শরীরের অন্যান্য অংশের তুলনায় গোপনাঙ্গের ত্বক বেশি সংবেদনশীল। তাই, খুব দ্রুত শেভ করা, পুরনো রেজার ব্যবহার করা বা ত্বকে খুব বেশি চাপ প্রয়োগ করা সমস্যা সৃষ্টি করতে পারে। ডঃ বৈদেহী মারাঠের মতে, সঠিক প্রস্তুতি এবং কয়েকটি সাধারণ সতর্কতা অবলম্বন করলে শেভ করার পরে অনেক সাধারণ সমস্যা প্রতিরোধ করা সম্ভব।
১. পরিষ্কার এবং ধারালো রেজার ব্যবহার করুন
প্রথমত, নিশ্চিত করুন যে রেজারটি পরিষ্কার এবং ভালো অবস্থায় আছে। খুব পুরনো রেজার সঠিকভাবে চুল কাটার চেয়ে ত্বকে বেশি ঘর্ষণ সৃষ্টি করতে পারে। কখনও অন্য কারও সাথে রেজার শেয়ার করবেন না। এটি একটি পরিষ্কার জায়গায় রাখুন এবং প্রয়োজন অনুযায়ী ঘন ঘন পরিবর্তন করুন।
২. শেভ করার আগে আপনার ত্বক প্রস্তুত করুন
শুষ্ক ত্বকে রেজার ব্যবহার করলে জ্বালাপোড়া এবং ছোটখাটো কেটে যাওয়ার ঝুঁকি বেড়ে যেতে পারে। তাই, শেভ করার আগে জায়গাটি কিছুক্ষণ হালকা গরম জলে ভিজিয়ে রাখুন। চুল খুব লম্বা হলে, প্রথমে পরিষ্কার কাঁচি দিয়ে তা সামান্য ছেঁটে নিন। এতে রেজার চালানো সহজ হবে এবং এতে চুল আটকে যাওয়ার সম্ভাবনা কম থাকবে।
৩. শেভিং জেল ব্যবহার করুন
শেভ করার আগে ত্বকের জন্য নিরাপদ ও কোমল একটি হালকা শেভিং জেল লাগিয়ে নিন। এটি রেজারকে মসৃণভাবে চলতে সাহায্য করবে এবং ঘর্ষণ কমাবে। তীব্র সুগন্ধযুক্ত বা ত্বকে জ্বালা সৃষ্টি করে এমন পণ্য এড়িয়ে চলাই ভালো।
৪. যেদিকে লোম গজায় সেদিকে শেভ করুন
রেজার ব্যবহার করার সময়, লোম যেদিকে গজায় সেদিকে শেভ করাই সবচেয়ে ভালো। একই জায়গায় বারবার খুব কাছ থেকে লোম তোলার জন্য শেভ করলে ত্বকে জ্বালা হতে পারে এবং লোমকূপের ভেতরে লোম গজাতে পারে। তাই, একই জায়গায় বারবার শেভ করা এড়িয়ে চলুন।
৫. রেজারে খুব বেশি চাপ দেবেন না
যৌনাঙ্গের অঞ্চলের ত্বক সংবেদনশীল। তাই, রেজারে খুব জোরে চাপ দেওয়ার প্রয়োজন নেই। আলতোভাবে এবং ধীরে ধীরে শেভ করুন। যদি কোনও জায়গায় ত্বক টানটান হয়ে যায় বা রেজার মসৃণভাবে না চলে, তাহলে আবার শেভ করার আগে সামান্য জেল লাগিয়ে নিন।
৬. শেভ করার পর ত্বককে আরাম দিন
শেভ করার পর, জায়গাটি পরিষ্কার জল দিয়ে ধুয়ে নিন এবং আলতো করে শুকিয়ে নিন। ত্বক ঘষলে জ্বালাভাব বাড়তে পারে। প্রয়োজনে হালকা ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার করুন।
বিশেষ দ্রষ্টব্য: শেভ করার পর সাময়িকভাবে হালকা লালচে ভাব দেখা দিতে পারে, কিন্তু অস্বস্তি যদি দীর্ঘস্থায়ী হয়, তবে তা উপেক্ষা করবেন না। বিশেষ করে যদি ক্রমাগত চুলকানি, জ্বালাপোড়া, ফোলাভাব, ব্যথা, রেজার বাম্প, ইনগ্রোন হেয়ার বা সংক্রমণের মতো লক্ষণ দেখা দেয়, তবে ডাক্তারের পরামর্শ নেওয়াই ভালো। ত্বকে কেটে গেলে, জায়গাটি পরিষ্কার রাখুন এবং সেরে না ওঠা পর্যন্ত পুনরায় শেভ করা থেকে বিরত থাকুন।

