বর্ষাকালীন অধিবেশন (২০ জুলাই) যতই ঘনিয়ে আসছে, দিল্লির রাজনৈতিক অঙ্গনে ততই সরবতা বাড়ছে। শোনা যাচ্ছে যে প্রধানমন্ত্রী মোদী শীঘ্রই তাঁর দলে একটি বড় ধরনের রদবদল করবেন। এই সম্ভাব্য মন্ত্রিসভা সম্প্রসারণ নিয়ে যদি কোনো একজন নেতাকে নিয়ে সবচেয়ে বেশি আলোচনা হয়ে থাকে, তবে তিনি হলেন স্মৃতি ইরানি।
স্মৃতি ইরানির প্রত্যাবর্তনের মূল কারণ
রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, সংসদে বিজেপির এমন একজন মুখ প্রয়োজন যিনি আক্রমণাত্মকভাবে বিরোধীদের মোকাবিলা করতে পারবেন। স্মৃতি ইরানির স্পষ্টভাষী বাগ্মীতা এবং তীক্ষ্ণ বক্তৃতায় দলটি ক্রমাগত হতাশ হয়েছে, বিশেষ করে যখন সংসদে নারী সংরক্ষণ বিলের মতো সংবেদনশীল বিষয় নিয়ে বিতর্ক হয়। পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনে স্মৃতি ইরানিকে তারকা প্রচারক হিসেবে পাঠানো হয়েছিল, যেখানে দলটি ভূমিধস বিজয় লাভ করে। তার এই সাফল্যের পর, মনে করা হচ্ছে যে দলের হাইকমান্ড তাকে আবারও একটি বড় দায়িত্ব অর্পণ করতে পারে।
টিভি থেকে সংসদ পর্যন্ত এক উল্লেখযোগ্য যাত্রা
স্মৃতি ইরানির রাজনৈতিক জীবন বরাবরই আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে ছিল। ২০০৩ সালে বিজেপিতে যোগ দেওয়া স্মৃতি ইরানি ২০১১ সালে রাজ্যসভার মাধ্যমে প্রথমবারের মতো সংসদে প্রবেশ করেন। ২০১৪ সালে মানব সম্পদ উন্নয়ন মন্ত্রী এবং পরে বস্ত্র মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব গ্রহণ করে তিনি তাঁর প্রশাসনিক দক্ষতার প্রমাণ দেন। তবে, তাঁর কর্মজীবনের সবচেয়ে বড় মোড় আসে ২০১৯ সালে, যখন তিনি কংগ্রেসের শক্ত ঘাঁটি আমেথিতে রাহুল গান্ধীকে পরাজিত করেন। যদিও তিনি ২০২৪ সালের নির্বাচনে পরাজিত হন, দলে তাঁর সক্রিয় সম্পৃক্ততা কমেনি।
স্মৃতি ইরানির সম্পদ ও জীবনযাত্রা
২০২৪ সালের হলফনামা অনুসারে, স্মৃতি ইরানির মোট সম্পদের পরিমাণ প্রায় ৮.৭৫ কোটি টাকা। তার এবং তার স্বামী জুবিন ইরানির সম্মিলিত সম্পদের পরিমাণ ১৭ কোটি টাকারও বেশি। স্মৃতির মুম্বাই, পুনে এবং গোয়ায় মোট চারটি বাড়ি রয়েছে। তার ২.৮ মিলিয়ন টাকা মূল্যের একটি এমজি হেক্টর গাড়ি এবং ৩.৭ মিলিয়ন টাকারও বেশি মূল্যের গহনা রয়েছে। সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, তার বিরুদ্ধে কোনো ফৌজদারি মামলা নথিভুক্ত নেই, যা তাকে একজন "পরিচ্ছন্ন" ভাবমূর্তির নেতা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে। বর্তমানে, মন্ত্রিসভায় তার ফিরে আসা নিয়ে বিজেপির পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক নিশ্চিতকরণ আসেনি, কিন্তু আমেথিতে তার ক্রমবর্ধমান উপস্থিতি এই জল্পনাকে আরও উস্কে দিচ্ছে।

