্পনাকে আরও উস্কে দিয়েছে। দলের আহত কর্মীদের দেখতে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় বেলেঘাটা ও সোনারপুরে গেলেও, তাঁর পাশে সেভাবে কোনও নেতা-মন্ত্রীকে দেখা যায়নি। এমনকি, দক্ষিণ ২৪ পরগনার জেলা তৃণমূলের কোনও বড় নেতাও সোনারপুরে অভিষেকের সঙ্গে ছিলেন না। ক্যামাক স্ট্রিটের অফিস থেকে ফোন করা হলেও অনেক বিধায়ক ও সাংসদ নানা অজুহাত দেখিয়ে অভিষেকের সঙ্গ এড়িয়ে গেছেন। কেউ ফোন বন্ধ করে রেখেছেন, তো কারও ফোন ছিল কল ডাইভার্ট করা।
সোনারপুরে অভিষেক হেনস্তা হওয়ার পর ফেসবুকে নিন্দা পোস্ট করার অনুরোধেও অধিকাংশ বিধায়ক সাড়া দেননি, কুণাল ঘোষ ছাড়া। এই ঘটনাগুলো দলের মধ্যে বিদ্রোহের স্পষ্ট ইঙ্গিত দিচ্ছে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের আস্থাভাজন কিছু সংখ্যালঘু নেতা ও বিধায়কদের মধ্যেও ‘ডিগবাজি’র খবর শোনা যাচ্ছে, যা রাজ্য রাজনীতিতে নতুন চমক আনতে পারে। আজকের কালীঘাটের বৈঠক কী রূপ নেয়, নাকি অপ্রত্যাশিতভাবে বাতিল হয়ে যায়, সেটাই এখন দেখার। অভিষেকের শারীরিক অসুস্থতাও বৈঠকের বাতিলের একটি কারণ হতে পারে।

