শনিবার সকাল থেকেই যেন প্রকৃতির রুদ্রমূর্তি দেখার প্রস্তুতি নিচ্ছে বাংলা। আকাশে ঘন মেঘের ভ্রূকুটি, তার সঙ্গে দমকা হাওয়া আর মেঘের গর্জন, সব মিলিয়ে এক অস্থির আবহাওয়ার পূর্বাভাস দিয়েছে আলিপুর আবহাওয়া দপ্তর। ইতিমধ্যেই ছয় জেলায় জারি হয়েছে কমলা সতর্কতা, আর বাতাসের গতিবেগ ছুঁতে পারে ঘণ্টায় ৭০ থেকে ৮০ কিলোমিটার পর্যন্ত।
আবহাওয়াবিদদের মতে, উত্তর পশ্চিম মধ্যপ্রদেশ থেকে শুরু করে ঝাড়খণ্ড, গাঙ্গেয় পশ্চিমবঙ্গ পেরিয়ে উত্তর পূর্ব ভারতের বিস্তীর্ণ অংশ জুড়ে তৈরি হয়েছে একটি শক্তিশালী ঘূর্ণাবর্ত। তার সঙ্গে বঙ্গোপসাগর থেকে আসা আর্দ্রতার যোগ এই দুইয়ের মিলিত প্রভাবে আগামী ৪৮ ঘণ্টা বাংলার আকাশে দুর্যোগের ঘনঘটা।
দক্ষিণবঙ্গের চিত্র সবচেয়ে উদ্বেগজনক। বাঁকুড়া, পূর্ব বর্ধমান, হুগলি, হাওড়া, নদীয়া ও মুর্শিদাবাদ এই জেলাগুলিতে আজ বজ্র বিদ্যুৎ সহ মাঝারি থেকে ভারী বৃষ্টি ও শিলাবৃষ্টির আশঙ্কা রয়েছে। ঝোড়ো হাওয়ার দাপটও কম নয়, ঘণ্টায় ৬০ থেকে ৭০ কিমি বেগে বইতে পারে হাওয়া। অন্য জেলাগুলিতেও বৃষ্টির সঙ্গে দমকা হাওয়া ৫০ থেকে ৬০ কিমি গতিতে আছড়ে পড়তে পারে।
উত্তরবঙ্গেও পরিস্থিতি কম ভয়াবহ নয়। জলপাইগুড়ি ও আলিপুরদুয়ারে অতি ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। দার্জিলিং, কালিম্পং ও কোচবিহারেও শিলাবৃষ্টি ও ভারী বর্ষণের জন্য সতর্কতা জারি রয়েছে। বিশেষ করে থান্ডার স্কোয়ালের সময় হাওয়ার বেগ ৮০ কিমি পর্যন্ত পৌঁছতে পারে। মালদা ও দুই দিনাজপুরে বজ্রপাতের ঝুঁকিও বাড়ছে।
তবে রবিবার কিছুটা স্বস্তির ইঙ্গিত দিয়েছে হাওয়া অফিস। দক্ষিণবঙ্গের ঝাড়গ্রাম, পূর্ব ও পশ্চিম মেদিনীপুর ও দক্ষিণ ২৪ পরগনায় হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টির সম্ভাবনা থাকলেও সতর্কতার মাত্রা নামবে হলুদ স্তরে। উত্তরবঙ্গেও একই ছবি বৃষ্টি থাকবে, তবে তীব্রতা কিছুটা কমবে।
বাংলার আকাশে প্রকৃতির এই তাণ্ডব থেকে বাঁচতে সতর্ক থাকাই এখন একমাত্র উপায়।
Moumita Datta Oneindiasource: oneindia.com

