ব্যুরো নিউজ, ৪ জুন ২০২৬ঃ পশ্চিমবঙ্গে কি এবার সত্যিই বড়সড় শিল্প জোয়ার আসতে চলেছে? এই নিয়ে জল্পনা এখন তুঙ্গে। বুধবার নবান্নে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে দেখা করলেন আদানি গোষ্ঠীর অন্যতম শীর্ষ কর্ণধার করণ আদানি। দীর্ঘ প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক টানাপড়েনের পর, আদানি গোষ্ঠীর এই সফরকে রাজ্যের শিল্প মহলে এক মস্ত বড় ইতিবাচক ইঙ্গিত হিসেবেই দেখছে ওয়াকিবহাল মহল।
মূলত পরিকাঠামো উন্নয়ন, বিদ্যুৎ, লজিস্টিক্স এবং গ্রিনফিল্ড সড়ক নির্মাণের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলি নিয়ে মুখ্যমন্ত্রী ও করণ আদানির মধ্যে দীর্ঘ আলোচনা হয়েছে বলে সূত্রের খবর। যদিও ঠিক কত টাকার বিনিয়োগ হতে চলেছে বা কোন কোন সুনির্দিষ্ট প্রকল্প আসতে চলেছে, তা নিয়ে দুই পক্ষের কেউই এখনও আনুষ্ঠানিক কোনও ঘোষণা করেনি। নবান্নের এই বৈঠক ঘিরে রাজনৈতিক ও শিল্প মহলে ব্যাপক কৌতূহল তৈরি হয়েছে। কারণ, পালাবদলের পর থেকেই নতুন রাজ্য সরকার বারবার দাবি করেছে যে, তারা বাংলায় একটা শিল্পবান্ধব পরিবেশ গড়ে তুলতে চায়। সেই লক্ষ্য পূরণে দেশের অন্যতম শীর্ষ এই বৃহৎ শিল্পগোষ্ঠীর সঙ্গে খোদ মুখ্যমন্ত্রীর বৈঠক অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ।
রাজ্য প্রশাসনের শীর্ষ স্তরের খবর, পশ্চিমবঙ্গে পরিকাঠামোর ভোলবদল, শিল্পের উপযুক্ত পরিষেবা বাড়ানো এবং দীর্ঘমেয়াদি পুঁজি বিনিয়োগের সুযোগগুলি খতিয়ে দেখাই ছিল এই বৈঠকের মূল উদ্দেশ্য। বিশেষ করে গ্রিনফিল্ড সড়ক ও লজিস্টিক্স নেটওয়ার্কের মতো ক্ষেত্রগুলিতে আদানি গোষ্ঠী বড় ভূমিকা নিতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। উল্লেখ্য, অতীতে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন পূর্বতন সরকারের আমলে তাজপুরে সমুদ্র বন্দর তৈরির টেন্ডার পেয়েছিল আদানি গোষ্ঠী। কিন্তু পরবর্তীকালে নানা প্রশাসনিক জটিলতা এবং নীতিগত টানাপড়েনের কারণে সেই প্রজেক্টটি আর আলোর মুখ দেখেনি। তবে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর পরিস্থিতি সম্পূর্ণ বদলে গেছে।
অতীত তিক্ততা ভুলে আদানি গোষ্ঠী আবারও পশ্চিমবঙ্গকে বিনিয়োগের অন্যতম সেরা গন্তব্য হিসেবে বিবেচনা করতে শুরু করেছে, এই বৈঠকেই তার স্পষ্ট ইঙ্গিত মিলেছে। অর্থনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মতে, আদানিদের হাত ধরে বন্দর, বিদ্যুৎ, সড়ক বা লজিস্টিক্সের মতো কোর সেক্টরে বড় বিনিয়োগ এলে রাজ্যে ব্যাপক কর্মসংস্থান তৈরি হবে। আপাতত এই বৈঠকের পর বড় কোনও ঘোষণার অপেক্ষা করছে রাজ্যবাসী।

