Dailyhunt Logo
  • Light mode
    Follow system
    Dark mode
    • Play Story
    • App Story
Teejan Bai: 'পান্ডবাণী' লোকশিল্পের আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন শিল্পী তীজন বাঈ প্রয়াত

Teejan Bai: 'পান্ডবাণী' লোকশিল্পের আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন শিল্পী তীজন বাঈ প্রয়াত

Peoples Reporter 1 week ago

প্রয়াত হলেন খ্যাতনামা লোকশিল্পী পদ্মবিভূষণ তীজন বাঈ। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৭০ বছর। ছত্তিশগড়ের এক অখ্যাত গ্রাম উঠে আসা এই লোকশিল্পী প্রায় হারিয়ে যাওয়া এক লোকসংস্কৃতিকে নতুন জীবন দিয়েছিলেন। তাঁর হাত ধরেই প্রাণ ফিরে পেয়েছিল ছত্তিশগড়ের ঐতিহ্যবাহী লোকগাথা 'পান্ডবাণী'।

তাঁর মৃত্যুতে দেশ হারালো এক কিংবদন্তী লোকশিল্পীকে। তাঁর মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এবং ছত্তিশগড়ের মুখ্যমন্ত্রী বিষ্ণু দেও সাঁই।

১৯৫৬ সালের ৮ আগস্ট ছত্তিশগড়ের দুর্গ জেলার গানিয়ারি গ্রামের এক আদিবাসী পরিবারে জন্ম হয় তীজন বাঈয়ের। পারিবারিক সূত্রেই ছোটোবেলা থেকেই তাঁর মধ্যে পান্ডবাণীর প্রতি তাঁর ভালোবাসা জন্মায়। প্রশিক্ষণ নিতে শুরু করেন প্রখ্যাত শিল্পী উমেদ সিং দেশমুখের কাছ থেকে। এরপর ধাপে ধাপে নিজেকে পান্ডবাণী লোকশিল্পের চরম পর্যায়ে উন্নীত করেন। তাঁর প্রচেষ্টা এবং অভিনবত্বে এই শিল্পে এক নতুন আঙ্গিক খুলে দেয়। তিনি পান্ডবাণীর কাপালিক শৈলীকে এক নতুন রূপ দেন।

জোরালো কণ্ঠস্বর, মঞ্চে বলিষ্ঠ উপস্থিতি এবং ভাবপূর্ণ পরিবেশনাশৈলীর জন্য সুপরিচিত এই শিল্পী 'পাণ্ডবাণী'-কে এক আঞ্চলিক লোকশিল্প থেকে আন্তর্জাতিকভাবে সমাদৃত শিল্পকলায় উন্নীত করেন। ভারত ও বিদেশের বিভিন্ন প্রান্তে তিনি এই প্রদর্শন করেছেন। যার মধ্যে রয়েছে যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স, জাপান, রাশিয়া, অস্ট্রেলিয়া ও জার্মানি। বলা যায়, ছত্তিশগড়ের এই লোকশিল্পকে তিনি পরিবেশনা করে বিশ্বব্যাপী স্বীকৃতি অর্জন করেছেন।

যদিও এই যাত্রা মোটেই সহজ ছিল না। আদিবাসী পরিবারের মহিলা হওয়ার কারণে প্রাথমিকভাবে মঞ্চে গিয়ে নাচ গান করার জন্য তাঁকে সমাজচ্যুত হতে হয়। যদিও তাতেও থামানো যায়নি এই প্রতিভাকে। পরবর্তী সময়ে তাঁকে প্রথম বড়ো মঞ্চ দেন বিশিষ্ট নাট্যব্যক্তিত্ব হাবিব তনবীর। প্রখ্যাত চলচিত্র পরিচালক শ্যাম বেনেগালের ভারত এক খোঁজ ধারাবাহিকেও তিনি অংশ নেন।

ভারতীয় লোকশিল্পে অসামান্য অবদানের জন্য তাঁকে ১৯৮৮ সালে পদ্মশ্রী, ১৯৯৫ সালে সঙ্গীত নাটক আকাদেমি, ২০০৩ সালে পদ্মভূষণ এবং ২০১৯ সালে পদ্মবিভূষণ সম্মানে ভূষিত করা হয়। এছাড়াও আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রেও তিনি একাধিক সম্মান লাভ করেছেন।

রবিবার ভোর ৩.১৫ মিনিটে রায়পুর এইমসে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেছেন প্রবাদপ্রতিম এই শিল্পী। দীর্ঘদিন ধরেই তিনি অসুস্থ ছিলেন এবং চিকিৎসাধীন ছিলেন। গত ২৭ মে থেকে তিনি এইমসে চিকিৎসাধীন ছিলেন।

পান্ডবাণী লোকশিল্প প্রসঙ্গে

প্রথাগত নাটকের বিপরীতে, পাণ্ডবাণী মূলত একজন প্রধান শিল্পীর ওপর নির্ভরশীল; তিনি গান ও অভিনয়ের মাধ্যমে বিভিন্ন চরিত্রের রূপ ফুটিয়ে তুলে কাহিনি বর্ণনা করেন। পরিবেশনার সময় হারমোনিয়াম, তবলা, মঞ্জিরা ও ঢোলকের মতো ঐতিহ্যবাহী বাদ্যযন্ত্রের সঙ্গত থাকে। কথক প্রায়শই সঙ্গে একটি তম্বুরা বা একতারা রাখেন; এটি কেবল বাদ্যযন্ত্র হিসেবেই নয়, বরং অভিনয়ের প্রয়োজনে কখনো অস্ত্র, রথ, গদা বা ধনুকের রূপ নিয়েও ব্যবহৃত হয়।

পাণ্ডবাণীর দুটি প্রধান শৈলী রয়েছে: বেদমতি ও কাপালিক। বেদমতি শৈলীটি তুলনামূলকভাবে সংযত; এতে কথক বসে থাকেন এবং কাহিনির কাব্যিক আবৃত্তির ওপরই বেশি গুরুত্ব দেন। অন্যদিকে, কাপালিক শৈলীটি অনেক বেশি নাটকীয় ও প্রাণবন্ত। এতে শিল্পীরা মঞ্চজুড়ে বিচরণ করেন, কণ্ঠস্বরের পরিবর্তন ঘটান, যুদ্ধের দৃশ্য ফুটিয়ে তোলেন এবং নাটকীয় অঙ্গভঙ্গির মাধ্যমে মহাভারতের চরিত্রগুলোকে জীবন্ত করে তোলেন। এই প্রাণবন্ত কাপালিক ঐতিহ্যই শেষ পর্যন্ত তীজন বাঈয়ের পরিচয়ের সমার্থক হয়ে উঠেছে।

"মুৎসুদ্দির ফাটকা পুঁজির জোরে, বিপন্ন আজ তোমার বাংলা ভাষা..." Safdar Hashmi: সফদর হাশমি - এক বহুমুখী প্রতিভার নির্মম হত্যার ৩৬ বছর
Dailyhunt
Disclaimer: This content has not been generated, created or edited by Dailyhunt. Publisher: Peoples Reporter