মহিলাটির অভিযোগ, বর তাঁর সঙ্গে বিবাহবিচ্ছেদ না করেই গোপনে দ্বিতীয় বিয়ের চেষ্টা করেছিলেন। তাঁর দাবী, 'এটা আমার বর।' এদিকে বরের এই কীর্তির কথা শুনেই বিয়ের অনুষ্ঠানে হইচই শুরু হয়। কনের পরিবার বরকে জিজ্ঞাসাবাদ করলেও তিনি কোনও সন্তোষজনক উত্তর দিতে পারেননি। এরপর পরিস্থিতি আরও খারাপ হয় এবং দুই পক্ষের মধ্যে তীব্র বাদানুবাদ শুরু হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যেতে দেখে উপস্থিত লোকজনরাই পুলিশকে খবর দেয়। বিয়ে করতে বেঁকে বসেন কনে ও তাঁর পরিবার। কনের বাবার করা অভিযোগের ভিত্তিতে লাহারপুর পুলিশ বর-সহ ছয়জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছে এবং তদন্ত চালাচ্ছে।
লাহারপুরের মতুয়া সৌরাইয়া গ্রামের বাসিন্দা ইন্দ্রবলীর ভাষ্যমতে, তিনি লক্ষ্মৌয়ের সুশান্ত গলফ সিটির বাসিন্দা রাজেশ কুমারের সঙ্গে তাঁর মেয়ের বিয়ে ঠিক করেছিলেন। রাজেশ রবিবার রাতে বরযাত্রী নিয়ে বিয়ে করতে লাহারপুরে এসেছিলেন। দ্বারপূজার পর বিয়ের আচার-অনুষ্ঠান চলছিল, এমন সময় এক মহিলা সেখানে আসেন। তিনি রাজেশকে নিজের স্বামী বলে দাবী করে হইচই শুরু করেন।
রাজেশ প্রথমে বিবাহিত হওয়ার কথা অস্বীকার করেন। এরপর সকলে চেপে ধরলে, রাজেশ স্বীকার করেন যে তিনি আগে থেকেই বিবাহিত এবং ওই মহিলাকে তাঁর প্রথম স্ত্রী বলে মেনে নেন। বর যে আগে থেকেই বিবাহিত, এই কথা কনের পক্ষ জানার পর আরও হাঙ্গামা শুরু হয়ে যায়। এমনকি মুহূর্তের মধ্যেই বর ও কনের পক্ষের মধ্যে মারামারি শুরু হয়ে যায়।
কনের বাবা ইন্দ্রবলী অভিযোগ করেছেন, রাজেশ আগে থেকেই বিবাহিত জানতে পেরে তিনি তাঁর মেয়েকে বিয়ে করতে নিষেধ করেন। এতে রাজেশ ও তাঁর পরিবারের সদস্যরা তাকে ও তার পরিবারের সদস্যদের প্রাণে মারার হুমকি দেয়। শুধু তাই নয়, বিয়ের জন্য চাপও দিতে শুরু করে। পরিস্থিতি অশান্ত হতে থাকলে আত্মীয়স্বজন ও গ্রামবাসীরা তাদের শান্ত করেন। এরপর কনেকে ছাড়াই বর-সহ বরযাত্রীরা ফিরে যান।
লাহারপুর ইন্সপেক্টর অরবিন্দ সিংয়ের মতে, অভিযোগের ভিত্তিতে বর রাজেশ কুমার এবং তাঁর আত্মীয় রামসহায়, রিঙ্কি, পিঙ্কি, বাসুদেব এবং রেখার বিরুদ্ধে একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে এবং তদন্ত চলছে।

