শনিবার বিকেল থেকে নিখোঁজ ছিল বারুইপুরের ১১ বছরের এক নাবালিকা। রবিবার ভোরে বাড়ির পাশের একটি পুকুর থেকে তার দেহ উদ্ধার করা হয়। তাকে ধর্ষণ করে খুন করা হয়েছে বলে অভিযোগ পরিবার ও স্থানীয় বাসিন্দাদের। এই নিয়ে সকালে থেকে বারুইপুরে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। এক অভিযুক্তকে পিটিয়ে খুনের অভিযোগ ওঠে বিক্ষুব্ধদের বিরুদ্ধে। কুলপি রোডে নাবালিকার মৃতদেহ রেখে বিক্ষোভ দেখান স্থানীয়রা। রাস্তায় আগুন জ্বালিয়ে পথ অবরোধ হয়। প্রায় ঘন্টাখানেক শিয়ালদহ দক্ষিণ শাখার নামখানা লাইনে ট্রেন অবরোধ চলে। অবরোধ তুলতে গেলে পুলিশের ওপরে হামলা চালান বিক্ষোভকারীরা। পুলিশের গাড়িতেও ভাঙচুর করা হয়।
ঘটনার কথা জানতে পেরে নির্যাতিতার বাবার সঙ্গে ফোনে কথা বলেন মুখ্যমন্ত্রী। অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেন শুভেন্দু অধিকারী। মঙ্গলবার পরিবারকে ভবানীভবনে ডেকে পাঠান তিনি।
এদিকে বারুইপুরের নৃশংস ঘটনার তদন্ত চলছে জোরকদমে। রবিবার একজনকে গ্রেফতারের পর সোমবার আরও একজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে
নাবালিকার মৃত্যুর সঙ্গে আর কারা জড়িত, তাঁদেরও খোঁজ চলছে।
নাবালিকার মৃত্যুতে বারুইপুর পুলিশ জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপারের নেতৃত্বে ৬ সদস্যের সিট গঠন করা হয়েছে। নাবালিকাকে শ্বাসরোধ করে খুন করা হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে জানতে পেরেছে পুলিশ। ময়নাতদন্তের জন্য পুলিশি নিরাপত্তায় কলকাতার কাটাপুকুর মর্গে নিয়ে আসা হয় নাবালিকার দেহ।
অন্যদিকে, স্থানীয়দের মারে গুরুতর জখম অবস্থায় এক যুবককে বারুইপুর মহকুমা হাসপাতালে নিয়ে গেলে, মৃত ঘোষণা করেন চিকিৎসকরা। নাবালিকাকে খুনের অভিযোগের মামলার পাশাপাশি, গণপিটুনিতে একজনের মৃত্যু ও সরকারি সম্পত্তি নষ্টের অভিযোগেও দুটি পৃথক মামলা রুজু করেছে পুলিশ।

