Dailyhunt Logo
  • Light mode
    Follow system
    Dark mode
    • Play Story
    • App Story
পিওকেতে ফের বিক্ষোভ, পথে ২৫ হাজারেরও বেশি মানুষ

পিওকেতে ফের বিক্ষোভ, পথে ২৫ হাজারেরও বেশি মানুষ

press CARD NEWS 3 days ago
ন্যাশনাল ডেস্ক, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬: পাকিস্তান-অধিকৃত জম্মু-কাশ্মীরে (পিওকে) আবারও একটি বড় বিক্ষোভ শুরু হয়েছে। নিয়ন্ত্রণ রেখা থেকে প্রায় ৭ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত মান্ধোল গ্রামে হওয়া এই সমাবেশে ২৫,০০০-এরও বেশি মানুষ অংশ নিয়েছেন বলে দাবী করা হয়েছে। সারাদিন-ব্যাপী এই বিক্ষোভের নেতৃত্ব দেন জম্মু-কাশ্মীর জয়েন্ট আওয়ামী অ্যাকশন কমিটির (জেকেজেএএসি) নেতা সর্দার আমান খান।
গত কয়েক মাস ধরে আমান খান এই আন্দোলনের একজন বিশিষ্ট ব্যক্তিত্ব।

এই সমাবেশে পাকিস্তানের নিয়ন্ত্রণের বিরুদ্ধে আওয়াজ তোলা হয়। বিক্ষোভকারীরা নিয়ন্ত্রণ রেখা (এলওসি) বিলোপ এবং এই অঞ্চলকে ভারতের সাথে সংযোগকারী পুরোনো রাস্তাগুলো পুনরায় খোলার দাবীর প্রতি সমর্থন জানান। বিশেষ করে, পুঞ্চ এবং মেন্ধার রুট পুনরায় খোলার আহ্বান জানানো হয়। সমাবেশ চলাকালে সর্দার আমান খান জনতাকে তিনটি প্রশ্ন করেন এবং প্রতিটির জন্য সমর্থন চান। প্রতিবেদন অনুসারে, জনতা তিনটি প্রশ্নেরই উত্তরে 'হ্যাঁ' জানায়।

সর্দার আমান খান প্রথমে জনতাকে জিজ্ঞাসা করেন যে, যুদ্ধবিরতি রেখা তুলে দেওয়া উচিৎ কিনা? এরপর তিনি জিজ্ঞাসা করেন, নিয়ন্ত্রণ রেখা বরাবর বেড়া অপসারণের দাবীতে সেখানে অবস্থান ধর্মঘট করা উচিৎ কিনা? তৃতীয় প্রশ্নটি ছিল পুঞ্চ এবং মেন্ধার সড়ক পুনরায় চালু করা নিয়ে। জনতা তিনটি দাবীর প্রতিই সমর্থন জানায়।

আমান খান বলেন, নিয়ন্ত্রণ রেখার বেড়ার কাছে শীঘ্রই একটি অবস্থান ধর্মঘট অনুষ্ঠিত হবে। এই প্রতিবাদের দাবী হবে বেড়া অপসারণ করা, যাতে স্থানীয় জনগণ ভারতের সঙ্গে তাদের পুরনো সংযোগ পুনঃস্থাপন করতে পারে। মান্ধোলের এই সমাবেশে পুরনো রাস্তাগুলো পুনরায় চালু করার দাবীও জোরালোভাবে উত্থাপন করা হয়।

সমাবেশ চলাকালে আমান খান পাকিস্তান সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগও তোলেন। তিনি দাবী করেন যে, নিয়ন্ত্রণ রেখার কাছে যখন গোলাগুলি শুরু হয়, তখন সেনা জওয়ানরা তাদের ব্যারাকে লুকিয়ে পড়েন। তিনি বলেন, এই সময়ে স্থানীয় লোকজন সৈন্যদের আশ্রয় দিয়েছিল। আমান খান অভিযোগ করেছেন যে, কঠিন সময়ে সেনা জওয়ানদের রক্ষা করা স্থানীয়রাই গত কয়েক মাস ধরে চলমান বিক্ষোভে পাকিস্তান সেনাবাহিনীর নিশানায় পরিণত হয়েছে। তাঁর এই বক্তব্যের উদ্দেশ্য ছিল পাকিস্তানি নিয়ন্ত্রণ ও সেনাবাহিনীর ভূমিকার বিরুদ্ধে চলমান আন্দোলনকে আরও তীব্র করা।

মান্ধোলের এই সমাবেশটিকে পাকিস্তান অধিকৃত কাশ্মীরে (পিওকে) চলমান একটি বৃহত্তর আন্দোলনের অংশ হিসেবে বর্ণনা করা হচ্ছে। এর আগেও রাওয়ালকোট এবং পিওকে-র অন্যান্য এলাকায় বড় সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। এই প্রতিবাদগুলোতে স্থানীয় বিভিন্ন সমস্যার পাশাপাশি পাকিস্তানি নিয়ন্ত্রণের বিরুদ্ধেও আওয়াজ তোলা হয়েছে।

সর্দার আমান খান এবং জয়েন্ট আওয়ামী অ্যাকশন কমিটির অন্যান্য নেতারা ধারাবাহিকভাবে 'আজাদ কাশ্মীর' শব্দটি প্রত্যাখ্যান করে আসছেন এবং বলেছেন যে, এই অঞ্চলটিকে দখলকৃত এলাকা হিসেবে বিবেচনা করা উচিৎ। মান্ধোলের সমাবেশে আবারও পাকিস্তানি নিয়ন্ত্রণের অবসান, নিয়ন্ত্রণ রেখার (এলওসি) বেড়া অপসারণ এবং পুরোনো পুঞ্চ-মেন্ধার সড়ক পুনরায় চালুর দাবী জানানো হয়েছে। আমান খান এখন নিয়ন্ত্রণ রেখার বেড়ার কাছে অবস্থান ধর্মঘটের ঘোষণা দিয়েছেন, যা থেকে বোঝা যায় আন্দোলনের পরবর্তী পর্যায় সেখান থেকেই শুরু হবে।

Dailyhunt
Disclaimer: This content has not been generated, created or edited by Dailyhunt. Publisher: Presscard News